ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কবিতা

তুমি যদি যাও

মুহাম্মদ রেজাউল করিম

 

(প্রিয় বন্ধু নাজমুল হক সাঈদীকে নিবেদিত)

 

তুমি যদি যাও

কীভাবে ফেরাবো বলো

যদি ডাক আসে

সবাইকে যেতে হয়

তুমিতো আমাদের বন্ধু

চোখ আমাদের সিন্ধু

তুমি চলে গেলে

ঝর ঝরিয়ে বৃষ্টি নামবে

কিভাবে থামাবো চোখের বৃষ্টি

প্রার্থনা করি তোমার যাত্রা থেমে যাক

তুমি চলে গেলে

হাজার মানুষের ভীষণ কষ্ট হবে

প্রার্থনা করি প্রভুর কাছে

তোমার যাত্রার বিরতি হোক

আরো শত বছর এক সাথে থাকি। 

 

জড়জনম

রাজু ইসলাম

 

বিষণœতার সময়গুলো নির্মমতার কুঠার হানে পাঁজরে

কি রাত কি দিন বড় কঠিন স্বাক্ষর রেখে যায়

বিষাক্ত বাতাস ফুসফুস ঘুরে বেড়িয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস হয়ে

হাজারও ক্ষত এঁকে হৃদপি-কে অস্বীকার করতে চায় রক্ত।

এই যে শহরের বুকজুড়ে কতো বিবাদ বিষম্পাদ

কতো শতো সভ্যতার ছড়াছড়ি জড়াজড়ি

বিশ্বাস করো এই জনপদের মানুষ আমি নই;

এই জড়তার চেয়ে ঢের ভালো জড়জীবন।

এই ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে বেড়ানোর চেয়ে

ঢের ভালো সবুজ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষজনম।

 

নবান্ন উৎসবের আমেজ

তাজ ইসলাম

 

বালিকার মিষ্টি হাসির মতো

সূর্য ছড়াতে থাকে সকালের কাঁচা রোদ।

জোসনার শরীরে জড়ানো শুভ্র কুয়াশা রুমাল।

কুয়াশার কাছে হেমন্তের জোসনা হয়নি পরাভূত

স্বদম্ভে ভেসে বেড়ায় বাংলার মাঠঘাট

নিয়ন বাতিতে ঝলসানো শহরের চোখ

কবির দৃষ্টিতে লেগে থাকে গ্রামের গভীরের জোসনাময় রাত।

শেষ রাতে বিড়ালছানার মতো 

বিছানায় ওঠে পড়ে  মৃদু একটা শীত

বেড়ে যায় সহসায় নকশী কাঁথার প্রেম।

আমরা শীত শীত অনুভব করি।

একটা বৃষ্টি কার্তিকের প্রথম প্রহরে  মাঝপথ থেকে

ফিরে গেছে আকাশের সীমানায় মেঘ হয়ে

তারপর নিখোঁজ বালিকা

হঠাৎ ঝুম করে নেমে এসে একদিন

ধুয়ে দেয়  ধূলি জমা পৃথিবীর দেহ ।

অভিবাসীর মতো কাঁটাতার ভেদ করে ঢুকে পড়ে

হেমন্তের প্রশস্ত মাঠে শীতের মিছিল ।

কৃষকের মন নাচে ধানখেতের বর্ণিল ঢেউয়ে

সোনালী স্বপ্নে ভরে যাবে উঠোন এইতো আর ক'টা দিন পর

কৃষকেরা সুখি হলে  অন্নের অভাব আর থাকবে না দেশে।

কার্তিকে হেমন্ত শুরু

শীতপাখি উড়ে আসে অগ্রহায়নের পড়ন্ত বেলায়

পিঠাপুলির ঘ্রাণ

উঠোনে সোনালী ধান অগ্রহায়ণের একেকটা সকালে লেগে থাকে

নবান্ন উৎসবের  আমেজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ