ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের খামখেয়ালীপনায় একের পর এক ঝরছে তাজা প্রাণ

 খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের খামখেয়ালীপনায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা, উদাসীনতা ও অসাবধানতার বলি হচ্ছে এরা। সরেজমিন এবং একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নৃপেন নামে চাকুরিচ্যুত এক ব্যক্তি পল্লী বিদ্যুতের নিয়মিত ঠিকাদার। ওই ঠিকাদার সিংগেল ফেজেরে লাইন ত্রি-ফেজে রূপান্তরের কাজ করছেন। গত সোমবার ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সকাল থেকে কাজ শুরু করে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে কাজ না করার নির্দেশনা থাকে। ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, ওই দিন জেএসসি পরীক্ষা থাকায় লাইনে কাজ করতে নিষেধ করা হয়। অথচ ঠিকাদার কোন প্রকার পূর্ব অনুমতি ছাড়াই লাইনে কাজ করার সময় শ্রমিক রাসেল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ছিল পুলিশিং ডে। ডুমুরিয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশের ডিআইজসহ অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বাধীনতা চত্বরে বড় সমাবেশ হচ্ছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডুমুরিয়া বাজারে বিদ্যুতের তারে এক লাইনম্যান কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঝুলে আছে। যে কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। অথচ ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অনেক আগেই অবহিত করা হয় স্বাধীনতা চত্বরে ২৬ অক্টোবর বড় সমাবেশ হবে। ওই দিন বাজরে কোন প্রকার বিদ্যুতের কাজ করা বন্ধও রাখা হয়।  অথচ অনুমতি ছাড়াই জাহিদ নামে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের এক লাইনম্যান বাজারে বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ করতে উঠলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অবহেলা, উদাসীনতা ও খামখেয়ালীপনার কারণে একের পর এক এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আর প্রতিটি ঘটনার পর লোক দেখানো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ওই তদন্ত কমিটিতে থাকায় দায়ীরা বার বার পার পেয়ে যায় বলে অভিযোগ। গত সোমবারের ঘটনায়ও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেনের বাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ফজলুল হককে আহ্বায়ক, সহকারী ইঞ্জিনিয়ার উত্তম রায় ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খুলনা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন। 

এদিকে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের কোন মাথা ব্যথা নেই। বরং গত সোমবার রাসেলের মৃত্যুর পর এজিএম কম নন্দ কিশোর দাস বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে বেশ কয়েক জনকে দায়িত্ব দেন। এসব ব্যাপারে তার কাছে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি সভায় আছেন বলে লাইনটি কেটে দেন। তবে, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুল মতিন বলেন, গত সোমবার ও গত ২৬ অক্টোবর দু’দিনই কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই লাইনে কাজ করতে যায় শ্রমিকরা। তিনি বলেন, গত ২৬ অক্টোবর পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ডুমুরিযা বাজার এলাকায় কোন প্রকার কাজ না করার জন্য নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও লাইনম্যান জাহিদ ট্রান্সমিটার পাল্টানোর জন্য খুঁটিতে ওঠে। লাইন বন্ধ না করে কাজ করতে যেয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হন । গত সোমবার জেএসসি পরীক্ষা থাকায় রোস্তমপুর কাজ করতে নিষেধ করার পরেও ঠিকাদার নৃপেনের নির্দেশে তার শ্রমিকরা কাজ করতে যায়। কোন নিয়ম না মেনে কাজ করতে যেয়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ঘটনার পর থেকে ঠিকাদার নৃপেন পলাতক রয়েছেন। তিনি পলাতক থেকে সকলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ