ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইফাতে পুকুরচুরির ঘটনা

পরিশেষে সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় ধরা পড়ে প্রথম দফায় প্রায় ৩২ কোটি টাকা ফেরত দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম আফজাল। সোনালী ব্যাংক পাবলিক সার্ভিস কমিশন শাখায় উক্ত টাকা জমা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তিনি। এ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় শুরু হয়। গত ২৩ অক্টোবর চেক নং ১৪৬০৭০৮ মারফত উল্লেখিত টাকা ফেরত দেয়া হয়। একদিনেই এতো টাকা ফেরত দেবার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন সরকারের বিশেষ নিরীক্ষা দল। তাঁরা বলেন, সরকারের বিশেষ নিরীক্ষা দল না এলে এ অর্থ কখনই পাওয়া যেতো না। সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি পরীক্ষার জন্য সরকার একটি বিশেষ নিরীক্ষা দল প্রেরণ করে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কনট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ কার্যালয় থেকে এ নিরীক্ষা দল পাঠানো হয়। সিভিল অডিট বিভাগের এ নিরীক্ষা দল মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ৯-৭-১৯ থেকে ৮-৮-১৯ পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পের ডিপিপি, বরাদ্দ ও ব্যয়, ক্যাশবই, লেজার বুক ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে ৩১,৯৯,১৫,২২০ টাকার একটি বড় ধরনের ঘাপলা পায়। বিষয়টি নিয়ে ইফা ডিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এ টাকা ৬৪ জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে খবর নিলে দেখা যায় সেখানে এ টাকা প্রেরণ করা হয়নি। উল্লেখ্য, বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় সৃষ্টি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে গত ২৩ অক্টোবর মহাপরিচালক সামীম আফজাল একদিনেই উক্ত টাকা চেক নং ১৪৬০৭০৮ মারফত ফেরত দেন। চেকের টাকা চালান নং টি-৩১ তারিখ ৩১ অক্টোবর, আগরগাঁওয়ের সোনালী ব্যাংক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন শাখার সরকারি কোষাগারে জমা হয়। ইফা ডিজির টাকা ফেরতের ঘটনা যখন টক অব দ্য কানট্রিতে পরিণত, তখন আরও  খবর পাওয়া যায় যে, তিনি ৪১ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি টাকা ৩ টি চেকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন। এ নিয়ে দু’দফায় ফেরত টাকার পরিমাণ দাঁড়ালো ৭৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি। হ্যাঁ, চুরির অর্থ ডিজি সাহেব ফেরত দিতে শুরু করেছেন। মন্দ কী! তবে পত্রিকান্তরে প্রকাশ, তাঁর কার্যকালে ইফায় ৯০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি টাকার কী হবে কে জানে?
সাবেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা সামীম আফজাল বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচলক হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। রাতের বেলায় নিজের রুমে খাতায় লিখিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করানো, জাল সনদপত্রে চাকরি দেয়া, কোটা না থাকায় নিজের ভাতিজা ও ভাগ্নিকে ভিন্ন জেলার বাসিন্দা দেখিয়ে চাকরি প্রদানসহ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও ইফা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে কমিশন খাওয়া এবং ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভায় রুগ্ন ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ফার্মার্স ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা সাড়ে ২৯ কোটি টাকা ফেরত আনবার জন্য ডিজিকে চাপ দেয়া হলে তিনি তা টাকা ফেরত আনতে ব্যর্থ হন। এরপর প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা হ্রাস করা হয় তাঁর। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত চাকরি শেষে ২ দফায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান তিনি। এবছর ৩১ ডিসেম্বর তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবার কথা। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনেরও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। সেখানে কী করেছিলেন একমাত্র আল্লাহই জানেন।
সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। হয়তো ইফায় অভিযান তারই অংশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, ইফার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ডিজি অন্তত পোশাকে-আশাকে দরবেশরূপী মানুষটি তলেতলে এতো নিচ তা ভাবলে বিস্ময়ের অবধি থাকে না। আমরা আশা করি, ডিজি সাহেবকে শক্ত করে ধরলে বাকি টাকাও সরকারি কোষাগারে ফেরত আসতে পারে। আর এটা করতে হবে তাঁর চাকরিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার আগেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ