ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আ’লীগ সরকার সকল গণতান্ত্রিক অধিকার ভূলুষ্ঠিত করে ক্ষমতায় টিকে আছে

 

সংগ্রাম ডেস্ক : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলোচনা সভার আয়োজন করে। এসব আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান আ’লীগ সরকার সকল গণতান্ত্রিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা অন্যায়ভাবে আটক নিরপরাধ সকল নেতাকর্মীর মুক্ত দাবি করেন। 

রাজশাহী অফিস: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান আ’লীগ সরকার সকলপ্রকার গণতান্ত্রিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা জামায়াতের আটক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।

গতকাল বুধবার মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য ড. মো: কেরামত আলীর সভাপতিত্বে এই সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। তারা বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনার বাস্তবায়নে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা পুনঃস্থাপন, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, দ্রব্যমূল্যসহ জনদুর্ভোগ লাঘব এবং বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে অবিলম্বে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামসহ শীর্ষ জামায়াত নেতা ও সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি স্বীকৃত আদর্শ রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক দেশে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরণের গণতান্ত্রিক কর্মকা-ের অধিকার এই দলের রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুলিশ বাহিনী দিয়ে অন্যায়ভাবে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে চলেছে। আ’লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করছে। বিরোধী দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে মিছিল সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মিছিল বের করলেই লাঠিপেটা করা হচ্ছে। গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে কোনো কার্যক্রম করতে দেয়া হচ্ছে না। মিছিল সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দ সরকার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের কর্মকা- পরিহার করার আহ্বান জানান।

সিলেট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন- ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করেছিল। জাতি এমন এক সময় এ দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন এবং জনগণের ভোটাধিকার নেই। এ অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধারের জন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশপ্রেমিক জনতাকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করার দৃঢ় শপথ নিতে হবে।

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা সোহেল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্টিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন ও মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মো: শাহজাহান আলী, এডভোকেট আব্দুর রব ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত, এডভোকেট আলিম উদ্দিন, মাওলানা মুুজিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শৃংখলমুক্ত করা হয়েছিল। আধিপত্যবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসররা আমাদের স্বাধীকার হরণের যে নীলনকসা প্রণয়ন করেছিল তা সিপাহী-জনতার যুগপৎ বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছিল। মূলত ৭ নভেম্বরের চেতনা আধিপত্যবাদী ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের চেতনা। তাই বিপ্লব দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও জুলুমতন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। দেশ, জাতিস্বত্ত্বা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি আহবান জানান তারা।

খুলনা অফিস : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বরে রাজনৈতিক শূন্যতা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এক অরাজক অবস্থার মাঝে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী ও জনতার মধ্যে সংহতির মাধ্যমে বিপ্লব ঘটেছিল। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী দুঃশাসন ও দমন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে জনগণের কন্ঠরোধ করা হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ৭ নবেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের মানুষ সেই দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। জাতীয়বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী উদ্যোগে বৃহস্পতিবার নগরীতে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার হানিফ বালী, ছাত্রনেতা আতাউল্লাহ মুহাম্মদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা অধ্যাপক আল ফিদা হোসেন, মশিউর রহমান রমজানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।  

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেফতার-রিমান্ড, খুন-গুমের মহাউৎসব চলছে। খুন ও গুমের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইনের মোড়কে বেআইনী কাজের মাধ্যমে প্রশাসনিক সুব্যবস্থাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। খুনিদের বিচারের পরিবর্তে এই সরকার বিরোধী দলের নেতাদের ফাঁসানোর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। সরকার জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের ওপর দোষারোপ করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চায়। গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করে গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তি দেশে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। কারণ, সরকার আইনের শাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক হয়রানীর মাধ্যমে বিরোধী দলকে কোন ঠাসা করছে। সরকারের ওপর জনগণের অনাস্থার কারণে জঘন্য হত্যাকান্ডে জনগণ বিম্মিত ও সোচ্চার হলেও তারা ন্যায় বিচারের আশা করতে পারছেনা। ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বরের পূর্বের চেয়েও দেশে আজ খারাপ ও অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। এদেশে রাজনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে। ৭ নবেম্বরের চেতনাকে বুকে ধারণ করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাকশালী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান এবং গ্রেফতারকৃত সকল জামায়াত ও শিবির নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানান।

খুলনা উত্তর : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা উত্তর জেলার উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

খুলনা উত্তর জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক ফুলতলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এটিএম গাওসুল আযম হাদীর পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা অফিস সেক্রেটারি মো. আশরাফুল আলম, খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমীর ডা. সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, ছাত্রশিবিরের খানজাহান থানা সভাপতি মিয়া বায়জিদ প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি তার আলোচনায় বলেন, ৭ নবেম্বর হচ্ছে এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবার দিন। কিন্তু এদেশে গণতন্ত্র আজ কারারুদ্ধ। তিনি কারাবন্দী সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গাজীপুর: গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মোঃ জামাল উদ্দিন বলেছেন,৭ নভেম্বর সিপাহী জনতা কাধে কাধ মিলিয়ে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন দেশের মানুষ যখন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলো সেই প্রেক্ষাপটে ১৫ আগষ্টের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সংঘটিত হয়। ৩ থেকে ৬ তারিখ দেশ কার্যত অচল ছিল।৭ নভেম্বর দেশ এবং দেশের মানুষকে মুক্ত করতে সেদিন সিপাহী জনতা ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল। তিনি আরো বলেন-৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগন শাখার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আফজাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো: খায়রুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটের আবর্তে নিমজ্জিত। আইনের শাসন ভূলন্ঠিত, গণতন্ত্র নির্বাসিত ও মানবাধিকার বিপন্ন। গুম, খুন, ধর্ষণ মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করছে। চারদিকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের হাহাকার। দেশের মান্ষুকে মুক্ত করতে প্রয়োজন ৭ নভেম্বরের মতো সর্বস্তরের জনতার আরেকটি বিপ্লব। 

অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন মহানগর সাংঠনিক সম্পাদক মোঃ মোশাররফ হোসাইন, টংগী পশ্চিম আমীর কামারুজ্জামান খান, দক্ষিণ আমীর আবু তকি, মোঃ আনোয়ার হোসাইন, আতিকুর রহমান, ফজলুুুল হক নোমান প্রমুখ।

এছাড়া বাসন থানার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় থানা আমীর এখলাছ উদ্দিন, সেক্রেটারি আক্রাম হোসেন, নাজির আহমদ সরকার। কোনাবাড়ি থানার আলোচনা সভায় থানা সেক্রেটারি ডা:কবির হোসাইন, জাফর আহমদ। কাশিমপুর থানার উদ্যোগে থানা আমীর আবু সিনা নুরুল ইসলাম মামুন, সেক্রেটারি নেছার উদ্দিন মাসুদ। গাছা থানার আলোচনায় থানা আমীর হাফেজ আব্দুল মোত্তালিব, সেক্রেটারি মিয়াজ উদ্দিন। সদর মেট্রো উত্তর থানার আলোচনা সভায় থানা আমীর আবু রকিব,সেক্রেটারি তরিকুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারী : বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে আলোচনা সভা করেছে জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাড়োয়া সুঁইচ গেট এলাকায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সাত্তার, সদর উপজেলা আমীর প্রভাষক আবু হানিফা শাহ্, শহর জামায়াতের আমীর এ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ , জামায়াত নেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর সরকার, সদস্য সচিব জহুরুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ পারভেজ প্রিন্স প্রমুখ।

রংপুর অফিস: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফির অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের রংপুর মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুর ইসলাম, কোতয়ালী সাংগঠনিক থানা  সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন মন্ডল, সাতগাড়া সাংগঠনিক থানা  সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা হারুনর রশিদ প্রমুখ। 

সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, দেশে জনগনের ভোট আর ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ৭১ সালে চরম আতœত্যগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সেই ধারার ব্যর্থতার কারনে ৭ই নভেম্বরের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছিল। কিš ‘দেশবাসী আজও তাদের ভোট এবং ভাতের অধিকার ফিরে পায়নি। সাধারন ছাত্র সমাজ তাদের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে পুলিশ আর সরকার দলীয় ক্যাডারদের গুলিতে প্রান হারাচ্ছে। সরকারের ছত্রছায়ায় দেশে এখন জুয়া এবং মাদকের আধিপত্য বিস্তার হয়েছে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে সরকারের লোকজন দেশকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে হবে। শেষে দেশ ও জাতীর শান্তি সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে মহানগর আমীরের পরিচলনায় দোয়া করা হয়। 

এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা আমীর মাওলানা এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম রববানী। পরে দেশের কল্যান ও জাতীর শান্তি সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে জেলা আমীর মাওলানা এটিএম আজম খানের পরিচলনায় দোয়া করা হয়। 

কুমিল্লা অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতবৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় এক অডিটরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আমিনুল হক এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন, সহকারি সেক্রেটারি মাহবুবর রহমান, কুমিল্লা মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি শাহাদাত হোসাইন। 

পাবনা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা পৌর শাখার উদ্যোগে। স্থানীয় এক মিলনায়তনে।  বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে উক্ত সভায় পাবনা পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ,পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব ম-ল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়বে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ নাসিম হোসেন পাবনা পৌর জামায়াতের নায়বে আমীর মাওলানা আবদুল লতিফ জামায়াত নেতা আব্দুর রউফ । ।

  প্রধান অতিথির আলোচনায় অধ্যাপক আবু তালেব ম-ল বলেন ’৭৫-এর ৭ নবেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে আমাদের মাতৃভূমি প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন অস্তিত্ব লাভ করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা নিশ্চিত হয়। স্বদেশবাসীর জাগরিত দৈশিক চেতনায় পরাজিত হয় আধিপত্যকামি শক্তির অশুভ ইচ্ছা। ১৯৭৫ সালের এ দিনে আধিপত্যবাদী শক্তির নীল নকশা প্রতিহত করে এদেশের বীর সৈনিক ও জনতা। সম্মিলিত প্রয়াসে জনগণ নতুন প্রত্যয়ে জেগে উঠে। ৭ নবেম্বর বিপ্লবের সফলতার সিঁড়ি বেয়েই আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির পথ পেয়েছি। বিপ্লবের মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদেরকে সে পথ দেখিয়ে গেছেন। তার প্রদর্শিত পথ ধরেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে উঠে এসেছে। আর সেজন্যই আমাদের জাতীয় জীবনে ৭ নবেম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম। 

 অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পাবনা পৌর শাখার সেক্রেটারি মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন। 

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সকালে শহরের সেন্টারের শহর আমীরের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি। এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত থেকে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এর পটভূমি আলোচনা করেন। এ ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

টাঙ্গাইল : গতকাল বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল শহর শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শহরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবিব মাসুদ। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক ডাক্তার খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া জেলা সহকারী সেক্রেটারি হোসনী মোবারক বাবুল ও শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমানসহ জেলা শাখা ও শহর শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক আলোচনা সভা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনী শহরের একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমির একেএম শামছুদ্দীন। ফেনী শহর আমির মোহাম্মদ ইলিয়াসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হক, জেলা সেক্রেটারি মুফতি আবদুল হান্নান, ফেনী জেলা জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিক মানিক, আনম আবদুর রহিম প্রমুখ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাভার পৌরসভার সেক্রেটারী আবিদ হাসান বলেন ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর নব্য স্বাধীন বাংলাদেশে আধিপত্যবাদীর বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য সিপাহী জনতার সফল বিপ্লব। সেদিন নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবারের ধ্বনিতে যেভাবে একনায়কতান্ত্রিক, শোষন ও জুলুমের বিরুদ্ধে যেভাবে দেশ ও ইসলাম প্রেমিক জনতা বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল আগামীদিনেও একইভাবে সকল আধিপত্যবাদী শক্তির মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে । বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাভার পৌরসভা কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সাভার পৌরসভার কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ সারোয়ার হোসেন এর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সামাদ, ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারী রাসেদুল ইসলাম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ