ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জানা গেল ট্রেন দুর্ঘটনার 'আসল কারণ'

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবার মন্দভাগে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী তূর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেসের সংঘর্ষের ঘটনার 'আসল কারণ' জানা গেছে।

তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অপু-দে অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের এমন গাফিলতির কারণে রেলওয়ের স্মরণকালের ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তূর্ণার দায়িত্বরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অপু-দে অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।

তিনি বলেন, ট্রেন অটো ব্রেক সিস্টেমে চলে। ট্রেন তখনই চলে যখন ওই ব্রেক সিস্টেমে পা বা অন্য কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়। ব্রেকে চাপ না দিলে ট্রেন চলে না। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় পৌঁছার আগেই ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তূর্ণার চালক ও সহকারী।

নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, তূর্ণা নিশীথা বিরতিহীন ট্রেন। মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা। অথচ তূর্ণাকে সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল।

হতাহতের ঘটনায় তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমাস্টার তাহের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু-দে ও গার্ড আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ চালকের অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন।

মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, আউটার ও হোম সিগন্যালে লালবাতি (সতর্ক সংকেত) দেয়া ছিল। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১০ এবং হাসপাতালে নেয়ার পর ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন ৭৪ জন। সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের লুপলাইনের মুখে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মন্দবাগ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ