ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সোনা নিন টাকা দিন গরু নিয়ে ঋণ সংস্থার কার্যালয়ে হাজির কৃষক 

৭ নভেম্বর, দ্য ওয়াল : সোনা জামানত রেখে ঋণ প্রদানকারী একটি সংস্থার কার্যালয়ে একটি গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন এক কৃষক। সেখানে হাজির হয়ে তিনি দাবি করেছেন, ‘গরু নিন, ঋণ দিন’। ঠিক এমনটাই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের হুগলির চণ্ডীতলার গরলগাছা এলাকায়। এই কৃষকের এই দাবির পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য। এক সভায় তিনি দাবি করেছিলেন, দেশি গরুর দুধে সোনা রয়েছে। তবে তিনি হয়ত ভাবতে পারেননি গরলগাছার এই কৃষক গরু বন্দক দিয়ে টাকা নিতে সোজা ঋণ সংস্থার কার্যালয়ে হাজির হবেন।

পেশায় কৃষক সুশান্ত মণ্ডল একটি মাঝারি আকারের গরু ও একটি বাছুর নিয়ে হাজির হন একটি ঋণ প্রদানকারী সংস্থার কার্যালয়ে। দাবি করেন, এই গরু আর বাছুর জমা রেখে তাকে ঋণ দিতে হবে। তিনি ব্যবসা বাড়াবেন।

২০টি গরু আছে সুশান্তবাবুর। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘কয়েক দিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে দিলীপ ঘোষের কথা শুনেছি। উনি বলেছেন গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি আছে। তাতে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বেরোবে। তাই আমি গিয়েছিলাম। ঋণ পেলে ব্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ওরা নিতেই চাইলো না।’

ঋণ সংস্থার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ওই কৃষক সোজা চলে যান স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে। দাবি করেন, ব্যবস্থা করে দেওয়ার। পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিংও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দিলীপবাবুর ওই কথার পর তাকেও এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর আগেও নাকি বেশ কয়েকজন তাকে গরু বন্ধক রেখে ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন।

সোমবার দিলীপবাবু বর্ধমান টাউন হলে গাভী কল্যাণ সমিতির সভায় দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন,  ‘গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে। ওই জন্য গরুর দুধের রং সোনালি হয়।’ এখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেন, ‘দেশি গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বের হয়।’

পরামর্শের সুরে বিজেপি আরও বলেছিলেন, ‘জার্সি (বিদেশি) গরুর দুধে ভারতীয় গরুর মতো গুণ নেই। আমাদের দেশের গরু মায়ের মতো। আর বিদেশি গরু আন্টির মতো।’ তিনি আরও বলে চলেন, ‘দেশি গরুর দুধে সব রকমের গুণ আছে। আমি অনেককে জানি, যারা গরুর দুধ আর গঙ্গাজল খেয়ে বছরের পর বছর বেঁচে আছেন।’

‘গরুর দুধে সোনা’ থাকার তত্ত্ব নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইহই পড়ে গিয়েছে। অনেক প্রাণিবিজ্ঞানীও বিষয়টি শুনে অবাক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘গরুর দুধে সোনা: এমন গবেষণা কোথায় হয়েছে তা জানতে পারলে ধন্য হতাম।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

যদিও এর মধ্যে দিলীপ ঘোষও ‘গরুর দুধে সোনার ভাগে’র ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক তথ্য পেশ করেছেন। পোল্যান্ডের একটি গবেষণাপত্র দেখিয়ে দাবি করেছেন, গরুর দুধে সোনা, প্ল্যাটিনামের মতো খনিজ পদার্থ আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ