ঢাকা, বৃহস্পতিবার 7 November 2019, ২৩ কার্তিক ১৪২৬, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

এবার শীতকালেও থাকবে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ

ইবরাহীম খলিল : বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সাধারণত শীতকালে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা যায়নি। সাধারণত অক্টোবর মাসেই ডেঙ্গু মশা স্বাভাবিকভাবেই নির্মূল হয়ে যায়। তবে এবার আর তা হচ্ছে না। এবার শীতকালেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিসের প্রজনন মৌসুম শেষ হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপরও প্রতিদিনই শত শত মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে মৃতুর খবর। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। একেবারে নির্মূল হচ্ছে না।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম সামশুজ্জামান বলেন, এ বছর এডিস মশার ধরণ অনুসারে শীতেও ডেঙ্গু থেকে যাবে। একেবারে শূন্য হবে না এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টারের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, এবার ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না। কেননা এবারের ডেঙ্গুর ধরণ ভিন্ন। সেরোটাইপ ৪ পর্যন্ত আক্রমণ করেছে এবার।
‘অর্থাৎ প্রজনন মৌসুমে যে লার্ভাগুলো এডিস মশা পরিস্ফুটিত করেছে সেগুলো পানির স্পর্শ পেলেই মশা উৎপাদন করবে। এডিসের লার্ভা ২ বছর পর্যন্ত পানি ছাড়া ভালো থাকতে পারে। পানির স্পর্শ পেলেই আবার ডিম থেকে মশার জন্ম হতে পারে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্টদের মশক নিধনসহ লার্ভা ধ্বংসের কাজ অব্যাহত না রাখলে মশার বংশবিস্তার ঠেকানো যাবে না ও ডেঙ্গুও নির্মূল হবে না।’
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় (৫ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৬ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) রাজধানীর ৪১টি হাসপাতালে ৬৫ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ১১৯ জনসহ মোট ১৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। বর্তমানে রাজধানীর ৪১টি হাসপাতালে ৩০৯ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৫৭ জনসহ ৭৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ৯৭ হাজার ১৯৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪৯ হাজার ৯৪০ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৭ হাজার ২৫৩ জন রয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ হাজার ১৭৬ জন। বাড়ি ফেরাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতাল থেকে ৪৯ হাজার ৪৩৮ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতাল থেকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ জন রয়েছেন।
আর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে আরেক দফা বেড়ে ১১২ জনে দাঁড়ালো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ডেথ রিভিউ কমিটি সর্বশেষ ২৫১ জন মৃত মানুষের মধ্যে ১৭৯টি মৃত্যুর কারণ রিভিউ করে। তার মধ্যে ১১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ডেথ রিভিউ কমিটি।
তবে মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানা গেছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সূত্রে। এ সংখ্যা এখনও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। হাসপাতলে ভর্তি হয়ে মৃত ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে এপ্রিলে ২, জুনে ৬, জুলাইয়ে ৩৫, আগস্টে ৬০ এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৪ জনের মৃত্যু হয়। আর এসব মৃত্যুর মধ্যে শিশুমৃত্যুর হারই সবচেয়ে বেশি বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টারের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, এবার ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না। কেননা এবারের ডেঙ্গুর ধরণ ভিন্ন। সেরোটাইপ ৪ পর্যন্ত আক্রমণ করেছে এবার।
এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩, আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬ জন অক্টোবরে ৮ হাজার ১৪৩ এবং নভেম্বরের ৪ দিনে ৭২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে ২০১৯ সালেই সর্বোচ্চ ডেঙ্গুতে আক্রান্তের রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে। যার মধ্যে আগস্ট মাসে ছিল সর্বোচ্চ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ