ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসার অবস্থা তৈরি হয়েছে: ফখরুল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি থেকে নয়, এখন আওয়ামী লীগ থেকে আমাদের এখানে আসার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আজ (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও মোনাজাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি বিএনপি থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান পদত্যাগ করেছেন। আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দল ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির কেউ আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিএনপির অনেক নেতাই দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য বহুদিন ধরেই চিন্তা ভাবনা করছেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে যে যোগাযোগ করছেন না তা নয়। আওয়ামী লীগ কিন্তু যাকে তাকে দলে নেয়ার জন্য বসে রয়নি। আওয়ামী লীগ একটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা দল। আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাইলেই সবাইকে নেয়া হবে না।'

হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আজ বিএনপি মহাচিব মির্জা ফখরুল বলেন, 'আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে তারা দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তারা কাজ করছে।'

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা পদত্যাগ করেছেন, এটা আপনাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। এর আগে আমি জানতাম না।

‘দলে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য নেতারা চলে যাচ্ছেন। কারণ বাইরে থেকে তারেক রহমান দল চালাতে পারছেন না’- এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ কথা বলে ওনারা অভ্যস্ত। কারণ তারা নিজেদের দল সামলাতে পারছেন না। প্রতিদিন যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে পরস্পর মারামারি করছেন। নিজেদের পতন ঢেকে রাখার জন্য তারা অহেতুক মিথ্যা কথা বলছেন।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় স্বাধীনতার যে চেতনা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, পরবর্তীকালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, সেই স্বৈরাচারকে সঙ্গে নিয়ে তারা সরকার গঠন করেছিল। পরবর্তীতে ভোট ডাকাতি করে তাদের নিয়ে সংসদে গেছে। তাদেরই মহাসচিব কয়েকদিন আগে গণতন্ত্রকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি আমাদের প্রিয় নূর হোসেন, যিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক ছিলেন, তার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যে কথা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে পুরোপুরি অপমান করা, দেশের গণতান্ত্রিক মানুষকে অপমান করা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। আমরা মনে করি প্রকাশ্যে, সংসদে সব জায়গায় তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।'

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ