ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের আশ্বাস

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:নতুন সড়ক আইনের যেসব কঠোর ধারা সংশোধনের দাবি করেছিল পরিবহন শ্রমিকরা, সেগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।যেসব ধারার কারণে মালিক-শ্রমিকেরা বড় ধরনের আর্থিক জরিমানায় পড়তে পারেন, সেগুলোর প্রয়োগ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।এই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার গভীর রাতে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিকেরা সারা দেশে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

এরফলে নতুন সড়ক আইন কার্যকরে হোঁচট খেল সরকার। চলতি মাসের ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকরের কথা ছিল। এরপর প্রস্তুতি এবং সচেতনতার কথা বলে দুই সপ্তাহ পেছানো হয়। তবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। 

আইনের কিছু ধারা সংশোধনের দাবিতে পরিবহনকর্মীদের ডাকা লাগাতার কর্মবিরতির জেরে আইন কার্যকরে সরকার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার আগেই যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি বন্ধ রেখে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন শিথিল করা হবে। 

এরআগে, চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার কথা বলেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।কিন্তু টানা অবরোধের মুখে আইনের কার্যকারিতায় শৈথিল্য আনার সিদ্ধান্ত হলো। এখন বিধিমালা সংশোধনের কথা বলে আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে সরতে হলো। 

তা ছাড়া গাড়ি সচল রাখতে সরকারের হাতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেই।বিআরটিসির অপ্রতুল বাস, সীমিত ট্রেন ও লঞ্চ বাস-ট্রাকের বিকল্প হতে পারে না। বহু গাড়ির বহু মালিক প্রথা থেকে বেরিয়ে কয়েকটি কোম্পানির অধীনে বাস ও ট্রাক পরিচালনার ব্যবস্থা করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি বলে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সে জন্য প্রতিবারই পরিবহন কর্মীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়তে হয় দেশের মানুষকে। তখন কর্তৃপক্ষ অসহায়ত্বের পরিচয় দিয়ে অন্যায় দাবি মানতে বাধ্য হয়। এবারও একই পরিণতি দেখল দেশ।

দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ। এ কারণেই নিরাপদ সড়ক দিবসে আইন কার্যকরের ঘোষণা আসে। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ঠেলে দেয় পরিবহন কর্মীরা। আইন প্রয়োগের সক্ষমতার অভাব, অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং প্রায়োগিক দুর্বলতার অভাবও দেখা দিয়েছে। 

পরিবহন নেতারা চান অপরাধে জামিনযোগ্য ধারা।নতুন সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মতো ধারা অজামিনযোগ্য। 

এ ছাড়া জরিমানা কমানোরও ব্যাপারে দাবি ছিল তাদের। প্রথম দফায় সামান্য জরিমানা আরোপের মাধ্যমে আইনটি কার্যকরের দিকে যাচ্ছিল বিআরটিএ। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মামলা করা শুরুই হয়নি। তার আগেই সারাদেশে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি বন্ধ রেখে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। 

অবস্থা বেগতিক দেখে এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন শিথিল করা হবে। আসলে আইন সংশোধনের পরিবর্তে শাস্তি কম দেওয়ার কথাই বোঝাতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। 

সংশোধন একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই আইন কার্যকরে অল্প শাস্তির পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে পরিবহন নেতারা। বুধবার গভীর রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় পরিবহন কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমনটিই জানানো হয়।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ