ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইয়া নবী সালাম আলাইকা ইয়া রাসুল  সালাম আলাইকা

 

মিয়া হোসেন : হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) শুধু মুসলমানদের নবী নন। তিনি সকল মানুষের পথ প্রদর্শক। তার জীবনাদর্শ বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। এ ব্যাপারে মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেছেন, তোমাদের জন্য রাসূল (সাঃ)-এর জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। আল্লাহ এ কথা বলার পর বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য অন্য কোন আদর্শ গ্রহণ করার রাস্তা খোলা থাকতে পারে না। বিশ্বে মুসলমান বলে পরিচয়দানকারী মানুষেরা পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা কতটুকু পালন করেন? তারা কি জানেন, পবিত্র কুরআনের যে কোন নিদের্শনা অস্বীকার করলে সে আর মুসলমান থাকে না। আদমশুমারীতে হয়ত মুসলমান থাকা যায়। বিয়ে, জানাযায়, জন্ম পরিচয়ে মুসলমান নাম পরিচয় দেয়া যায়, কিন্তু আল্লাহর দফতরে মুসলমান থাকা যায় না। মুহাম্মদ (সাঃ) কে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ না করার কারণেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা নির্যাতিত, নিপীরিত ও জাতিগত নিমূলকরণের শিকার হচ্ছে। পশ্চিমারা মানবাধিকার ও সভ্যতার কথা যতই বলুক না কেন, মুসলামানদের ক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকার ও সভ্যতা নেই। যারা সত্যিকার মুসলিম তারা রাসূল (সাঃ) এর কথা শোনা মাত্র আবেগাপ্লুত হয়ে যান। কিন্তু এদের মধ্য থেকে কিছু মানুষ রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) কে আদর্শ হিসেবে না মেনে সরাসরি অস্বীকার করেন। এক্ষেত্রে তারা মার্কস, লেলিন ও বাংলাদেশের কিছু বড় রাজনৈতিক নেতার আদর্শ নিজে পালন করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে মুসলমানদের সংখ্যা শতকরা ৯০ ভাগের বেশী কিন্তু এসব সংখ্যাগরিস্ট মুসলিম দেশে কেন রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবে মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ মানা হয় না? যদি প্রশ্ন করা হয় যারা রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করেন তারা কারা? তাহলে জবাব আসবে তারা সবাই মুসলমান। তারা মুসলমান নাম ধারন করলেও প্রকৃতপক্ষে ঈমানদার নয়। সুতরাং ঈমানদার হতে হলে আল্লাহ ও রাসূলের (সাঃ) হুকুম মানতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

রাসূল (সা:) সর্ম্পকে আল্লাহ রাব্বুল বলেন, “আর তিনি (নবী) মনগড়া কথাও বলেন না, এ তো ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়। (৫৩:৩-৪) “তিনি (নবী) যদি আমার নামে কিছু রচনা চালাতে চেষ্টা করতেন আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং কেটে লইতাম তার জীবনধমনী” (৬৯:৪৪-৪৬)

রাসূল (সা:) বলেন, জেনে রাখ, আমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে দেয়া হয়েছে এর অনুরুপ আরও একটি জিনিস”- (আবু দাউদ, ইবনে মাজা, দারিমী)

রাসূল (সা:) এর আনুগত্য করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (৫৯:৭)। অতএব রাসূল (সা:) আমাদেরকে যে সকল নির্দেশ দিয়ে গেছেন তা মেনে চলতে হবে এবং যে সকল কাজ করতে নিষেধ করেছেন  তা বর্জন করতে হবে। তাহলে আমাদের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ