ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি টিংকু ও সম্পাদক রাসেলের বিরুদ্ধে ঘের দখলের অভিযোগ 

খুলনা অফিস : কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ হাদিউজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে ঘের দখল, এমপিওভুক্তির নামে একটি স্কুল থেকে বিপুল অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও চাঁদাবাজি, মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার সাবেক সভাপতি মো. মেহেদী হাসান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত রোববার টিংকু ও রাসেল ৫০/৬০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার ঘেরে হামলা চালিয়ে ঘেরটি দখল করে নেয়। এসময় ঘেরের ম্যানেজার শহিদুল্লাহ ও কর্মচারি কামরুল, জহিনুরকে মারপিট করে বের করে দেয়। এ ঘটনার পর রাসেলের সাথে উপজেলা সদরে মেহেদীর দেখা হলে-বুয়েটের আবরারের মত পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ছাত্রদলের বি-টিম। ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজলের শ্যালক টিংকু। সে বাংলাদেশ কংগ্রেস নামে একটি ছাত্র সংগঠনের নেতা ছিল। যার পোস্টার এখনও বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে। টিংকু সভাপতি হওয়ার পর এ পর্যন্ত হত্যাসহ অন্ততঃ ১০টি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন। টিংকুর দুলা ভাইয়ের নির্বাচনী ইউনিয়ন উত্তর বেদকাশীতেই ৫ বার মারামারি হয়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের মারপিট করে এলাকা ছাড়া করেছে কাজল বাহিনী। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি আশিকুজ্জামান রাহাত, যুগ্ম-সম্পাদক শাহিন, ইমরান ও যুবলীগ নেতা হাফিজুল ইসলামকে কাজল ও তার লোকজন মারপিট করে। সাবেক সভাপতি মেহেদী প্রধামন্ত্রীসহ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে এমন হাইব্রীড নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। 

এদিকে টিংকুর বাড়ির পাশে কয়রা শাকবাড়িয়া কলেজিয়েট স্কুলে এমপিভুক্তির কথা বলে টিংকু বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমপিও’র তালিকা প্রকাশের পর ওই সকল শিক্ষকরা বর্তমানে হা হুতাশ করছে। তারা টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে বিভন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার আপন চাচা হওয়ায় কোন শিক্ষক আর প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছে না।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মধ্যে মো. ওলিউল্লাহ নামে এক শিক্ষক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকু কয়রা শাকবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্তির জন্য বর্তমান শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধূরী নওফেলকে দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের নিকট থেকে বিপুল অংকের টাকা আদায় করে। এরমধ্যে ৬ লাখ টাকা প্রদানের রশিদের একটি কপিও তিনি সাংবাদিকদের নিকট দিয়েছেন। উপমন্ত্রীর সাথে একটি সেলফিও টিংকু এলাকার সকলকে দেখায়। ওই সেলফির কারণে শিক্ষকরা সরল বিশ^াসে টাকা দিয়েছে টিংকুকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ