ঢাকা, বুধবার 6 November 2019, ২২ কার্তিক ১৪২৬, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জাবি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

* ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
* শিক্ষক সমিতির সম্পাদকসহ ৪ জনের পদত্যাগ
* ছাত্রলীগের প্রতি ভিসির কৃতজ্ঞতা
* আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার/ সাভার সংবাদদাতা : দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আট জন শিক্ষকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জের ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভিসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ‘মুক্ত’ করাকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এজন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ভিসির অপসারণ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে তার বাসভবন ঘেরাও করে রেখেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর।
গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।
হামলা চলাকালে ভিসির বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া ভিসিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ স্লোগান দিয়ে হামলায় উস্কানি দিতে দেখা যায়। ছাত্রলীগ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় একাধিক শিক্ষককেও চ্যাংদোলা করে দূরে নিয়ে ফেলতে দেখা যায় ছাত্রলীগ কর্মীদের।
আন্দোলনরত বাংলা বিভাগের শিক্ষক তারেক রেজা জানান, হামলায় আট জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। তারা হলেন- নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও মির্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া ও রায়হান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ ও সহকারী অধ্যাপক বিবি হাফছা এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু। সেখানে দায়িত্ব পালন করার সময় চার সাংবাদিকও ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের শিকার হয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে- ৪৪ তম আবর্তনের দর্শন বিভাগের মারুফ মোজাম্মেল, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাহাথির মুহাম্মদ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাইমুম ইসলাম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রনি, ৪৮ তম আবর্তনের ইংরেজি বিভাগের আলিফ মাহমুদ, অর্থনীতি বিভাগের উল্লাস, দর্শন বিভাগের রুদ্রনীল, প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সৌমিক বাগচীর নাম জানা গেছে।
এছাড়া ৪৪তম আবর্তনের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্রী ছন্দা ও ৪৭ তম আবর্তনের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাউদা নামের দুই নারী শিক্ষার্থীকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম, বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আজাদ, বার্তাবাজারের প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন হিমু, বাংলা লাইভ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন।
মারধরের সময় ভিসিসমর্থক শিক্ষক সোহেল আহমেদ, নাসির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, আব্দুল মান্নান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান জনি সহ কয়েকজনকে ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ ও ‘মার মার’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়।
হামলা চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ছিল নীরব। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোনো মন্তব্যও তারা করেননি।
আন্দোলনে থাকা শিক্ষক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এরকম ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ উসকানিতে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ছাত্রলীগ যখন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তখন ভিসিপন্থি শিক্ষকরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়েছে।
হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, আমরা শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।
অন্যদিকে আন্দোলকারীদের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, আন্দোলনে কোনো শিবির সংশ্লিষ্টতা নেই। যে কোনো শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য শিবির ব্লেইম দেয়াটা পুরোনো অপকৌশল। বুয়েটের আবরারকে এভাবেই হত্যা করা হয়েছে, এখানেও একইভাবে অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভিসি অপসারণ আন্দোলনের সাথে যুক্ত এমন অনেকেই আজ ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে, যারা ক্যাম্পাসে বামপন্থি রাজনীতির পরিচিত মুখ। তাই এসব কথা তাদের দুর্নীতি ঢাকার অপকৌশল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়া পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, উভয়পক্ষেই ছাত্র-শিক্ষক রয়েছেন। আমরা কারও ওপর হাত তুলতে পারি না। তারা নিজেদের ভুল বুঝে নিজেদের মতো সমাধান করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ.স.ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, আমরা চেষ্টা করেও দুই পক্ষের হামলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। বড় ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর আছি।
শিক্ষক সমিতির সম্পাদকসহ ৪ জনের পদত্যাগ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ চারজন পদত্যাগ করেছেন। সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও পদত্যাগ করেছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন তুহিন, সদস্য অধ্যাপক মাহবুব কবির ও আরেক সদস্য অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস।
গতকাল সন্ধ্যায় তারা পদত্যাগ করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অধ্যাপক সোহেল রানা বলেন, যেহেতু শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরণে ব্যর্থ, তাই এখানে থাকা আমরা প্রয়োজন বলে মনে করছি না। তাই আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের সহায়তায় হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্লিপ্তভাবে ভিসির পক্ষ অবলম্বন করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগ করছি।
অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা: গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে সিন্ডেকেটের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, হল খালির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে হল ছাড়াতে হবে। সিন্ডিকেট সভায় হল খালির সিদ্ধান্ত নেন ভিসি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে সিন্ডিকেট সভায় হল খালির বিরোধিতা করেন প্রো ভিসি অধ্যাপক আমির হোসেন ও সাবেক ভিসি অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবির।
এদিকে, সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নারী ও আহত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অভিমুখে মিছিল বের করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। 
বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। তারা জাবি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভিসির বাসভবনের সামনে থেকে মিছিল বের করে পরিবহন চত্বরে এসে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় ভিসির অপসারণ দাবি ও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা রুটের বাস আটকে রাখেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। ভিসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলনে থাকবেন।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, হল ও ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বাস বাইরে যেতে পারবে না। এই ভিসিকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞ ভিসি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসির বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ‘মুক্ত’ করাকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এজন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শাখা ছাত্রলীগের প্রতিও বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ভিসি এ কথা বলেন। তিনি এসময় বলেন, আন্দোলনকারীরা তিন মাস থেকে বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে। আমাদের চিন্তা করতে হবে কারা, কেন, কীভাবে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়। একটা মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে অসম্মান ও অপদস্থ করা হয়েছে। কিন্তু এটা করা হয়েছে কোনও প্রমাণ ছাড়াই। যদি কোনও প্রমাণ থাকে, যদি প্রমাণ পায়, তাহলে যা বিচার হবে তা মেনে নেব।
তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমকে তারা অনবরত মিথ্যা তথ্য দিয়েছে, মিথ্যা বলেছে। দেশের একটা জাগরণের সুযোগ এসেছে যে আমরা সত্য কথা বলার সুযোগ পাব কিনা। আজ মানুষের জেগে ওঠা আমরা দেখেছি। আমার সহকর্মী কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সব ছাত্রছাত্রী বিশেষ করে ছাত্রলীগের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা দায়িত্ব নিয়ে এ কাজটি করেছে। এখন সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সবাই আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিং শেষে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেন ভিসি। যেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। তার অপসারণ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে তাকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরতরা। গতকাল মঙ্গলবার নিয়ে টানা ১১ দিন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ এবং দশম দিনের মতো সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে কার্যালয়ে যেতে পারছিলেন না ভিসি। 
দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ, শাখা ছাত্রলীগ, প্রশাসনপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কড়া পাহারায় নিজ গাড়িতে করে বাসভবন থেকে বের হন ভিসি। তাদের কড়া পাহারায় পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয়ে ৭-৮ মিনিট অবস্থান করেন তিনি। পরে সেখান থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ