ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বেতন ভাতা না দিয়ে পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই ও মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি

গতকাল শুক্রবার জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা। চালু থাকা অনেক কারখানার অবস্থাও খারাপ। পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই, ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দেয়া, নির্যাতন, কালো তালিকা তৈরিসহ পোশাক শিল্পে চলছে নানা ধরনের অস্থিরতা। এ অবস্থায় রাস্তায় নামতে শুরু করেছে পোশাক শ্রমিক ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নগুলো। বেতন ভাতা না দিয়ে পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি পোশাক শ্রমিক ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো-বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। 
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শত শত পোশাক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ, পতাকা র‌্যালি ও মানববন্ধন করেছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, মো. শাজাহান, জালাল হাওলাদার প্রমুখ। 
রাজধানীর দক্ষিণখানের চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতসহ ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা এবং হামলা-হুমকি-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। একই সময় শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ এবং শ্রম আইন ও বিধিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি। এছাড়াও আইএলও কনভেনশন ১০২ এবং ১৯০ বাংলাদেশ সরকারের অনুস্বাক্ষরের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই সঙ্কট কাটাতে হলে আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে। লড়াই করতে হবে। এছাড়া আমাদের এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই।
শ্রমিক ঠকানো ও নির্যাতনের আইন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিক ঠকানোর ও নির্যাতনের আইন বন্ধ করুন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেন। ট্রেড ইউনিয়ন করলে গার্মেন্টস সেক্টরের উৎপাদন বাড়বে। গার্মেন্টস সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। যেসব কারখানায় বিভিন্ন কারণে সঙ্কট চলছে, শ্রমিকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্যাতন করা এবং তাদের ঠকানো হচ্ছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। 
সংগঠনের আরেক নেতা বলেন, সরকার ও মালিক পক্ষ উভয়ে মিলেই এই চেষ্টা চালিয়েছে যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন দেয়া যাবে না। সরকার ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) উদ্দেশ করে বলতে চাই, আপনারা যদি এই পায়তারা করেন, তার জবাব শ্রমিকরা দেবে। 
বাংলাদেশ সরকার এ দু’টি কনভেনশনে স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত প্রচারণা কর্মসূচি চলবে বলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা বলছেন, বাংলাদেশ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও গড় আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। জিডিপি বৃদ্ধির হালে সবচেয়ে বেশি অবদান তৈরি পোশাক শিল্পসহ দেশের শ্রমিকদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশনের ১০২ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর এখনও করেনি সরকার। ফলে পোশাক শিল্পেরসহ সব শ্রমিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। যৌন নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে নারী পোশাক-শ্রমিকরা। আইএলও কনভেনশনের এই দুই ধারায় অনুস্বাক্ষর ও নারী পোশাক-শ্রমিকদের যৌন নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ