ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস 

স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা/মোঃ শামীম হোসেন সাভার : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে এখনও উত্তাল ক্যাম্পাস। প্রশাসনিক বিধি সত্ত্বেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশ ও মিছিলে নিষেধাজ্ঞার পর আন্দোলন আরও জোরদার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসময় অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা এবং হামলা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা।

গতকাল রাত ৮টার দিকেও ভিসির বাসভবনের সামনে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিবাদী কনসার্ট চালিয়ে যাওযার খবর পাওয়া যায়। এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের পাশে ভিসির বাসভবনের জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে পুলিশ।

আন্দোলনকারীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে গান, কবিতা পাঠের মতো কর্মসূচি পালন করবেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনরতরা ভিসির বাসভবনের সামনে প্রতিবাদী কনসার্ট চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গতকাল সভা-সমাবেশ, মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদী কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভিসির বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসির বাসভবন ঘুরে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে ফের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসময় শ্লোগান দেন, ‘গেট আউট, গেট আউট, ফারজানা গেট আউট; ‘অবাঞ্ছিত ভিসি- ছি! ছি!; ‘এক দফা এক দাবি, ফারজানা তুই কবে যাবি; ‘ফারজানার বিরুদ্ধে, গড়ে তুলি আন্দোলন।

সমাবেশে আন্দোলনকারী সংগঠক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে আমরা অনেক বার তদন্ত করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আসতে বলেছি। কিন্তু তার সেই মেরুদন্ড নেই। তিনি তদন্তের দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো ছাত্রলীগ দিয়ে আমাদের উপর হামলা করলেন। ভিসিকে বলতে চাই আপনি আপনার চেয়ারটা ছেড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে সাহায্য করুন। নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থার দায় আপনার উপর যাবে।'

প্রসঙ্গত, ভিসির অপসারণ দাবিতে গত সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে রেখেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরেরদিন মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় ভিসি সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভিসিকে বাসা থেকে বের করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে আসেন।

এ সময় ভিসি সমর্থক শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক-বিত-া চলতে থাকে। এর মধ্যেই পৌনে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে বুধবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সালাম সাকলাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের দোকানপাটও বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করেন, এই সময়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো শিক্ষার্থীর অবস্থান সমীচীন নয়।

বুধবার রাতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচি শুরু হয় সকাল নয়টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে। এছাড়া সন্ধ্যা ছয়টায় ভিসির বাসভবনের সামনে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে ব্যবস্থা’

এদিকে, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনবে, তাদের সে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

গতকাল বৃহস্পতিবার  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা ভাতা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এই হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইদানিং দেখছি হঠাৎ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা কথায় ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। আমার স্পষ্ট কথা, যারা ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে, তাদেরকে কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং তথ্য দিতে হবে।’

এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিবিরোধী চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রমাণ করতে হবে। আর যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, যারা অভিযোগ নিয়ে এসেছে, যারা বক্তৃতা দিচ্ছে-  সে সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় -যে অভিযোগকারী তাকে কিন্তু সাজা পেতে হবে। এটা আইনে আছে। মিথ্যা  অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।  এটা স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি প্রমাণ করতে না পারে, এতো টাকা, ওতো টাকা নিয়েছে, মুখে বললে তো আর হবে না। তারা সুনির্দিষ্টভাবে জানে বলে তো অভিযোগ করছে। সুনির্দিষ্টভাবে যখন জানে, তখন প্রমাণ দেবে না কেন? সেটার প্রমাণ যদি দিতে না পারে, তাহলে যে মিথ্যা অভিযোগ করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণ না করে কেবল দুর্নীতি দুর্নীতি বলে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে, ক্লাস চলতে দেবে না, বিশ্ববিদ্যালয় চলতে দেবে না, তাদের আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুর- এটা তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা-।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ