ঢাকা, মঙ্গলবার 5 November 2019, ২১ কার্তিক ১৪২৬, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী পলিটেকনিকেও ছাত্রলীগের টর্চার সেল ॥ গ্রেফতার আরো ৪ জন

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদউদ্দিন আহম্মেদকে টেনে হিঁচড়ে পুকুরে নিক্ষেপ করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকালও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। ইনস্টিটিউটের ভিতরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও বাইরে ভীতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও ছাত্রলীগের কথিত ‘টর্চার সেল’-এর সন্ধান পেয়েছেন ঘটনার তদন্তকারী দলের সদস্যরা। গতকাল রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে রাজশাহী পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী আসাম কলোনী এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে মেহদী হাসান আশিক (২২), একই এলাকার শাহ আলমের ছেলে মেহদী হাসান হিরা (২৩), নগরীর সাধুর মোড় এলাকার নোমানের ছেলে নবীউল উৎস (২০) ও ছোটবনগ্রাম এলাকার খন্দকার আলমগীরের ছেলে নজরুল ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ঘটনার পরের রাতেই আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেন শিক্ষকরা।
ছাত্রলীগের ‘টর্চার সেল’: রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী নির্যাতনে ব্যবহৃত একটি কক্ষের সন্ধান পান কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিষ্ঠানটির ১১১৯ নম্বর কক্ষকে ছাত্রলীগ তাদের কথিত ‘টর্চার সেল’ বানিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নামে চলতো ছাত্রলীগের নির্যাতন। রোববার দুপুরে সেই কক্ষটি ঘুরে দেখার সময় তদন্ত কমিটির প্রধান কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক এসএম ফেরদৌস আলমকে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়টি অবহিত করা হয়। এসময় কক্ষটি থেকে বেশ কিছু রড, লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এখানে শিক্ষার্থীদের ধরে এনে রড ও লাঠি দিয়ে নির্যাতন করা হতো। চলতো কারণ-অকারণে মারধর। তবে ভয় ভেঙে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন। তাদের ভাষ্যে বেরিয়ে এসেছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের কাহিনী। অন্যদিকে শিক্ষকরা জানান, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষকদের চেয়ার তুলে মারতে পর্যন্ত আসে। পরীক্ষায় শূন্য পেলেও পাশ করিয়ে দিতে হবে, একদিনও ক্লাসে আসেনি এমন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে হবে- এমন সব অযৌক্তিক দাবি করতো ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া কেউই ক্লাস করে না। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকও পরে না তারা। এমনকি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কল্যাণ তহবিলের টাকা শতভাগ ছাত্রলীগের ছেলে-মেয়েদেরকেই দিতে হবে- এমন দাবিও করা হয়।
বিক্ষোভ অব্যাহত : ছয়দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভ করে রাজশাহী পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাস চত্বরে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থী। রাজশাহী পলিটেকনিকের ঘটনা তদন্তে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পলিটেকনিকের এই ঘটনায় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ছাত্রলীগের পলিটেকনিক শাখার যুগ্ম-সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। এছাড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার কমিটিও স্থগিত করা হয়েছে।
রাজশাহীতে বড় ভাইয়ের হাতে খুন : রাজশাহীতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম মারা যান।
গত রোববার রাতে মহানগরীর শেখের চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারা দু’জনই ওই এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় বড় ভাই নূর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ জানায়, পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গতরাতে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রডের আঘাতে আশরাফুল অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল ভোরে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ বড় ভাইকে গ্রেফতার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ