ঢাকা, শুক্রবার 8 November 2019, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আইনি লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না  

খুলনা অফিস : বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আইনি লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। কেননা যে দেশে আইনের শাসন নেই,নির্বাচিত সংসদ নেই, নির্বাচিত সরকার নেই, সে দেশে আইনী লড়াই করা যায় না। তিনি বলেন, বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতারা আইনী লড়াই করে মুক্ত হতে পারেনি। লড়াই-সংগ্রাম করে মুক্ত হয়েছেন। তাই এই সরকারের অধীনে আইনি লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা করা যায় না। আর সেই লড়াইয়ের প্রস্তুত থাকার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের আহবান জানিয়ে বলেন, সেই সংগ্রামে বিজয়ী হয়ে শুধু বেগম খালেদা জিয়া নয়, এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরয়ে আনতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় ঐতিহাসিক ৭ নবেম্বর ও জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে বলেন, আসলে এটা কোনো আইন নয়, এটি একটি তলোয়ার এদেশের মানুষের মাথার উপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বিদেশীদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, এই আইন প্রয়োগ হচ্ছে না, কিন্তু মাথার উপর তলোয়ার বা ছুরি ঝুলিয়ে থাকলে কে কথা বলবে? এ প্রসঙ্গে তিনি ভোলার ঘটনায় খুলনার সাংবাদিক মুনীর উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা এবং গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সারা দেশের মানুষকে একটি ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে রেখেছে এ সরকার। তিনি খুলনার সময়ের খবরের সম্পাদক ও রিপোর্টারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহরের দাবি করেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ক্যাসিনো প্রসঙ্গে বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ ক্যসিনোর নাম শুনেনি। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ বিদেশে ক্যাসিনো সম্পর্কে জানতেন। ক্যাসিনোতে কি হয়, তা বিশ্বের মানুষ জানে। সেখানে মাফিয়াদের অবাধ বিচরণ। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানকে এ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বলছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আসলে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিশাল মাফিয়া তৈরী হয়েছে। মাফিয়াদের ভিতরে যখন ক্ষমতা আর চাঁদাবাজির ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব হয়, তখন একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এটা ভাগাভাগির কারণে একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটি সত্যিকারের অভিযান নয়। সত্যিকারের অভিযান হলে সারা দেশে অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নেতারা জেলে যাবে। কেননা আপনারা তার সাক্ষী, সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জীবন মান কেমন হয়েছে।

তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এদেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। দেশের মানুষের মনে শান্তি নেই। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি পেঁয়াজ না খাওয়ার কথা বলতেন না। কেননা নির্বাচিত না হওয়ায় তাকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নেই।

৭ নবেম্বর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু বিএনপি’র জন্য দিবটি নয়, এটি এদশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা,গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের দিন। পরবর্তীতে এই দিনটির জন্য বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মুক্ত অর্থনীতি চালু, ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়েছিল।

জনসভার প্রধান অতিথি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি’র আর কেউ নেই, যে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে হলো? তার এই বক্তব্যের ৩৩ দিনের মাথায় ছাত্র লীগে ভারপ্রাপ্ত হয়েছে। তার এক সপ্তাহের মধ্যে যুবলীগে ভারপ্রাপ্ত এবং দুই দিনের মাথায় স্বেচ্ছাসেবকলীগে ভারপ্রাপ্ত হয়েছে। আসলে এদশের মানুষ অপেক্ষা করছে অতিশীঘ্রই আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত হবে। তিনি বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে এদেশ থেকে ৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যা দিয়ে ২২টি পদ্মাসেতু করা যেতো। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে এদেশের মানুষের মুক্তির আলো হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ ছাড়া এ আলো কেউ নেভাতে পারবে না। তাই বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বলেন, এ আলো সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো ইনশায়াল্লাহ।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় আরো বক্তৃতা করেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মুশাররফ হোসেন, মীর কায়সেদ আলী, সাইফুর রহমান মিন্টুসহ খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তার আগে বিকেল ৩টা থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে খ- খ- মিছিলসহকাওে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে হাজির হন। এ সময় বিশাল জনসভায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেডি ঘোষ রোডসহ আশে-পাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ