ঢাকা, বুধবার 6 November 2019, ২২ কার্তিক ১৪২৬, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যেতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্র 

৫ নভেম্বর, ইন্টারনেট : ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘকে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে নিজেদের মনোভাবের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার এক বছর মেয়াদী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

শিল্পোন্নত দুুনিয়ার কার্বন মচ্ছবের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ২০১৫ সালে প্যারিসে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ১৮৮টি দেশ। চুক্তিতে আরও কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ‘ভাওতাবাজি’ আখ্যা দিয়ে আসছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচিত হয়ে ২০১৭ সালের ১ জুন এই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন তিনি।

গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ওই সময়ে তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘অন্যায্য অর্থনৈতিক বোঝা’ চাপিয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যদেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় প্যারিস জলবায়ু চুক্তি। জাতিসংঘের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, এই সময় থেকে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে কোনও দেশ চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারবে না। এরপরে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যেতে হলেও এক বছর অপেক্ষা কাল (ওয়েটিং পিরিয়ড) পার করতে হবে। সোমবার ওই সময় সীমা পার হওয়ার প্রথম দিনেই প্রথম দেশ হিসেবে চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে তাদের প্রশাসন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় আমরা একটি বাস্তবসম্মত ও প্রায়োগিক মডেল প্রস্তাব করা অব্যাহত রাখবো। পম্পেও বলেন, এই প্রস্তাবে সমর্থন যোগাবে সত্যিকার বৈশ্বিক ফলাফল। আর প্রতিফলিত হবে যে উদ্ভাবন ও উন্মুক্ত বাজারের মাধ্যমেই আসবে বৃহত্তর সমৃদ্ধি, সীমিত (কার্বন) নিঃসরণ এবং জ্বালানির আরও সুরক্ষিত উৎস। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আমরা বৈশ্বিক সহযোগিদের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবো আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ