ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 November 2019, ২৩ কার্তিক ১৪২৬, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিশ্ববিদ্যালয়ে লুটপাটে ব্যস্ত ভিসিদের রক্ষায় নেমেছে ছাত্রলীগ -মান্না

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নাগরিক ছাত্রঐক্য আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা-পয়সা লুটপাটে ব্যস্ত। যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নামকরা, এরা এক একটা টেন্ডারবাজ।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক ছাত্র ঐক্য আয়োজিত ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলা’র প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা। মানববন্ধনে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আপনারা জানেন দীর্ঘদিন যাবৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে তারা জানতে চাই। কারণ উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ নয়, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না। এখানে লুটপাট চলছে। তাদের জিজ্ঞাসা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। সবশেষে গত মঙ্গলবার যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আমরা আপনারা দেখেছেন। অভ্যুত্থান মানে কী সেটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জানেন না। অভ্যুত্থান উনি দেখেন নাই। সেটার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে জনতার অভ্যুত্থানকে নিয়ে অপমান করেছেন। কয়েকজন গুন্ডা গিয়ে অন্তত চারজন শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে। অজ¯্র ছাত্রদের আহত করেছে। তারপরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যদি বলেন, এটা ছাত্রদের অভ্যুত্থান। তাহলে এর চেয়ে লজ্জার কোনো ব্যাপার থাকে না।
তিনি বলেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সব বলে বেড়াচ্ছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান করছেন। তাহলে শুদ্ধি অভিযানের শুরুতে তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর চাকরি চলে যাওয়া উচিত। তাহলে যাচ্ছে না কেন? গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের চাকরি যায় না। সবাই দাবি করছে, কিন্তু তার চাকরি যায় না। অবশেষে ছাত্ররা এমন সর্বাত্মক আন্দোলন করলো যে, তাকে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে হয়েছে। অপেক্ষা করেন, জাহাঙ্গীরনগরের এই ভিসিকে রাতের অন্ধকারে বোরখা পরে পালিয়ে যেতে হবে সেদিন বেশি দূরে নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিজের খায়েশ প্রকাশ করে বলেছেন, উনি নাকি যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কীভাবে যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান? কী মধু আছে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে?
নাগরিক ঐক্যের এই আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের ভিসির পদত্যাগ চাই, এমন অপবাদের মুখে যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে তাদের পদত্যাগ চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দিল যে মন্ত্রণালয়, তার মন্ত্রী- উনার ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ