ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 November 2019, ২৩ কার্তিক ১৪২৬, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিরামপুরে ক্ষেত ভরা শীতের সবজি তোড়া পিঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে

বিরামপুর; পিঁয়াজ পরিচর্ষ্যা করছেন কৃষক-কৃষাণী-সংগ্রাম   

বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত। শীতের আগাম সবজি বাজারে চাহিদার কারনে এবং দাম ভাল পাওয়ায় কৃসকরা সবজি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। পিঁয়াজ , ফুলকপি, বাধা কপি বেগুন ক্ষেত এখন বাহারী সবুজের সমারোহ।

অস্থিতিশীল পিঁয়াজের বাজারে বালুপাড়া গ্রামের আজমল বেশী দামের আশায় পিঁয়াজ  ক্ষেতে কৃষাণীসহ পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।  আগাম পিঁয়াজ বাজারে তুলতে পারলে দাম বেশী পাবেন বলে সে জানায়। সে কাটা পিঁয়াজ (তোড়া পেঁয়াজ) ক্ষেতে রোপন করেছেন। তোড়া পিঁয়াজ পাতা সহ ব্যবহার করা যায়। ১৫/২০ দিন পর পিঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবেন বলে সে আশা ব্যক্ত করছেন। ইতো মধ্যে বিরামপুর বাজারে নুতন তোড়া পিয়াঁজ  উঠতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৮০ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আগাম ফুলকপি চাষে লাখপতি হওয়ার স্বপ্নে ক্ষেত পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত একই গ্রামের নাহিদ  ইসলাম। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি এ কাজে উৎসাহিত হয়েছেন। এ বছর সে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। সে আশা করছেন প্রতিবিঘা খরচ বাদে তার লাভ হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।   হরেকৃষ্টপুর (নাপিত পাড়া) গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বিরামপুর কৃষি সস্প্রসারন অধিদপ্তরের সহয়োগীতায় পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পে ২০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছের।  তার বেগুন গাছে কোন প্রকার বালাই নাশক (বিষ) প্রয়োগ করা হয় নাই। ফলে এই বেগুনের চাহিদা বাজারে বেশী। ২০ শতক জমিতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে সে জানায়। আগাম সবজি হিসেবে ইতো মধ্যে ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন এবং আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রির আশা ব্যক্ত করেছেন। সে জানায়, যেহেতু বেগুনে কোন প্রকার বিষ ব্যবহার করা হয় নাই ফলে বেগুন বাজারে চাহিদা ও মুল্য বেশী। 

বিরামপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলায় পিঁয়াজ ১০ হেক্টোর, বেগুন ৫০ হেক্টোর, বাধাকপি ৫০ হেক্টোর,ফুলকপি ৫০ হেক্টোর অন্যান্য সহ মোট ১ হাজার ২শত হেক্টোর জমিতে শাখ-সবজি চাষ হয়েছে।

এলাকার কৃষকরা জানান, ধান, গম চাষ করে তারা বেশী একটা লাভবান হতে পারেনি। ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারে ধস নামে। ন্যাষ্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষকরা। ফলে ধানের চাষ করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। তাই এ এলাকার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ