ঢাকা, রোববার 8 December 2019, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: আসুন সচেতন হই

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কিডনি রোগ হলো এক ধরনের নীরব ঘাতক। কারণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে অনেক সময় কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। অথচ সামান্য রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করার মাধ্যমে এ রোগ সুপ্ত অবস্থায় দেহে আছে কিনা, তা নির্ণয় করা যায়। কাজেই যাদের মধ্যে কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি, যেমন- যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে, যাদের মুখ ও শরীর ফুলে গেছে, যাদের কিডনিতে পাথর আছে, যাদের প্রস্রাবে বাধাজনিত রোগ আছে, প্রস্রাবে যাদের ইনফেকশনের ইতিহাস আছে, যাদের বংশে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে, তাদের বছরে দুবার কিডনি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্য অমূল্য সম্পদ। এই সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ওপরে উল্লিখিত পরামর্শগুলো যদি জীবনের শুরু থেকেই মেনে চলা যায়, তা হলে শুধু কিডনি নয়, সব ধরনের অসংক্রামক ব্যাধি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। এছাড়াও কিডনি রোগের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি।যেমন:

প্রস্রাবের সময় ব্যথা: প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার একটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।

সবসময় শীত বোধ হওয়া: কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।

বমি বমি ভাব: রক্তে বর্জ্যনীয় পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

পিঠের পেছনে ব্যথা: কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।

তাই এখনই সচেতন হোন। তা না হলে কিন্তু বিপদ হতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই। আগেভাগেই চিকিৎসকের পরামর্শ ও পথ্য গ্রহণ করুন।

দেহে ফোলা ভাব:কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।

কিডনি ভাল রাখতে করণীয়:

১. প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

২. মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।

২. গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৩. খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দুর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রাণিজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন।

৪. রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন।

৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৬. কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে নিজে ওষুধ খাবেন না।

৭. মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

৮. অনেকেই পানির বদলে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকেন। এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৯. ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি একপর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ