ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জাবিতে বিরতিহীন আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা/সাভার সংবাদদাতা : দুর্নীতির অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এদিন দাবি আদায়ে প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে ক্যাম্পাসে। সকাল থেকে ক্যাম্পাসের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর সড়কে শুরু হয় প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন।
জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রশাসনের ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসময় অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা এবং হামলা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসির বাসভবন ঘুরে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে ফের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসময় স্লোগান দেন, ‘গেট আউট, গেট আউট, ফারজানা গেট আউট; ‘অবাঞ্ছিত ভিসি- ছি! ছি!; ‘এক দফা এক দাবি, ফারজানা তুই কবে যাবি; ‘ফারজানার বিরুদ্ধে, গড়ে তুলি আন্দোলন।
সমাবেশে আন্দোলনকারী সংগঠক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে আমরা অনেক বার তদন্ত করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আসতে বলেছি। কিন্তু তার সেই মেরুদন্ড নেই। তিনি তদন্তের দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো ছাত্রলীগ দিয়ে আমাদের উপর হামলা করলেন। ভিসিকে বলতে চাই আপনি আপনার চেয়ারটা ছেড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে সাহায্য করুন। নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থার দায় আপনার উপর যাবে।'
আন্দোলনকারীদের নেতা শাকিলুজ্জামান বলেন, ভিসির পদত্যাগ কিংবা তাকে অপসারণ করা না পর্যন্ত জাবি কলঙ্কমুক্ত হবে না। তাই ছুটির দিনেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভির্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতিকর পরিবেশ বানিয়ে রেখেছেন। হল থেকে শুরু করে দোকান পাটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কোনো কিছুই আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না।"
ভিসি ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠানো হবে বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ভিসির অপসারণ দাবিতে গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরেরদিন মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় ভিসি সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভিসিকে বাসা থেকে বের করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে আসেন।
এ সময় ভিসি সমর্থক শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক-বিত-া চলতে থাকে। এর মধ্যেই পৌনে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে বুধবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সালাম সাকলাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের দোকানপাটও বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করেন, এই সময়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো শিক্ষার্থীর অবস্থান সমীচীন নয়।
বুধবার রাতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচি শুরু হয় সকাল নয়টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে। এছাড়া সন্ধ্যা ছয়টায় ভিসির বাসভবনের সামনে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ