ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভারতের এনআরসি নিয়ে সংশয় কাটছে না

এইচ এম আব্দুর রহিম : ভারতের এনআরসিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে আপাতত জানার কোনো উপায় নেই। যদিও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে এ নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হয়ে ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। সুতরাং এ নিয়ে কিছুটা সংশয় তো রয়েই গেল। তবে সেপ্টেন্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকালে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে ‘এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

 তিস্তা চুক্তিসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে ইতঃপূর্বে দেয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কর্তৃত্ববাদী সরকারের মুখের কথার ওপর কতটুকু বিশ্বাস করা যায় তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। কট্টর হিন্দুপন্থী মোদি সরকারের কথা ও কাজের ওপর সে দেশের সচেতন মানুষের যেখানে আস্থা নেই। সেখানে আমাদের কতটুকু ভরসা ভেবে দেখতে হবে বৈকি। 

এনআরসি নিয়ে ভারতের পত্রপত্রিকায় প্রতিদিন যে খবর প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যাচ্ছে না। নিজেদের নতুন করে ভারতের নাগরিক হিসাবে প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে না পারলে পরিণতি কি হবে সেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে তা আমরা নিয়মিতভাবে দেখতে পাচ্ছি ভারতের বিভিন্ন মিডিয়ায়। আসামে অনেক বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানকে বিদেশী হিসেবে চি‎ি‎হ্নত করে ছয়টি বন্দি শিবিরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এসব বন্দি শিবিরের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি আরো একজনের নাম মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো । গোয়াল পাড়া বন্দি শিবিরে বাংলাদেশী হিসেবে চিহ্নিত ৭০ বছর বয়সি ফালু দাস মারা গেলে তাকে সৎকার নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ফালুদাসের মৃত দেহ নিয়ে যেতে বললে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ফালুদাসকে বাংলাদেশী হিসাবে চিহ্নিত করে বন্দি রাখা হয়েছিল। এ কারণে তারা তার মৃতদেহকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে বলেন। 

ফালু দাসের ছেলে বলেন, বাবাকে যেহেতু বাংলাদেশী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তাহলে দেহ নিয়ে আমরা কি করব? বাংলাদেশে তার দেহ যাক। তাদের দাবি ফালু দাসকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত সৎকারের জন্য তার মৃতদেহ নেবে না। এ পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন পড়েছে বিপাকে। নলবাড়ী জেলার ডিসি ফালুদাসের বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়েছেন। ফালুদাসের ছেলে তাদের পরিবারের সবার নাম এনআরসির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া মৃতদেহ সৎকার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে শোনিতপুর জেলার দুলাল পাল নামে আরো একজনক ‘বিদেশী’ বলে চি‎ি‎হ্নত করে বন্দি শিবিরে থাকাকালে মারা যায়। তার পরিবার বলেছিল তাকে বাংলাদেশী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, তাই মৃত্যদেহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হোক। মৃত্যুর ১০ দিন পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে দুলাল পালের মৃতদেহ সৎকার করেছে তাদের পরিবার। বর্ণিত ঘটনা দুটো বিশ্লেষণ করলে সহজেই বুঝা যায়, এনআরসি নিয়ে অদ্ভুত পরিস্থিতি আসাম রাজ্য জুড়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। এনআরসি ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে স্থানীয় বিজেপি কিছুটা বিপাকে পড়েছে। এ কারণে ৩১ আগস্ট আসামের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।  চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বাঙালি।  এর মধ্যে ১২ লাখ হিন্দু। বাকী ৭ লাখের মতো মুসলমান বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বড় সংখ্যক হিন্দু নাগরিক বাদ পড়ায় আসামব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু হিন্দু সংগঠন ধর্মঘটের ডাকও দেয়। তারা এনআরসি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ নিয়ে আসাম বিজেপি সরকার প্রবল অশ্বস্তিতে পড়ে যায়। জানা যায়, ‘আসাম বাঙাল খেদাও’ আন্দোলন সক্রিয় সংগঠনগুলোও এখন এনআরসির পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছে।

আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে এটিকে আপাতত চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। তার কারণ, আসামের এনআরসির কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি পরিবার ভিত্তিক যে তালিকা তৈরি করেছে,  তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি নোট সংযোজন করে দিয়েছিল। এ নোটে বলা আছে, এ তালিকায় যে নাম রয়েছে তা পরবর্তীতে বাদ পড়ে যেতে পারে। কোনভাবে এ তালিকা স্থায়ী নয়। নোটে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা আছে সেগুলো হলÑ

১. এনআরসি কর্র্তৃপক্ষ যদি মনে করে যে তথ্য বা নথি দেয়া রয়েছে তাতে গলদ আছে।

২. যদি দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি ঘোষিত বিদেশী বা ১৯৬৬-৭১ সালের সময়ের মধ্যের কোনো অভিবাসী যিনি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে নথিবদ্ধ নন। অথবা কোন ব্যক্তি যদি ডি ভোটার হন বা ডি ভোটারের উত্তারাধিকারী হন।

৩. ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যদি কোন ব্যক্তিকে বিদেশী বলে ঘোষণা করে। 

আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করা হবে এ ঘোষণার পর কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলেও নো-এনআরসি নো ক্যাব স্লোগান জোরদার হচ্ছে। আসামের এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মোদি সরকার এখন ক্যাব বা নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের ভাষায় যে সব হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, জৈন, শিখ, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান থেকে ভারত প্রবেশ করেছে, তাদের নাম নাগরিকত্ব তালিকায় সংযোজন করার জন্য ক্রাব আনা হচ্ছে। অর্থাৎ বিজেপির আসল উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের বিতাড়ন করা। আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত অনুপ্রবেশকারী সব মুসলমানের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করার তাদের মূল উদ্দেশ্য এ পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার তাদের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তনর এনে ‘শরণার্থী’ এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলে দিলেন, সকল হিন্দুকে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। শুধু হিন্দু নয়, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ সকলকেই দেশের নাগরিত্ব দেয়া হবে। সুতারাং বাদ পড়ার মধ্যে থাকবে মুসলমানরা বলে দেয়া হল, মুসলমানবাদের অন্য ধর্মাবলন্বিরা ‘শরণাথী’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অপর দিকে মুসলমানদের তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশকারীকে ভারতের বাইরে বের করে দেয়া হবে। যদিও ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে দেশের কোন নাগরিকের নাগরিকত্ব দেয়া যায় না। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলটি ভারতের নি¤œকক্ষ লোকসভায় পাস করে নিয়েছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা যেভাবে বাতিল করা হয়েছে তাতে প্রতীয়মান হয় যে, একইভাবে সংবিধান এড়িয়ে বা একইভাবে উচ্চকক্ষ বিধান সভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করা বিজেপির বিরুদ্ধে অসম্ভব কিছু নয়। আর এটি যদি করে তাহলে ভারতের এতদিনের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ইমেজ অচিরেই ভূলুণ্ঠিত হবে। নাগরিকত্ব স্বীকৃতির জন্য সাধারণত দুটি প্রচলিত নীতি অনুসরণ করা হয়। ১. নাগরিকদের স্বীকৃতি দেয়া হয় জন্মস্থান হিসেবে। ২. ‘রক্তের সম্পর্ক মোতাবেক। একজন ব্যক্তি বা মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয় নাগরিকত্বের ভিত্তিতে। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের আইন দ্বারা নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়। ভারতের প্রথম নাগরিকত্ব আইন পাস হয় ১০৫৫ সালে। এ নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পরে এ পর্যন্ত চারবার সংশোধিত হয়েছে। ১৯৮৬, ২০০৩, ২০০৫ ও ২০১৫ সালে। ভারতের সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে ভারতে যারা বাস করে এবং জন্মেছেন তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এমন কি যাদের জন্ম ভারতে নয়; কিন্তু বসবাস করেন ভারতে এবং যাদের বাবা মা যে কোন একজন ভারতে জন্মেছেন তারাও নাগরিকত্ব পাবেন। যারা ভারতে পাঁচ বছরের বেশি সময় বসবাস করছেন, তারাও নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সংশোধনের পর পর সর্বশেষ বলা হয়েছে,  যারা ২০০৪ সালে ৩ ডিসেন্বর বা তার পর জন্মেছেন, তাদের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির জন্য হয় তাদের বাবা মা উভয়কে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং অন্যজন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হলে চলবে না। এ আইনগুলোর মাধ্যমে যাদের ক্ষেত্রে সন্দেহ রয়েছে, তাদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে দেয়া হয়েছে বিধায় বিজেপি বিধান সভায় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন অনায়াসে পাস করিয়ে নিতে পারবে বলে ধারণা করা যায়। ভারতের স্বাধীনতার সময় ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা-আসামও ভাগ হয়েছিল। মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং হিন্দু প্রধান পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং হিন্দু প্রধান পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং হিন্দু প্রধান পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। অতএব ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিষয়সম্পত্তি ফেলে রেখে দেশ ত্যাগ করে এবং পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নেন। সে হিসেবে সংখ্যাগুরু মুসলমানেরা পূর্ববঙ্গ ছেড়ে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয়ার প্রশ্ন ওঠে না। তাছাড়া ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। তাছাড়া ভারতের আসাম, ত্রিপুরা কিংবা পশ্চিমবঙ্গ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের তুলনায় কখনও সম্পদশালী রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল না। অতএব বাংলাদেশের মানুষের পশ্চিমবঙ্গ আসামে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন উওঠে না। অপর দিকে বিজেপির হিসাব অনুযায়ী ১৯৭১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট আটচল্লিশ বছরে অনুপ্রবেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক এক কোটি। সে হিসেবে গত ৪৮ বছরে বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন পাচঁশত মানুষের বেশী ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে, যা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ভারতের বিএসএফের মতো একটি চৌকস বাহিনী এ হারে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ব্যর্থতার কোন দায়ভার নেবে না। 

বিএসএফ যদি এ দায়ভার না নেয় তাহলে বিজেপি অনুপ্রবেশকারীর যে হিসাব দিয়েছে তা আর কোন যুক্তিতে টিকল না। এনআরসি ইস্যু নিয়ে বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের প্রায় বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দিতে শোনা যায়। এনআরসি তালিকা বহির্ভূত তালিকা মানেই বাংলাদেশী। তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিবে বলে বিজেপি নেতা অমিত শাহ ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তখন স্বাভাবিক কারণে আমরা চিন্তিত না হয়ে পারি ন। চিন্তিত হওয়ার কারণও আছে। ভারতের বিধান সভায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস করার পর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা এখন বোঝা যাচ্ছে না। যদিও নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়েও খোদ বিজেপির মধ্যে দ্বিমত আছে। 

বিশেষ করে আসামের বিজেপি ও বিজেপি সমর্থিত কিছু দল ও অঙ্গ সংগঠন এ ব্যাপারে প্রতিবাদমুখর। আগে বলেছি নাগরিকত্ব বিল পাস হওয়ার পর মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মে বিশ্বাষীরা ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। তখন স্বাভাবিকভাবে নতুন নাগরিকত্ব প্রাপ্ত এ মানুষদের বিজেপির ভোট ব্যাংকে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বর তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিজেপি বাদ পড়া মুসলমানদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয় তা এখন দেখার বিষয়। প্রশ্ন হচ্ছে এসব মানুষ বাকি জীবন বন্দি শিবিরেই কাটাবেন? নাকি ভারতের বাইরে কোনো দেশে বের করে দেয়া হবে তাদের? বিজেপি নেতা অমিত শাহের বক্তব্য যদি তার দল বা সরকারের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। সে বক্তব্যের পর সরকার যদি অবিচল থাকে তাহলে সে দেশটি নিশ্চয়ই  বাংলাদেশ হবে। বাংলাদেশ কি এই দায় গ্রহণ করবে? 

এসব প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে তখন আমাদের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য সব গোলমাল করে দিল। যখন বাংলাদেশী হিসাবে প্রমাণিত হলে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করা হয়। এখন এ দেশের নাগরিক হিসেবে শঙ্কিত না হয়ে পারি না। অবশ্য মিডিয়ার প্রকাশিত সেই মন্তব্যটি দায়িত্বশীল মহলের কারও ব্যক্তিগত মন্তব্য কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমরা  কথা বলি না কেন। ভারতের এনআরসি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয় তার জন্য হয়ত আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ