ঢাকা, বুধবার 6 November 2019, ২২ কার্তিক ১৪২৬, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইমপিচমেন্ট এড়াতে শাট ডাউনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

৫ নভেম্বর, সিএনএন/ফক্স/ প্রেসটিভি : জরিপ যখন বলছে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের পরাজয় অপেক্ষা করছে তখন একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্যরা ইমপিচমেন্টের তদন্ত চালাচ্ছেন। জরিপে দেখা যাচ্ছে- ডেমোক্র্যাট দল থেকে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করলে তার কাছে ১০ পয়েন্টে পরাজিত হবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জো বাইডেন হচ্ছেন আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাট দল থেকে আরো যারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তারা হচ্ছেন এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি স্যান্ডার্স।

নতুন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে- জো বাইডেন শতকরা ৫৩ শতাংশ ভোট পাবেন সেখানে ট্রাম্প পাবেন ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে, যদি এলিজাবেথ ওয়ারেন ৫২ শতাংশ ভোট পান তাহলে ট্রাম্প পাবেন ৪৪ শতাংশ ভোট। আর বার্নি স্যান্ডার্স ৫১ শতাংশ ভোট পেলে ট্রাম্প পাবেন ৪৪ শতাংশ ভোট।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে ‘শাট ডাউনের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মাস পেরোনোর সময় এগোলে তাঁর সরকার চালানোর মতো অর্থ ঘরে আছে কি না, তাই নিয়ে ফের সংশয় তৈরি হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা যখন ইমপিচমেন্ট তদন্ত নিয়ে এগোনো শুরু করেছেন তখন সরকার না-চলার ইঙ্গিত দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন ট্রাম্প।

সিনেটর সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার-সহ বেশ কয়েক জন ডেমোক্রেট নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ইমপিচমেন্ট বিতর্ক থেকে জনতার নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প ফের ‘শাট ডাউন’-এর পথে হাঁটতে পারেন। ট্রাম্প অবশ্সাংয বাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন না যে ডেমোক্র্যাটরা এমনটা ভাবছেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, শাট ডাউন এড়ানোর চেষ্টা কি করবেন? ট্রাম্প বলেন, ‘‘কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়। কী ধরনের মীমাংসা আলোচনা হবে, তার উপরে সব নির্ভর করবে।’’ শাট ডাউন মানেই সরকারি কাজে নিযুক্ত কর্মীরা বেতন পাবেন না। গত বছর এবং এ বছরের শুরুতে ৩৫ দিনের আংশিক শাট ডাউনের ঘটনা ঘটে দেশটিতে। এ বার নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি সে দিকে যাবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।

ট্রাম্প সমর্থকদের একটা বড় ভরসা শক্তিশালী মার্কিন অর্থনীতি। শেয়ার বাজারের সূচক উর্ধ্বে। তবে মন্দার পূর্বাভাসও রয়েছে। বেকারত্বের হারও গত পাঁচ দশকের মধ্যে সব চেয়ে খারাপ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে- ৩.৬ শতাংশ। এর মধ্যে আবার ইমপিচমেন্ট কাঁটা! বিরোধীরা বলছেন, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস যদি প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করেই দেয়, তা হলে ট্রাম্পের কাছে এই ভোট হবে নিছক নিয়মরক্ষা।

ট্রাম্প তাঁর চার বছরের শাসনকালে বিরোধীদের সবসময় ‘অপদার্থ’ বলে এসেছেন। ডেমোক্র্যাটরা আবার ট্রাম্পের নীতি, আদর্শকে আমেরিকার ভবিষ্যতের পক্ষে ‘অভিশাপ’ বলে দাবি করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন এবং বর্ণবিদ্বেষমূলক নীতির কারণে এ বার চাপে পড়তে পারেন ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা আবার প্রেসিডেন্টের কড়া অভিবাসন নীতিকেই ভোটারদের সমর্থন পেতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন।

কর্মসংস্থান হলেও ২০১৭-য় ধনীদের জন্যে ‘ট্রাম্পের বিরাট কর-ছাঁটাই দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন রিপাবলিকানরা। সাবেক কংগ্রেস সদস্য জ্যাসন চাফেজ বলেছেন, ‘মানুষ নিজের পকেট মোটা দেখলেই খুশি হয়। বাকিদের কী হচ্ছে, দেশটা কেমন চলছে- অনেকেই সে সব নিয়ে মাথা ঘামায় না।’’ অন্তত কম সুদের হার নিয়ে গ্রাহকেরা খুশি। কিন্তু আবাসন শিল্প কিংবা ছাত্রদের ঋণ খাতে মধ্যবিত্তের বাজেটে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মত রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধও প্রভাব ফেলেছে। বিরোধীরা তাদের প্রচারে এ সব বিষয় তুলে ধরবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ