ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মা-বাবার পাশেই শায়িত সাদেক হোসেন খোকা

 

স্টাফ রিপোর্টার: মা-বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকার সাবেক মেয়র, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকার সংসদ ভবনসহ ৫টি জায়গায় জানাযা ও শেষ শ্রদ্ধা জানানো শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এদিকে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাযায়। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে খোকাকে বিদায় জানাতে জনতার ঢল নামে। 

সাদেক হোসেন খোকার লাশ কবরে নামানোর আগে এ্যাক প্ল্যাটুনের এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডারকে পুলিশের ১৭ সদস্যের একটি চৌকশ দল ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। তারা এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা স্যালুট জানায়। এই সময়ে পুলিশের এডিসি নাজমুর নাহারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জুরাইনের পুরনো কবরাস্থানে দাফন করা হয় সাদেক হোসেন খোকাকে। এই কবরাস্থানে দাফন করা হয়েছে তার মা সালেহা খাতুন ও বাবা এম এ করীমকেও। এ সময়ে মরহুমের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহানগর দক্ষিনের সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেলসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়স্বজরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় নিউইয়র্ক থেকে অ্যামিরাটস এয়ারলাইন্সের বিমানে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তার লাশ এসে পৌঁছে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কফিন গ্রহণ করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর কামরুল ইসলাম, আতাউর রহমান ঢালী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, নাজিমউদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, বজলুল বাসিত আনজু, নবী উল্লাহ নবী, এসএম জাহাঙ্গীর, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ মহানগর নেতৃবৃন্দ। খোকার কফিনের সঙ্গে তার স্ত্রী ইসমত হোসেন, ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ও ইশফাক হোসেন এবং মেয়ে সারিকা সাদেক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালামসহ স্বজনরাও এসেছেন।

‘সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় জানাজা’: বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদেক হোসেন খোকার কফিন সংসদ ভবনের আনা হয়। লাশবাহী গাড়িতে বসা ছিলেন মির্জা আব্বাস। সেখানে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ, এলডিপির অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম মোরশেদ খান, আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, মশিউর রহমান রাঙ্গা, জয়নুল আবদিন ফারুক, উকিল আবদুস সাত্তার, আলমগীর কবির, হারুনুর রশীদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ঢাবির শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংককের সাবেক গর্ভনর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

পরে বিরোধী দলের পক্ষে মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিএনপির সংসদীয় গ্রুপ, এলডিপির পক্ষ থেকে খোকার কফিন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্পিকার ও সংসদ এবং সরকারি দলের পক্ষ থেকে কফিনে কোনো শ্রদ্ধা জানানো হয়নি।

এখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভিক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জানাযায় অংশ নিয়ে তার ছেলে ইশরাক হোসেন বিমর্ষ হয়ে বলেন, বাবা বলেছিলেন, আমি বাক্সবন্দি হয়ে দেশে যাব। তিনি ঠিকই বাক্সবন্দি হয়ে দেশে এলেন। এ চিত্র আমি কখনও ভুলতে পারব না। তার বুকে চাপা কষ্ট ছিল। তিনি নিজ দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি। তিনি ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে এখানে এসেছেন। 

ইশরাক আরও বলেন, আমার বাবা ২০১৭ সালে পাসপোর্ট নবায়ন করতে আবেদন করেছেন কিন্তু সেটা পাননি। ফলে তিনি দেশে অসতে পারেননি। বাবাকে দেখতে আমি যেদিন নিউইয়র্ক গেলাম সেদিন শেষ কথা বলেছেন। বাবা আমাকে বলেছেন, তার জানাযা যেন দেশে হয়। বাবার লাশ দেশে আনতে সহযোগিতা করার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

খোকার ছেলে বলেন, আমি প্রথমবার সংসদে পা রেখেছি আমার বাবার লাশ নিয়ে। যদিও আমার বাবা চারবারের সংসদ সদস্য। আপনারা আমার বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছেন সেজন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখানে আপনাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে আমার বাবার সাথে সকলের সুসম্পর্ক ছিলো। 

জানাযায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সাদেক হোসেন খোকা সর্বজন স্বীকৃত রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি এই দেশ ও আধুনিক ঢাকা গড়তে কাজ করছেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা: এরপর বেলা ১২টা থেকে এক ঘন্টা কফিন আনা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার কফিনে সর্বস্তরের মানুষের জন্য রাখা হয়। এখানে খোকার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি নুরুল আমিন রুকন, সহ সভাপতি শাহীন হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সাদেক হোসেন খোকার কফিনে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, আপ্যায়ন সম্পাদক এইচ এম আকতার, সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ, রাশেদুল হক প্রমুখ।

এছাড়া গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, জাসাসের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শায়রুল কবির খান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চিত্রনায়ক উজ্জলসহ বামসংগঠনগুলো ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময়ে কফিনের সামনে খোকার দুই ছেলে ইশরাক হোসেন ও ইশফাক হোসেন দাঁড়িয়েছিলেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়েই তিনি মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মুক্তিযোদ্ধা উলফাত বলেন, আজকে উনি নেই আমাদের মাছে। আমরা বিরাট শূন্যতা অনুভব করছি। উনি সারাজীবন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার চলে যাওয়া কোনোদিন পূরণ হবে না। 

বিএনপির অফিসে শেষ শ্রদ্ধা: দলের ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুরে তার কফিন নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে আসলে অশ্রুসজল নেতা-কর্মীরা তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। প্রথমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মরহুম খোকার কফিনটি দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দিয়ে তার প্রতি বিনর্ম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রথমে দলের পক্ষ থেকে, পরে কারাবন্দি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

খোকার কফিন নয়াপল্টনে কালো কাপড়ে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয়। এ সময়ে নেতা-কর্মীরা কফিনের সামনে ঘুমরে ঘুমরে কাঁদতে দেখা যায়। বিএনপি মহাসচিবসহ নেতাদেরও অনেককে অশ্রুসজল দেখাচ্ছিল।

কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে শোকাগ্রস্থ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সকলের প্রিয় নেতা, দুর্র্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা, দুই বারের নির্বাচিত ঢাকার সাবেক মেয়র, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এমন এক সময় চলে গেলেন যখন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি তাকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না। তিনি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেও জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেননি। সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হেনস্থা করেছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতনে সারা বাংলাদেশের মানুষ যখন অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত, সেই সময়ে যে মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল সাদেক হোসেন খোকা তার অন্যতম। তিনি চলে গেছেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনীতির কথা বলার সময় নয়। আসুন আমরা সাদেক হোসেন খোকার এই অকালে চলে যাওয়ায় আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি, তার চলে যাওয়ায় যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হলো সেই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। পরম করুণাময় আল্লাহ তালার কাছে এই দোয়া করি তিনি যেন তার সকল গুনাহ মাফ করে দেন, তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।

দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে খোকার বড় ছেলেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার বাবার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন, আমার আব্বা এই ঢাকাতে বড় হয়েছেন। দীর্ঘদিন তিনি মেয়র, মন্ত্রী, এমপি ছিলেন। দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা উনাকে মাফ করে দিবেন। 

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন উলামা দলের আহবায়ক মাওলানা শাহ নেছারুল হক। জানাযার পর মুক্তিযোদ্ধা খোকার কফিনে স্যালুট জানান জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রনাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধারা। এদের মধ্যে ছিলেন সেক্টার কমান্ডার শাহজাহান ওমরসহ মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় জাতীয় পতাকা দিয়ে তার কফিন ঢেকে দেয়া হয়।

এই জানাযায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, হাবিবউন নবী খান সোহেল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুবউদ্দিন খোকনহ দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। 

নামাজের জানাযায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যেসকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এর আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর এর আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তর এর সহকারী সেক্রেটারি লস্কর মুহাম্মদ তসলিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ কামাল হোসাইন, আব্দুস সালাম, এড.এসএম কামাল উদ্দিন, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও মহানগরী দক্ষিণ এর কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী প্রমুখ। এছাড়া মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার জনতা এই জানাযায় অংশগ্রহন করেন।

এছাড়া ২০ দলীয় জোটের খোন্দকার লুফর রহমান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ লেবারপার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যঅপ ভাসানীর এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, শওকত আমীনসহ জোটের নেতারা অংশ নেন। এছাড়াও মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের স্থায়ী সদস্য কামরুজ্জমান হিরু, তৃণমূল কচুয়ার আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন কামালসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতারা জানাযায় অংশ নেন। নয়া পল্টনের কার্যালয় থেকে ফকিরের পুল মোড় পর্যন্ত সড়ক ও তার আশপাশের গলিতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই জানাযায় দাঁড়ান। পুরো পল্টন রোড কানায় কানায় পূর্ণ হয়। জানাযা যখন হচ্ছিন তখন কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীরা মাথা নিচু করে তাদের প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। এর আগে সকাল ৮টা থেকে নয়া পল্টনের অফিসের নিচ তলায় সকাল থেকেই কোরান খানি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনে: বিএনপির কার্যালয় থেকে কফিন নিয়ে যাওয়া হড ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে। সেখান জানাযায় অংশ নেন দক্ষিনের মেয়র সাইদ খোকনসহ কাউন্সিল ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মরহুম সাদেক হোসেন খোকার কফিনে শ্রদ্ধা জানালেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কফিন ৩ টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে আনা হয়। এখানে মরহুম সাদেক হোসেন খোকার মরদেহে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান মেয়র সাঈদ খোকনসহ সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরগণ, কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ ইমদাদুল হক ও বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানগনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা/ কর্মচারীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ।

জানাযা শুরুর পূর্বে মেয়র সাঈদ খোকন নগরবাসীর উন্নয়নে মরহুম সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশবাসী তার এ অবদানের কথা স্মরণ করবে। তিনি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ জানাযায় মেয়র সাঈদ খোকনের সাথে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, সাদেক হোসেন খোকার দুই পুত্র ইশরাক হোসেন ও ইশরাফ হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, বিএনপি নেতা এমরান সালেহ প্রিন্স, ডিএসসিসির বর্তমান কাউন্সিলরগণ, সংস্থার সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ও অন্যান্য শ্রেণী পেশার ব্যক্তিবর্গ শরীক হন।

এরপর সাদেক হোসেন খোকাকে নিয়ে আসা হয় তার প্রিয় খেলা ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নে। সেখানে কিছক্ষন রাখার পর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কফিন গোপীবাগে পৈত্রিক বাসভবন আত্মীয়-স্বজনদের দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কফিন যখন বাসার সামনে পৌঁছে তখন এক আবেগঘণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেখান থেকে বাদ আসর ধুমখোলা মাঠে সর্বশেষ জানাযার পর জুরাইনে দাফন করা হয় বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে। এখানে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। লোকে লোকারণ্য হয়ে পুরো জুরাইন এলাকা। 

সাদেক হোসেন খোকা সোমবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। ক্যান্সারে আক্রান্ত খোকা প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ছিলেন। সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ভর্তি হন খোকা। গত সোমবার তার শ্বাসনালি থেকে টিউমার অপসারণ করা হয়। নিউইয়র্ক সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

 

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সাদেক হোসেন খোকা বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তার দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০১ সালে তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০০২ সালে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হন। মৃত্যুর আগে বারবার দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন খোকা। সবশেষ হাসপাতালে ভর্তির আগে বন্ধু বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান টুকুকে টেলিফোনে বলেছিলেন, জীবনবাজি রেখে যে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, সে দেশের মাটিতে ফিরতে পাব কিনা আল্লাহ জানেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ