ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আজ চট্টগ্রামে মা বাবার পাশে শায়িত করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মইন উদ্দীন খান বাদল (৬৭) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাদলের লাশ আজ শুক্রবার দেশে আসছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মা-বাবার পাশে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাকে। বাদলের ছোট ভাই মনির উদ্দিন আহমদ খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে তার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয়। 

বাদলের ভাই মনির উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, গত ১৮ অক্টোবর থেকে ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার ভাই।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাদা আলাদা শোক বার্তায় মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার রূহের মাগফেরাত কামনা করেন তারা। শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তার ছোট ভাই জানান, বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার পাশেই বাদল ভাইকে দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শুক্রবার লাশ দেশে পৌঁছলে জানাজার সময় নির্ধারণ করা হবে।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাদলের গ্রামের বাড়ি সারোয়াতলীর খান মহলে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। বাড়ির সামনে চলছে শেষ বারের মতো বাদলকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। মাঝে মাঝেই মহলের অন্দর থেকে ভেসে আসছে ভাই-বোন আর স্বজনদের কান্নার আওয়াজ। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বাদল তৃতীয়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদরোগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মঈন উদ্দিন খান বাদল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া বাদল বোয়ালখালী উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা বাদল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের জন্য পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে খালাসের সময় প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন বাদল।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাদল সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। জাসদ, বাসদ হয়ে পুনরায় জাসদে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও বাদলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

প্রধানমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদকে হারালো। প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এ নেতাকে জনগণ সবসময় মনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ