ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে ‘বুলবুল’ ॥ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে আজ মধ্যরাতে

চট্টগ্রাম : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। মাছ ধরার বোট ও লাইটার জাহাজ কর্ণফুলীর তীরে অবস্থান নিয়েছে

# ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছাস হতে পারে # সারাদেশে নৌচলাচল বন্ধ # সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে ১২ শ’ পর্যটক # সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল # সারাদেশে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি
স্টাফ রিপোর্টার : তীব্র সাইক্লোনে রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি আজ শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তীব্র সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে বুলবুল। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ৬ নাম্বার বিপদ সংকেত, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নাম্বার বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকর্মচারীদের ছুটি। বুলবুলের প্রভাবে সারাদেশে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের মতে, গতিবিধি ঠিক থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি আজ শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তিনি জানান, তীব্র সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে বুলবুল। সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট দিয়ে আঘাত হানতে পারে এটি। এর প্রভাবে ৭ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানতে পারে। বুলবুলের ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হচ্ছে। এই হুঁশিয়ারি সংকেত আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিদফতর।
ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ অধিকাংশ এলাকায় বিরাজ করছে মেঘলা আবহাওয়া, কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ির বৃষ্টিও হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর ও জেটিতে দুপুর পর্যন্ত পণ্য খোলাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও সংকেত বাড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেয়া হয়। বুলবুল নামটি নেয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মোটামুটি ঘণ্টায় ১২ কিলোমিটার গতিতে এগিয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ ঝড় শক্তি সঞ্চয় করতে থাকবে। এরপর সামান্য বাঁক নিয়ে উত্তরমুখী হয়ে এগোবে শনিবার সকাল পর্যন্ত। তারপর আরও বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার প্রথম প্রহরে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ আর বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝ দিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল হয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ হতে পারে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিনেও মোটামুটি একই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. মো. এনামুর রহমান। এরইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রলণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মনিটরিং সেলের সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।
এনামুর রহমান বলেন, এরইমধ্যে সাইক্লোন সেন্টারসহ উপকূলের আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সাইক্লোন সেন্টারে দুই হাজার প্যাকেট করে শুকনো খাবার ও নগদ পাঁচ লাখ করে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত যেকোন সময় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাতটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সকল জেলা, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। বুলবুলের কারণে উপকূলবর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ ১৩টি জেলায় ২ হাজার প্যাকেট করে মোট ২৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং প্রতি জেলায় ৫ লাখ টাকা করে অগ্রিম বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আটকা পড়েছে ১২ শ’ পর্যটক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে কক্সবাজার উপকূলে সতর্কতা সংকেত থাকায় গতকাল শুক্রবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার ৩ নম্বর সংকেত ঘোষণার পর বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে নোটিশ দেন।
এদিকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ১২০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ। তবে তারা নিরাপদ রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে রাত্রি যাপনের জন্য থেকে গেছেন। হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় তারা আটকে গেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত তাদের পরিচ্ছন্নভাবে হয়রানিমুক্ত আতিথেয়তা দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বলা আছে। আমি নিজেই রাতে এবং সকালে হোটেলগুলোতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে পর্যটকদের আতঙ্কিত না হতে আশ্বস্ত করেছি।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুতল কয়েকটি হোটেল রয়েছে। কঠিন দুর্যোগ বা জলোচ্ছ্বাস হলেও আটকে পড়া পর্যটকদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সংকেত বাড়লে আমরা তাদের এসব স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব।
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে চলাচলকারী কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজের ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত ওঠার পরই শুক্রবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল স্থগিত করে দেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে সংকেত বেড়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তাই জাহাজ সেন্টমার্টিনের পথে যায়নি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে এখন সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধসহ সমুদ্রে সকল ধরণের নৌযানকে নিরাপ আশ্রয়ে আসতে বলা হয়েছে।
সারাদেশে নৌচলাচল বন্ধ : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে সারাদেশের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বি আইডব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। গতকাল শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বি আইডব্লিউটিএ’র ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক (ট্রাফিক) আলমগীর কবির এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘৭ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণা করার পর আমরা সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনও নৌযান চলবে না।’
বিআইডব্লিউটিসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মাওয়া ফেরিঘাটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বন্ধ করা হবে। তবে আরিচায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক আছে।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নভেম্বর মাস আসলেই উপকূলীয় মানুষের ভিতরে ঘুর্নি ঝড়ের আতংক বিরাজ করে। শুক্রবার ভোর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া বইছে কলাপাড়াসহ সাড়াদেশে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় মাছ শিকার বন্ধ করে শত শত মাছ ধরা ট্রলার মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলিপুরে আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার ভোর রাতে সাগর থেকে ফেরার পথে এফ.বি.মা কুলসুম ট্রলার থেকে সাগরে পড়ে যায় বেল্লাল হোসেন (৪০) নামের এক জেলে। তিনি এখন নিখোঁজ রয়েছে। পায়রা বন্দরকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বৃহস্পতিবার রাতে দূর্যোগ প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান। সভায় উপজেলার সকল আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাসহ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
মা কুলসুম ট্রলারের মাঝি মো. হারুন জানান, ট্রলারে ১৫ জন জেলে ছিলো। জেলে বেল্লাল হোসেন ট্রলারের পিছনে দাড়ানো ছিলো। ভোর রাতে হঠাৎ ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলার থেকে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সাগরে পড়ে গিয়ে মূহুর্তের মধ্যে ভেসে যায়। তাৎক্ষণিক আমরা চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সৈকতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় দূর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকরা যাতে গোসল করতে না নামে এজন্য তাদের তীরে থাকার জন্য বলা হয়েছে কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে।
মহিপুর থানার ওসি মো. সোহেল আহমেদ জানান, ট্রলার থেকে এক জেলে সাগরে পড়ে যাওয়ার খবর তিঁনি পেয়েছেন। সাগর উত্তাল থাকায় এখনও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পিরোজপুর সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শুক্রবারও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। জেলা জুড়ে গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুতের আসা যাওয়া লুকোচরি খেলায় জনজীবন আরও বিষিয়ে উঠিয়েছে। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা সংক্রান্ত এক জরুরী সভা করেছেন জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। এসময় দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নাজিরপুর (পিরোজপুর )সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’য়ের প্রভাবে পিরোজপুরের নাজিরপুরে গতকাল শুক্রবার ভোররাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে বৃষ্টি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সকাল ১১টার দিকে বৃষ্টির পরিমান বেশ জোরালো হতে দেখা যায়। উপজেলার সাধারণ লোকজনের চলাচল খুবই কম। আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় মানুষের মধ্যে বেশ আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বরের সিডরের দিনে এমন আবহাওয়া দেখা গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।  এব্যাপারে নাজিরপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইসরাফিল জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৪১টি ঘুর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ঘুর্নিঝড় মোকাবেলা করতে শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে এক প্রস্তুতি মিটিং করা হয়েছে। উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন মসজিদসহ সরকারি উদ্যোগে সচেতনতামূলক ও স্থানীয় ঘুর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার অনুরোধ করে মাইকিং করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ