ঢাকা, শনিবার 9 November 2019, ২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

এখনো লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার

স্টাফ রিপোর্টার: গত দু’তিন সপ্তাহ ধরে  পেঁয়াজের ঝাঁঝে মানুষ অতিষ্ঠ। সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়ার পরও এখনো লাগামহীন  পেঁয়াজের বাজার। একশ টাকার কমে  পেঁয়াজ কেনা সম্ভব নয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এদিকে সবজির দাম কিছুটা কমলেও এখনো বেশকিছু সবজির দাম নাগালের বাইরে। আর চাল-ডাল ও তেলসহ অন্যান্য মুদি পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪৫-১৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি আমদানি করা ভারতীয় (বড়) পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।
এদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেলে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি ট্রাকসেলে অব্যাহত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রাকসেলে বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। তবে টিসিবি থেকে  পেঁয়াজ নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন ধরে দাড়িঁয়ে থেকে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আগে জনপ্রতি দুই কেজি পেয়াঁজ দেয়া হতো কিন্তু এখন জনপ্রতি এক কেজি  পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে।
গতকাল রংপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা চেষ্টা করছি। তবে পেঁয়াজ ১০০ টাকার নিচে পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই। এ মাসের শেষের দিকে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কমবে। তার আগে হয়তো সম্ভব হবে না। মিশর থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসার কথা। সেটা আসলেও দাম একটু কমতে পারে বলে মনে হয়।
তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে আমরা মূলত পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। সেখানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। সেখানেই পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে কিনতে হবে। আমাদের দেশে আসার পর তা ১০০ টাকা দর পড়ে যাবে। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে আপাতত কোনও লাভ নেই। পেঁয়াজের বাজার মনিটরিং করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
রাজধানীর কাঁচা বাজারে দেখা যায়, বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। তবে এখনও বাড়তি রয়েছে টমেটোর দাম। বাজারে খুচরা প্রতিকেজি মানভেদে টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ও উস্তা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৪০ টাকা, শসা (দেশি) ৫০ টাকা, ক্ষিরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, জালি কুমড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
প্রতিআঁটি লাল শাক ৭ থেকে ১০ টাকা, মূলা শাক ৮ থেকে ১২ টাকা, পালং শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, কুমড়া শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, লাউ শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশ। দামও বেশকিছু কম। এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। শিং ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা, হরিনা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে গোশতের বাজারে প্রতিকেজি বয়লার মুরগী ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লেয়ার ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম প্রতিডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, সাদা ৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, মহিষ, খাসি  গোশত, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম।

প্রতিকেজি ৮০ / ৮৫ টাকা
পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিলো
শ্যামবাজার বণিক সমিতি
গতকাল শুক্রবার থেকে নিজেদের বেঁধে দেওয়া মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে শ্যামবাজার বণিক সমিতি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি করবেন। এছাড়া মিশর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজের কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ও রসুন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, শুক্রবার থেকে শ্যামবাজার বণিক সমিতির বেঁধে দেওয়া দামে আমরা পেঁয়াজ বিক্রি করব। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া মূল্যে বাজারের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বিক্রি করবেন।
জানা গেছে পেঁয়াজের মূল্য কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শ্যামবাজার বণিক সমিতি পাইকারি ব্যবসায়ীদেরকে একটি মূল্য তালিকা দিয়েছে। বেঁধে দেওয়া মূল্যের বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ