ঢাকা, শুক্রবার 15 November 2019, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

শুকনা মওসুম আসছে॥ নদীর পানি বণ্টনের খবর নেই

এইচ এম আব্দুর রহিম: শুষ্ক মওসুমের শুরুতে ভারতের ফারাক্কা ও তিস্তা ব্যারেজের বিরূপ প্রভাবে অর্থাৎ একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করার ফলে উত্তরাঞ্চলের ১৮০০ কিলোমিটার নৌপথ নব্যতা হারিয়ে নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাব্যতা হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার ৫৬টি নৌরুট, বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকার কোটি কোটি মানুষ। তিস্তায় এবার গ্রীষ্মে কোন পানি নেই। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারেজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে এবার তিস্তার পানির তলানি প্রবাহ আসে ৩৫০ কিউসেক। এর ফলে ১০,০০০ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা সেচ খালে যৎসামান্য পানি দেয়া হয়। তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে মূল নদীতে কোন পানি ছাড়া হয়নি। ফলে ১০০ থেকে ২০০ কিউসেক পানি বয়ে যায়। অথচ এক সময় শীতের সময় এই নদীতে ১০,০০০ কিউসিক পানি থাকত। এছাড়া মার্চ এলেই এ নদীর প্রবাহ বেড়ে যেত। দেখা যায় ১৯৭৮-৭৯ সালে পানি প্রবাহ ১৪ হাজার কিউসেক। বাংলাদেশ ভারতের অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু বন্টনের ১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। ঐ সালেই তিস্তা পানি বন্টনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভারতের গজল ডোবা তিস্তা ব্যারেজ চালু করার আগে ১৯৮৩ একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে কথা হয়। যাতে ২৫% পানি রেখে পুরোটা ভাগ করার কথা ছিল ভারতের তিস্তা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা হল ৯.২২ হেক্টর। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে ডালিয়াতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬.৩২ লাখ হেক্টর। ১৯৯৬ সালে ১২ ডিসেন্বর গঙ্গা পানি চুক্তির বিষয়টি উঠে আসে।

বাংলাদেশ গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির ন্যায় তিস্তার ঐতিহাসিক প্রবাহের ভিত্তিতে চুক্তি করে তা প্রস্তাব করে। তবে গঙ্গা নদীর ঐতিহাসিক প্রবাহ ১৯৪৮ সাল থেকে ধরা হলে তিস্তার বেলায় ১৯৭৩ সাল থেকে ধরার প্রস্তাব করা হয় এবং প্রবাহের বেলায় ফারাক্কার উজানে ধরা হলেও তিস্তার বেলায় গজলডোবা ভাটিতে দোমোহনী সেতু ধরা হয়। তিস্তা নদীর পানি বন্টনের বিষয়ে ভারতের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন রকমের। তারা বলে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ভাটিতে এবং বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে নদীর জন্য পানির দরকার নেই। বাংলাদেশ ভারতের সেচ প্রকল্পের এলাকা হিসেবে (১,১১ লাখ হেক্টর: ৫,৪৬ লাখ হেক্টর) বাংলাদেশ ভারত ১:৫ হারে পানি ভাগ পাবে। লক্ষ্যণীয় যে, ভারত এ পর্যন্ত ১.২০ লক্ষ এলাকার সেচ প্রসারিত করলেও তিস্তার পশ্চিম তীরে পুরো এলাকা ধরে হিসেব দেয়। বাংলাদেশের বেলায় শুধু সেচ এলাকার হিসেব ধরে। যা হোক ১০ই জানুয়ারি ২০১১ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে, বাংলাদেশ ন্যূনতম ৮০০০ কিউসেক এবং ভারত ২১০০০ কিউসেক দাবী করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেছিলেন, আমরা জানি না তিস্তায় কি পরিমাণ পানি আসছে। শোনা গিয়েছিল তিস্তার পানি মাপার জন্য ১৭ বছরের চুক্তি হচ্ছে। চুক্তির বিষয়টি আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা গুগল আর্থেও ছবিতে তিস্তার পানি মহানন্দায় নেবার দৃশ্য সহজে দেখতে পাই। বাংলাদেশকে শুকিয়ে এই দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ভারত এভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে ভারত সব গেটগুলো খুলে দেয়। তীব্র বেগে পানি ধেয়ে এসব বাংলাদেশের অভ্যন্তরের জনপদগুলো প্লাবিত করে দেয়। পানির তোড়ে ভেসে যায় নি¤œাঞ্চল। উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা বন্যা কবলিত হয়। প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে বিপদ সীমানার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, মহানন্দা, গড়াই, কপোতাক্ষ নদের পানি। ভারত উজানে স্থায়ীভাবে গঙ্গানদীতে ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তার গজল ডোবা বাঁধ, মনু নদীতে নলকাঁথা বাঁধ, খোয়াই নদীর উপর চাকমা ঘাট বাঁধ, বাংলা বন্ধে মহানন্দা নদীর উপর বাঁধ, গোমতি নদীর উপর মহারাণী বাঁধ এবং মুহুরি নদীর উপর কসসি বাঁধ নির্মাণ করে শুষ্ক মওসুমে পানির নায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে বছরের পর বছর। এছাড়া ১৫টি নদীর উপর ভারত কাঁচা বাঁধ নির্মাণ করেছে। বর্ষার সময়ে এসব অস্থায়ী বাঁধ কেটে দেয়া হয়। ভারতের এই পানি আগ্রাসীর কবলে পড়ে শুষ্ক মওসুমে দেশের নদ নদীগুলো পানি শূন্য হয়ে পড়ে। আর বাংলাদেশকে ভাসানো হয় পানি দিয়ে। এছাড়া সীমান্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভারত পরিকল্পিতভাবে স্থাপনা তৈরি করে বাংলাদেশ অংশকে ভাঙ্গনের সৃষ্টি করেছে ভারতের কবলে পড়ে শত শত কোটি টাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৪ সালে মুজিব ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত নদীর ভাঙ্গনে পড়ে ওপারে জেগে উঠে ভূমি আর ভারত কখন ফেরত পাবে না বাংলাদেশ। বিগত ৪৭ বছরে এভাবে বাংলাদেশ ৫০ হাজার বিঘা জমি হারিয়েছে। কিন্তু দেশের মূল্যবান জমি ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে ভারত আপত্তি জানায়। এসব জানার পর ও সীমান্ত ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরি কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। জানাযায়, সীমান্ত ঐলাকা থেকে বালি কেটে নিয়ে যাওয়ায়। সুরমা, কুশিয়ারা, মনু খোয়াই ধরলা, দুধ কুমার, মাতা মুহুরি, আত্রাই, তিস্তা পদ্মা গঙ্গা, ইছামতি নদরি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার প্রশাসনিক এলাকায় বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ তালপট্টি নামে যে ভূখন্ডটি জেগে উঠেছে সেটি রোয়েদাদ অনুযাযী সেটা বাংলাদেশের অংশ হলে ও সামরিক শক্তির জোরে ভারত অপদখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দক্ষিণ তালপট্টি নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের অংশ বা ভূখন্ড। মরহুম জিয়াউর রহমানের আমলে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের দক্ষিণ তালপট্টির ওপর তার সার্বভৌম দাবি করে। আন্তর্জাতিক আদালতে সঠিকভাবে বাংলাদেশের দাবী উত্থাপন করতে না পারায় তালপট্টি দ্বীপ এখন ভারতের হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দক্ষিণ তালপট্টিকে ‘নিউ মুর দ্বীপ’ এবং পূর্বাশা নামে নামে অভিহিত করে তাদের বলে দাবি করে আসছিল ১৯৮১ সালে ভারত সেখানে সর্বপ্রথম পতাকা উড়ায় এবং একটি অস্থায়ী বিএস এফ ক্যাম্প স্থাপন করে। এই অগভীর স্থানে ২৫ থেকে ৩০ বর্গমাইল বিশিষ্ট ভূমি জেগে উঠার সম্ভবনা রয়েছে। দক্ষিণ তালপট্টি আয়তনে ক্ষুদ্ররাষ্ট্র বাংলাদেশের অংশ হলে বিপুলাকার ভারত মানতে রাজী নয়। ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদের উপর ভারতের আগ্রাসী তৎপরতার অবসান ঘটেনি। একই চিত্র আমরা বঙ্গোসাগরের সমুদ্র সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি। খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে ও আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ভারত বন্ধুসুলভ সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে তাদের আধিপত্য চেহারাটাকেই স্বাধীনতা উত্তর সাতচল্লিশ বছর ধরে দেখিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট বড় ৫৪টি নদীর অধিক আন্তর্জাতিক নদীর উজানে রয়েছে ভারত। 

ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা নিজেদের ইচ্ছামত অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি অপসারণ করছে অথবা পানি আটকে দিচ্ছে। ভারতের হুগলি নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়, যার অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ১৮ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখন্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে। গত চার দশকের ও বেশী সময়ে এই বাঁধ গঙ্গা অববাহিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিবেশবাদিরা বাঁধটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই বাঁধের কারণে বর্ষার মওসুমে বাংলাদেশে উত্তর পশ্চিমের বেশ কিছু জেলা ও বন্যা ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। শুষ্ক মওসুমে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নদী ও পানি রক্ষা কমিটির নেতারা। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি শুকিয়ে পলি জমতে। বিবিসি বাংলা জানায়, ফারাক্কা বাঁধের কারণে নদী তার স্বাভাবিক গতি আর নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। এর চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি, মৎস্য চাষ, নৌ পরিবহন সর্বোপরি আবহাওয়ার ওপর যা পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনছে।

অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ বহু পুরানো। এটি বেশী উচ্চারিত হয় গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজকে ঘিরে। শুকনা মৌসুমে এই ব্যারজ দিয়ে পানি আটকে দেয় ভারত। বর্ষা মওসুমের সব ব্যারাজের সব ফটক খুলে পানি ছেড়ে দেয় বাংলাদেশের দিকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু মানুষ লিখেছেন, এবার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, তার জন্য ভারত দায়ী। বাংলাদেশের পানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এ জন্য অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দায়ী। কেউ কেউ আবার এমনও বলেছেন, বৃষ্টির পানি ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে আটকে ভারতে কেন নিজের ক্ষতি করবে? সাদা চোখে দেখলে দুটো বক্তব্যই সত্যি। শুকনা মওসুমে ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে যেভাব পানি আটকে রাখা হয় তা বর্ষা মওসুমে করা হলে বাংলাদেশে এতটা বন্যা হতো না। কিন্তু গঙ্গা চুক্তিতে এমন বিধান তো আসলে নেই। চুক্তিতে শুকনা মওসুমে অল্প পানি ‘ন্যায়সংগতভাবে’ ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা বাংলাদেশ ভারত করেছে। কিন্তু বর্ষা মওসুমে বেশী পানির বোঝা দুই দেশ ন্যায়সংগতভাবে বহন করবে এমন কোন বিধান গঙ্গা চুক্তিতে নেই। সমস্যাটা রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের চুক্তিগুলোতে।

 ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যতগুলো চুক্তিতে হয়েছে, তাতে দুই দেশের মধ্যে বছরে মাত্র পাঁচ মাসের (জানুয়ারী থেকে মে মাস) পানি ভাগাভাগির কথা বলা হয়েছে। ভরা মওসুমের পানি অতিকায় প্রকল্পের মাধ্যমে ধরে রেখে বন্যার প্রকোপ কমানো এবং তা শুকনা মৌসুমে ব্যবহার করার চিন্তা এসব চুক্তিতে ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির ধরন কি হবে, কোথায় এটা হবে এতে নেপাল কে সংযুক্ত হবে কি না, এসব বিরোধে এটা বাস্তবায়ন হবে কিনা, এসব বিরোধে এটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ভরা মওসুমে ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে অবাধে আসা বন্যার তোড় অনেক বেশী বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় ডুবে গেছে বসতবাড়ী। পোষা ছাগল নিয়ে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে কয়েকটি পরিবার। বহু বছর ধরে শুকনা মৌসুমে গঙ্গা বা খুব কম পানি পেয়ে বাংলাদেশের নদী কেন্দ্রকি ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের বড় ধরনের বড় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতিটা ফারাক্কা ব্যারেজ না থাকলে হতো না। বর্ষা মওসুমে বাংলাদেশের পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোর গতি পথ ও গভীরতা তখন প্রাকৃতিকভাবে নির্ধারিত হতো। 

প্রকৃিতকে নিজের মতো চলতে দিলে বন্যার ক্ষতির চেয়ে লাভ হয়তো বেশী হতো বাংলাদেশের। ভারত বাংলাদেশের গঙ্গা চুক্তিগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে চুক্তির ধারাগুলো অববাহিকা ভিত্তিক নয়। বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে নদীকে যৌথ সম্পদের বিবেচনা করে অববাহিকার সব রাষ্ট্র মিলে সম্বন্বিতভাবে এর উন্নয়ন, ব্যবহার ব্যবস্থাপনা করে থাকে। লক্ষ্য থাকে যে কোন দেশকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, নদীর পানির টেকসই ব্যবহার করা এবং নদীটির এর প্রতিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা। 

ভারত বাংলাদেশের ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে এর বহু কিছু করা হয়নি। এতে নেপালকে রাখা হয়নি। এমনকি উত্তর প্রদেশ বিহারে গঙ্গার পানি ব্যবহার কে সমন্বিত করা হয়নি। এসব রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের আগার পানি এক তরফা ব্যবহারের পর লেজের অংশে থাকা অবশিষ্ট পানি ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পানি বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় নিদারুণভাবে কম। শুষ্ক মওসুমে কম পানি পাওয়ার কারণে জিকে প্রকল্পসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ কাজ দারুলভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাণিবৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারাত্মকভাবে। এছাড়া নি¤œ অববাহিতায় সমুদ্রের লোনা পানি আর ও ভেতরে ঢুকে নানা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। কয়েক দশক যাবৎ বাংলাদেশ চিন্তা করছে এই ক্ষতি এড়াতে বাংলাদেশ একটি গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ করবে কি না। এর ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে বছর পাঁচেক আগে। অথচ গত মাসে ভারতের সচিব এসে বলেছেন, এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আগে দেখতে হবে। এক. প্রকল্পে ভারতের যাতে কোন ক্ষতি না হয়। দুই. প্রকল্পে লাভ হলে কার একটি অংশিদার ভারতকে করা যায় কিনা। এসব বিষয়ে রাজি হয়ে বাংলাদেশও সব কিছু ক্ষতিয়ে দেখার জন্য নতুন একটি যৌথ স্টাডি কমিটি করতে সম্মত হয়েছে। ওয়াকিফহালমহল বলছেন, এটা নতুন করে সময়ক্ষেপণের একটা  ভারতীয়   কৌশল। এই স্টাডিতে ফারাক্কার মত কত যুগ যাবে কে জানে !

 

তারা এসব বিষয় জানেন কীভাবে নানা অজুহাতে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি ৩৪ বছর ধরে ভারত ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ইতিহাস যাদের জানা আছে তাদের মনে প্রশ্ন আসে স্বাভাবিকভাবেই। এই বন্যার জন্য ভারত দায়ী করলে অতিশয়োক্তি মনে হতে পারে। অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের বঞ্চণার পরিপ্রেক্ষিতে এমন অতিয়োক্তি করার মনোভাব দেশের মানূষের থাকতে পারে। কারণ নদীর পানি বাড়লে কমলে প্রভাবিত হয় তার জীবন। এর আঁচ দেশের শাসকদের গায়ে লাগে না। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো অভিযোগ করবে। তার মধ্যে কখন কখন অতিরঞ্জন থাকবে। কিন্তু এটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে সরকারের অতিরঞ্জনের স্বাভাবিক প্রতি বয়ান। এর জন্য মানুষ দায়ী না, দায়ী ভারত-বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ