ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

পেরুতে ইনকার চেয়েও পুরনো সভ্যতার সন্ধান লাভ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার পেরু দেশটার কথা বললে প্রথমেই মনে পড়ে যায় ইনকা সভ্যতা আর তাদের দেশ মাচু পিছুর কথা। ইনকাদের সঙ্গে মিশরীয়দের বেশ মিল ছিল। ইনকারাও শবদেহ মমি করে রাখত, তারাও ছিল সূর্যের উপাসক। দীর্ঘদিন তাদের সন্ধান জানত না ইউরোপ।

অতি সম্প্রতি গবেষকরা এক বিশাল সভ্যতার সন্ধান পেয়েছেন এই পেরুতেই, তাঁরা মনে করছেন, বয়সের বিচারে এই সভ্যতা ইনকাদের চেয়েও পুরনো।

আন্দিজ পর্বতের যে অংশ এখন পেরুর মধ্যে রয়েছে, সেখানেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, এই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩,০০০ ফুট উপরে বসতি ছিল। তবে গবেষকরা অবাক হয়েছেন, এখানে একটি দুর্গজাতীয় নির্মাণ দেখে যা মাচু পিছুর চেয়েও পুরনো। এই জায়গা থেকে নানা ধরনের পুরাতাত্ত্বিক  নিদর্শন পেয়েছেন গবেষকরা।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের অভিযাত্রী অ্যালবার্ট লিন এবং অ্যাডান চেক আরসে ও টমাস হার্ডি নামে দু’জন পুরাতত্ত্ববিদ এই আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কারের জন্য তাঁরা লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং প্রযুক্তি (লি-ডার) ব্যবহার করেছিলেন।

নতুন খুঁজে পাওয়ার জায়গাটির নাম ওয়াট’আ, স্থানীয় ভাষায় যার অর্থ হল দ্বীপ। এই ‘দ্বীপ’টি গর্ব ও ইতিহাসের মাচু পিছুর চেয়েও পাঁচ হাজার ফুট উপরে অবস্থিত। পুরাতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, ইনকারা আসার আগে ইনকা-পূর্ব (প্রি-ইনকা) লোকজন এখানে এসেছিল, তারাই শহরটি গড়ে থাকতে পারে।

লি বলেন, “ব্যাপারটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। জায়গাটা ১৩,০০০ ফুট উপরে, পুরোটাই খোলা জায়গা, গাছ ছাড়া আর কিছু নেই, উপরে খোলা আকাশ। মানে সূর্য যতক্ষণ থাকত, তারা ততক্ষণই সূর্যের আলো পেত।”

পরে তিনি বলেন, “ওখানে যদি ওঠেন তাহলে এক অপরূপ দৃশ্য দেখতে পাবেন – চারদিক পর্বতরাজি দিয়ে ঘেরা – সত্যিই অনবদ্য। যতগুলো বাণিজ্যপথ হতে চলেছিল, সেই সবক’টি পথই সুস্পষ্ট ভাবে দেখা যাবে এখান থেকে। হতে পারে সেই সব পই ছিল গিয়েছিল সেই জায়গায়, যে জায়গাটিকে আমরা এখন মাচু পিছু বলে জানি।”

কোনও পুরাতাত্ত্বিক স্থান আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে যে সব প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রে সে সব ব্যবহার করে আগেও এর কাছাকাছি জায়গায় বহু নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে সমাধিস্থল, উৎসব পালনের জায়গা, আবাসন ও পুরো এলাকা ঘিরে থাকা প্রাচীর। তবে অরণ্যে ঢেকে থাকা অংশের নীচে কী রয়েছে তা বোঝার জন্য অত্যাধুনিক লি-ডার প্রযুক্তির সাহায্য নেন গবেষকরা। আসলে এই জায়গায় প্রকৃতি এমনই যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা ছাড়া অন্য তেমন কোনও উপায়ও ছিল না।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাছপালা-মাটি এসব ভেদ করে দৃষ্টি পৌঁছে যায় অনেক ভিতরে। তারপরে সেই প্রযুক্তির সাহায্যেই আঁকা হয় চাপা পড়ে থাকা জায়গার ছবি বা ইমেজ।

এই জায়গার প্যানোরমিক ছবি দেখার জন্য ড্রোনের সাহায্যে লি-ডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ