ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সিলেটে আমন ধানের বাম্পার ফলন 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: চলতি মৌসুমে সিলেটের চার জেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণির। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। মাঠে মাঠে আনন্দে ধান কাটছে চাষিরা। আমনের বাম্পার ফলন আর নবান্নের আনন্দে মাতোয়ারা সবাই। উপজেলা জুড়ে আমন ধানের ভালো ফসলে আবারও আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে কৃষক-কৃষাণীরা।

চলতি সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হবে। তবে উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় আগাম জাতের রোপণকৃত আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফসল কাটার উৎসবে এখানকার কৃষকরা ব্যস্ততম সময় কাটাবেন।

একদিকে কৃষকরা ধান কেটে বাড়ির আঙ্গিনায় জড়ো করবেন, অন্যদিকে গরু বা বোমা মিশন দিয়ে একই সঙ্গে মাড়াই কাজ সম্পন্ন করবেন। মাড়াই শেষে বাতাসে ধান উড়িয়ে বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করে গোলায় তোলার কাজে ব্যস্ত থাকবেন কৃষাণীরা। উপজেলার গ্রামে-গ্রামে ও মাঠের পর মাঠ সোনালি ফসল ঘরে তোলার উৎসব চলবে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৩ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে উপসী জাতের প্রায় ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর। চলতি সপ্তাহে পুরোদমে আমন ধান কাটা শুরু হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সরুয়ালা, ধীতপুর, চান্দশীরকাপন, জানাইয়া, কারিকোনা, পূর্ব শ্বাসরাম, একাভিম, দন্ডপানিপুর, তাতিকোনা, মোহাম্মদপুর, পশ্চিম শ্বাসরাম, সেনারগাঁও, সুড়িরখাল, ভোগশাইল, মন্ডলকাপন, হরিকলস, মসলিস ভোগশাইলসহ অনেক গ্রামে কৃষকরা ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উপজেলার ইলামেরগাঁও গ্রামের কৃষক আছাব আলী জানান, এবার আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কিছু ধান কাটতে শুরু করেছি। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, এলাকায় আগাম জাতের রোপনকৃত ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। এ বছর উন্নত জাতের বিনা-৭, বিআর-১১, ব্রি-ধান-২২, ৩২, ৩৪, ৪৯, ৫১, ৫২ ও স্থানীয় জাতের জরিসাইল, কালোজিরা, হাসিম, বিরুণ, কার্তিকশাইল জাতের ধান চাষাবাদের ফলে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে কৃষকেরা আশানুরূপ ফলন গোলায় তুলতে পারবে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ