ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

পরিবহন ধর্মঘটে অচল দেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:পরিবহন শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী পরিবহন নেই বললেই চলে। এছাড়াও চলছে অঞ্চলভিত্তিক ধর্মঘট। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন জনসাধারণ। ঢাকার প্রধান প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের অপেক্ষারত দেখা গেছে। একই ভোগান্তি ভোগ করছেন ঢাকামুখী যাত্রীরাও।

আজ বুধবার সকাল সোয়া ছয়টা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ও সাইনবোর্ড এলাকায় একদল পরিবহন শ্রমিক সড়কে অবস্থান নেয়। পরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে চলাচলরত গাড়ি আটকে দেয় এবং গাড়িগুলো থেকে চালকদের নামিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয়। এরপরে মহাসড়কের দুই পাশে গাড়িগুলোকে এলোমেলো করে রেখে রাস্তা অবরোধ করে রাখে।

অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক প‌রিবহন শূন্য হয়ে পড়েছে । উত্তর ও দ‌ক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও টাঙ্গাইল হ‌তে জামালপুর-ময়মন‌সিংহসহ বি‌ভিন্ন রু‌টে যানবাহন চলাচল বন্ধ র‌য়ে‌ছে সকাল থে‌কে। বুধবার সকালে এই মহাসড়‌কে গি‌য়ে এমন চিত্র দেখা গে‌ছে। এতে চরম ভোগা‌ন্তি‌তে প‌ড়ে‌ছেন যাত্রীরা। এছাড়াও গত সোমবার থে‌কে টাঙ্গাই‌লে প‌রিবহন ধর্মঘট শুরু ক‌রে প‌রিবহন শ্র‌মিকরা। বুধবার টাঙ্গাই‌লে প‌রিবহন চলাচল পু‌রোপু‌রি বন্ধু ক‌রে দেয়া হয়। এতে দূরপাল্লার কোনো প‌রিবহন টাঙ্গাইল থে‌কে ছে‌ড়ে যায়‌নি। উত্তর ও দ‌ক্ষিণবঙ্গ থে‌কে সকাল থে‌কে এ পর্যন্ত ২০ ভাগ প‌রিবহন সেতু পাড় হয়‌নি। যা স্বাভা‌বি‌কের তুলনায় খুবই সামান্য ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া খুলনায় তৃতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ বুধবার অভ্যন্তরীণ রুটে সকাল থেকে বাস চলাচল কথা থাকলেও চালকরা বাস নিয়ে সড়কে বের হননি। নতুন সড়ক আইন সংশোধন না করার প্রতিবাদে খুলনায় তৃতীয় দিনের মতো বাস চালকরা কর্মবিরতি পালন করছে। বুধবার সকালে বাস ছাড়বে; এমন খবরে নগরীর সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রয়্যাল ও শিববাড়ির মোড়ে শত শত যাত্রীরা দূর-দূরান্তে যাত্রার উদ্দেশে আসলেও বাস না ছাড়ায় তাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়।

পরিবহন ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত ভেস্তে গেছে। খুলনা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুপক্ষের আলোচনা শেষে মধ্যস্থতার প্রেক্ষিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে আজ বুধবার সকাল থেকে বাস চালানোর কথা দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে বাস ছাড়ার সিদ্ধান্তের পরও কেন বাস চলছে না- এ প্রশ্নের জবাবে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, চালকরা কেউ গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। ভোর সাড়ে ৬টায় সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে চালকদের গাড়ি চালাতে অনুরোধ করা হলেও তারা তাতে রাজি হচ্ছেন না। চালকরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটলে সব জরিমানা আপনি দিবেন- এমন লিখিত দিলে আমরা গাড়ি চালাবো।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ