ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

‘ভিসির দুর্নীতি প্রমাণ করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়’

সংগ্রাম ডেস্ক : ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ করা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এর ভিসির পদত্যাগ দাবি করা আন্দোলনকারীরা। গতকাল শুক্রবার  রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণ ও শাস্তি চাই’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ মন্তব্য করেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিকরা ওই সমাবেশের আয়োজন করেন।
বক্তারা বলেন, ‘‘ফারজানা ইসলামের দুর্নীতি প্রমাণ করা তো শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব না। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় রয়েছে। এটি তাদের দায়িত্ব। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নাকি দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে।’ তাহলে প্রশাসন যে বেতন নিচ্ছে তাদের দায়িত্ব কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন তো শিক্ষার্থীরা নেয় না। তাই দুর্নীতি প্রমাণ করা তাদের কাজও না। এর দায় হলো সংশ্লিষ্টদের।’’
বক্তারা আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের এই দুই নেতা যে ফারজানা ইসলামের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন, সেটাই বড় প্রমাণ। এর জন্য ওই দুই নেতা তাদের পদও হারিয়েছেন।’
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে।’ কিন্তু, অভিযোগকারী তো ছাত্রলীগের নেতারাই। যদি শাস্তি দিতে হয়, তাহলে ছাত্রলীগের নেতাদের দিতে হবে। ছাত্রলীগের নেতারা যখন অভিযোগ করেন, কেবল তখনই জনগণ জানতে পারেন এখানে বড় ধরনের একটা দুর্নীতি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, দুর্নীতি তদন্ত করা হোক। আমি নিজেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু, তা তদন্ত করা হয়নি। ভিসি যদি মনেই করেন তিনি দুর্নীতি করেননি, তাহলে তদন্ত কমিটি করতে তার অসুবিধা কোথায়। এখন প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগকারীদের ওপর ভীষণ রাগ। আপনি তো তদন্ত কমিটি তখনই গঠন করতে পারতেন এবং তা যদি সত্যি হতো তাহলে আন্দোলন এই পর্যন্ত আসতো না। তদন্ত কমিটি গঠন না করায় আন্দোলনটা আস্তে আস্তে ভিসিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।’
ড. আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি-বিরোধী আন্দোলন কেন হচ্ছে? এর কারণ হলো, ভিসিদের নিয়োগ দেয় সরকার। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না, এই ভুলটি প্রধানমন্ত্রীর মাথায়ও শক্তভাবে গেঁথে আছে। তিনি মনে করেন, এগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জনগণের অংশগ্রহণ থাকে। তাদের কাছে জবাবদিহি থাকতে হয়। এখানে সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ভিসিদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একজনও নির্বাচিত ভিসি নেই। এগুলোতে সরকার চাকুনির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়। এ কারণে তারা সরকারের কোনও কথায় প্রশ্ন তোলেন না। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না যারা, তারাই ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। যার ফলে সরকারের কথামতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিসিদের মতপার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে। পরে সেটা আন্দোলনে রূপ নেয়।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রম ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক গোলাম মোরশেদ মিলন, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ