ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন যারা

সাকিব খান, তিশা, সাইমন সাদিক, আরেফিন শুভ (উপরে)। জয়া আহসান, জেমস, মমতাজ, আঁখি আলমগীর (নিচে)

 

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চলচ্চিত্রশিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের জন্য ২৪টি বিভাগে বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদানের ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০১৭ সালের আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন এ টি এম শামসুজ্জামান ও সুজাতা এবং ২০১৮ সালে আলমগীর ও প্রবীর মিত্র। 

২০১৭ সালের সেরা অভিনেতা হিসাবে যৌথভাবে পুরস্কার পান শাকিব খান ও আরিফিন শুভ। শাকিব খান ‘সত্তা’ ও আরিফিন শুভ ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার পাচ্ছেন। এই বছর ‘হালদা’ ছবিতে অভিনয় করে নুসরাত ইমরোজ তিশা পাচ্ছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। ২০১৮ সালের সেরা অভিনেতা হচ্ছেন যৌথভাবে ফেরদৌস ও সাইমন সাদিক। ফেরদৌস ‘পুত্র’ ও সাইমন ‘জান্নাত’ ছবির জন্য পুরস্কার পাচ্ছেন। ২০১৮ সালের ‘দেবী’র জন্য জয়া আহসান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন। 

২০১৭ সালের সেরা ছবির পুরস্কার পাচ্ছে দীপংকর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ আর ২০১৮ সালে সাইফুল ইসলাম মান্নুর ‘পুত্র’। ‘গহীন বালুচর’ ছবির জন্য ২০১৭ সালের সেরা পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন বদরুল আনাম সৌদ আর ২০১৮ সালের ‘জান্নাত’ ছবির জন্য মোস্তাফিজুর রহমান।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে অন্য বিভাগগুলোতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ (তুমি রবে নীরবে), পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা শাহাদাৎ হোসেন (গহীন বালুচর), খল চরিত্রে অভিনেতা জাহিদ হাসান (হালদা), পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা (গহীন বালুচর), রুনা খান (হালদা), শিশুশিল্পী নাইমুর রহমান আপন (ছিটকিনি), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার অনন্য সামায়েল (আঁখি ও তাঁর বন্ধুরা), প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশে), শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার আজাদ বুলবুল (হালদা), চিত্রনাট্যকার তৌকীর আহমেদ (হালদা), সংলাপ রচয়িতা বদরুল আনাম সৌদ (গহীন বালুচর), কৌতুক অভিনেতা এম ফজলুর রহমান (গহীন বালুচর), পুরুষ কণ্ঠশিল্পী জেমস (সত্তা), নারী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ (সত্তা), গীতিকার সেজুল হোসেন (সত্তা), সুরকার বাপ্পা মজুমদার (সত্তা), চিত্রগ্রাহক কমল চন্দ্র দাস (গহীন বালুচর), শব্দগ্রাহক রিপন নাথ (ঢাকা অ্যাটাক), নৃত্য পরিচালক ইভান শাহরিয়ার সোহাগ (ধ্যাৎতেরিকি), সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম (ঢাকা অ্যাটাক), শিল্পনির্দেশক উত্তম কুমার গুহ (গহীন বালুচর), রূপসজ্জায় জাভেদ মিয়া (ঢাকা অ্যাটাক) এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জায় রিটা হোসেন (তুমি রবে নীরবে)।

২০১৮ সালের অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সংগীত পরিচালক ইমন সাহা (জান্নাত), পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা আলী রাজ (জান্নাত), খল চরিত্রে অভিনেতা সাদেক বাচ্চু (একটি সিনেমার গল্প), পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেত্রী সুচরিতা (মেঘকন্যা), শিশুশিল্পী ফাহিম মুহতাসিম (পুত্র), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী বিশেষ মাহমুদুর রহমান (মাটির প্রজার দেশে), প্রামাণ্যচিত্র ফরিদুর রেজা সাগর (রাজাধিরাজ রাজ্জাক), কাহিনিকার সুদীপ্ত সাইদ খান (জান্নাত), সংলাপ রচয়িতা হারুণ রশীদ (পুত্র), পুরুষ কণ্ঠশিল্পী নাইমুল ইসলাম রাতুল (পুত্র), নারী কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন (পুত্র) ও আঁখি আলমগীর (একটি সিনেমার গল্প), গীতিকার কবির বকুল (নায়ক) ও জুলফিকার রাসেল (পুত্র), সুরকার রুনা লায়লা (একটি সিনেমার গল্প), নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল (একটি সিনেমার গল্প), কৌতুক অভিনেতা মোশাররফ করিম (কমলা রকেট) ও আফজাল শরিফ (পবিত্র ভালোবাসা), চিত্রগ্রাহক জেড এইচ মিন্টু (পোস্টমাস্টার ৭১), শব্দগ্রাহক আজম বাবু (পুত্র), সম্পাদক তারিক হোসেন বিদ্যুৎ (পুত্র), শিল্প নির্দেশক উত্তম কুমার গুহ (একটি সিনেমার গল্প), রূপসজ্জায় ফরহাদ রেজা (দেবী) এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জায় সাদিয়া শবনম (পুত্র)।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ও সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৭৫ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। প্রথম দিকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার না থাকলেও ২০০৯ সালে প্রথম এই পুরস্কার চালু করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য এটিই সর্বোচ্চ পুরস্কার। এ কারণে অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুখিয়ে থাকেন এই পুরস্কারের জন্য।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৭ ও ২০১৮-এর জন্য ছবি আহ্বান করে তথ্য মন্ত্রণালয়। মার্চে ছবি এবং প্রস্তাব দেয়ার শেষ সময় ছিল। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ২৮ শাখায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুই বছরে মুক্তি পাওয়া ৭৪টি ছবি। ওই সময় দুই বছরে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলো নির্বাচনের জন্য দুটি জুরিবোর্ড গঠন করে সরকার। ২০১৭ সালের জুরিবোর্ডের সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কোহিনুর আক্তার সুচন্দা, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক এম এ আলমগীর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রগ্রাহক পঙ্কজ পালিত ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। ২০১৮ সালের জুরিবোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, চলচ্চিত্র অভিনেতা ইনামুল হক, সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান, অভিনেত্রী রওশন আরা রোজিনা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও বাংলাদেশ চিত্রগ্রাহক সংস্থার যুগ্ম মহাসচিব তপন আহমেদ। এই দুটি জুরিবোর্ডের ফলাফল পাওয়া গেছে গতকাল। শিগগিরই তথ্য মন্ত্রণালয় দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের পুরস্কার একসঙ্গে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেবে। নির্ধারিত তারিখে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ৪১তম আসর। যেখানে ২০১৬ সালের চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ