ঢাকা, সোমবার 18 November 2019, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বছরে ছয় লক্ষাধিক শিশুর জন্ম নির্ধারিত সময়ের আগেই

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে প্রতিবছর ছয় লাখের বেশি শিশুর নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম (প্রিটার্ম/প্রিম্যাচিউর বার্থ) হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, মায়ের সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে প্রিম্যাচিউর বার্থ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্ক্যানো ইউনিট বাড়িয়ে শিশুদের ক্যাঙ্গারু কেয়ার দেওয়া গেলে প্রিম্যাচিউর শিশু মৃত্যুর হার কমবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ফলে মায়েরা প্রয়োজনীয় যত্নটুকু পায় না। সুষম খাদ্য পায় না। আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, এখনো ১৯টি জেলায় স্ক্যানো ইউনিটের সুবিধা নেই। এসব জায়গায় আমরা দ্রুত এই সেবা চালু করব। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বি আইসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য সম্মেলন এবং বিশ্ব প্রিম্যাচিউরিটি দিবস ২০১৯ উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখনো গ্রামে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশুর জন্ম বাড়িতে হয়। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো গেলে মাতৃ মৃত্যুর হারও কমানো যাবে। আমরা চাই, একজন মাও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন না।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জনবল সংকটই স্বাস্থ্য খাতে আমাদের এক নম্বর সমস্যা। সেই সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও এই খাতে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। আমরা বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছি। শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃ মৃত্যুর হার আমরা অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। দেশের সব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউট চালু করছি। হাসপাতালগুলোতে আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের জনবল নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল বাড়ানো। আমাদের দেশে অনেক ক্লিনিক, হাসপাতাল হয়েছে। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এখন যদি সঠিক জায়গায়, সঠিক সংখ্যায় আমরা জনবল দিতে পারি, তাহলেই স্বাস্থ্যখাত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এটাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ডিরেক্টর জেনারেল কাজী একেএম মহিদুল ইসলাম, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক আলম আরা বেগমসহ অনেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ