ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আর নয় প্রেসক্লাবে এবার যা হবে রাস্তায় -গয়েশ্বর

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তারেক পরিষদ আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিযার সুচিকিৎসা এবং গণতন্ত্রের মুক্তি কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নেতাদের নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, নেতারা অনেক সময় নির্দেশ দিতে পারেন না। তাই বলে কর্মীদের বসে থাকলে চলবে না। ১৯৭১ সালেও নেতারা নির্দেশ দিতে পারেননি। তখন অখ্যাত একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেউ প্রশ্ন করেনি তুমি কে ঘোষণা দেওয়ার। সবাই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছিল। সুতরাং আর প্রেসক্লাবে নয়, যা হবে রাস্তায়।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল রুমে তারেক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাহেদুল ইসলাম লরেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, তারেক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) হানিফ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের এখন সময় হয়েছে রাস্তায় নামার। আদালতের মাধ্যমে নেত্রীর মুক্তি হবে না। এটা বুঝে গেছি। সুতরাং আপনাদের যদি প্রাণের দাবি ও আকাঙ্খাবোধ তীব্র হয় খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, তাহলে আপনারা প্রস্তুত হন। কারোও আশা ভরসার ওপর নির্ভর না করে। নেতা ডাকলো কি ডাকলো না সেটা দেখার দরকার নেই। আমার অধিকার আছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পথে নামার।
আর প্রেসক্লাবে আলোচনা করার সুযোগ নেই জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, আমাদের এখন সময় হয়েছে রাস্তায় নামার। আদালতের মাধ্যমে নেত্রীর মুক্তি হবে না, এটা বুঝে গেছি। সুতরাং আপনাদের যদি প্রাণের দাবি ও আকাক্সক্ষাবোধ তীব্র হয় খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, তাহলে আপনারা প্রস্তুত হন কারও আশা-ভরসার ওপর নির্ভর না করে। নেতা ডাকলো কি ডাকলো না সেটা দেখার দরকার নেই। আমার অধিকার আছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পথে নামার। আমি বিশ্বাস করি আমাদের নেতারা কিংবা দল নিশ্চয়ই বিষয়টা বিবেচনায় রাখবেন। বিষয়টা আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার নয় এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। দল ভুল করবে বলে আমি মনে করি না। আপনারা প্রস্তুত থাকেন। আর এ প্রেসক্লাবে নয়, যা হবে রাস্তায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন, উন্নত গণতন্ত্র দেবেন, দশ টাকা সের চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, কৃষকদের ফ্রি সার দেবেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আছে না- কেউ কথা রাখেনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কথা রাখেননি।
দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুদু বলেন, আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে হবে। রাস্তার আন্দোলন হবে কৌশলগত কারণে। আমরা কীভাবে রাস্তায় নামবো এবং কীভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এই পথটি আমরা বের করতে পারলেই সরকারের পতন হবে। আজকে বের করতে পারলে কালকেই সরকারের পতন হবে। কালকে বের করতে পারলে পরশুদিন তাদের পতন হবে।
তিনি বলেন, আপনি বলবেন একটা সরকার বানাবে আরেকটা। বাক স্বাধীনতা না থাকলে যা হয়। আপনি বলবেন একটা আপনাকে কারাগারে ঢোকানোর জন্য সরকার বানাবে অন্যটা। আমার পাশেই বসে আছেন আমার সহকর্মী তিনি এখন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন। তিনি বললেন, আইন-আদালতের এখন স্বাধীনতা নেই। এটা উনি বলছেন তা নয়, এটা এখন দেশব্যাপী নয় বিশ্বব্যাপী সবাই জানে।
সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে যথাযথ সম্মান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গতকাল আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। বিএনপির নাকি কোনো জনপ্রিয়তা নাই। গতকাল ঢাকা শহর ছিল বিএনপির ঢাকা শহর ছিল বেগম জিয়ার, ঢাকা শহর ছিল সাদেক হোসেন খোকার। সরকার তাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী এখন জেলখানায়। বাস্তবতা হলো আমাদের নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের অর্ডার নিতে হয়। কোর্ট অর্ডার দিলেও সরকার তার চিকিৎসা করছে না। এমন একটি সভ্য জাতি আমরা। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের আশ্রয় নিতে হয়। দেশের সকল মানুষ জানে তিনি খারাপ অবস্থায় আছেন। কিন্তু সরকার এবং পিজি হাসপাতালে ডাইরেক্টর বলেন তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ