ঢাকা, সোমবার 2 December 2019, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৪ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপকহারে শুরু হয়েছে ভুট্টা চাষ॥ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম

এফ.এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মওসুমে ব্যাপকহারে ভুট্টার আবাদ শুরু হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় বিগত বছরগুলোর মত এবারও ব্যাপকহারে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে চাষিরা। বিগত বছরগুলোতে ভুট্টাচাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এ আবাদ ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঠে মাঠে ভূট্টা লাগানো এবং চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। 

জানাগেছে- বর্তমানে ভুট্টার বীজ শতভাগ আমদানি নির্ভর। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকহারে ভুট্টার আবাদ হলেও এর বীজ উৎপাদনে ব্যাপারে সরকারি বা বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেই। আর বিদেশ থেকে আমদানিকৃত বীজের দামও দেশে উৎপাদিত ভুট্টার প্রায় ৫০ গুণ বেশি। অর্থাৎ ভুট্টা ওঠার সময় প্রতি ৪০ কেজি সাড়ে ৪ শত টাকা দরে কৃষক বিক্রি করলেও এখন বীজ কিনছে প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা । আবার বিভিন্ন সময়ে বেশি দামে এসব বীজ কিনে চাষিরা প্রতারিত হন। তাই সরকারি বা বেসরকারিভাবে উদ্যোগে দেশে ভাল বীজ উৎপাদন হলে চাষিরা উপকৃত হবে।  দেশে ব্যাপকহারে পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু হলে প্রথম দিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিভিন্ন দেশ থেকে  ভুট্টা আমদানি করতে হতো। ৬/৭ বছর যাবৎ দেশের উৎপাদিত ভুট্টা দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করে বরং  আমাদের দেশের উৎপাদিত ভুট্টাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি  হয়েছে। বর্তমানে দেশে ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহার শুরু হওয়ায় এর চাহিদাও দিন দিন বাড়েছে। ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের মাটি ভুট্টাচাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই সরকার এ চাষের প্রতি একটু বেশি নজর দিলে এ ভুট্টা চাষই পাল্টে দিতে পারে দেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র।

চলতি মওসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ১২১ হেক্টর। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১১ হাজার ৬৫১ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৪০ হেক্টর, জীবননগর উপজেলায় ৬ হাজার ১ শত হেক্টর ও জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দামুড়হুদা উপজেলায় ১৩ হাজার ৯ শত ২০ হেক্টর জমি।  বাজারে সুপার-৪৫, সুপারসাইন-২৭৬০, মীরাক্কেল,এফ-৯২, পাওনিয়ার-৯২,৫৫,৯৬, শাহারা- ৬৬০৮,৭২৮১, ৩৩৩৫ কাবেরি রোবষ্ট জাম্বু-৫০,৬০ ব্রাকের উত্তরন, সুপার-১০, ভি-৯২ সহ বিভিন্ন জাতের ভুট্টার বীজ পাওয়া গেলেও চুয়াডাঙ্গা জেলার এবার সুপার-৪৫, পাওনিয়ার-৯২ ও কাবেরি-৫০ জাতের ভুট্টার আবাদ সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে। এসব বীজের অধিকাংশই ভারতের হায়দারাবাদ ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আমদানীকৃত। গত মওসুমে চুয়াডাঙ্গার জেলার ৪ উপজেলায় ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ৯৫০ হেক্টর, সেখানে আবাদ হয়েছিল ৪৬ হাজার ১২১ হেক্টর,যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে ৩ হাজার ১৭১ হেক্টর বেশী। জেলার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের শহিদুল, খাইরুল, আতিয়ারসহ বেশ কয়েকজন ভুট্টাচাষী জানালেন, আমরা প্রতি বছর ভুট্টার চাষ করে থাকি। গত বছর ভুট্টা উঠার সাথে সাথে ড্যাপ (আধা শুকনা) ভুট্টা ভাল দামে বিক্রি করেছিলাম। তাতে অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশ লাভ হয়েছিল। তবে অনেক সময় স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারদর কমিয়ে থাকে। তাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও লোকসানের বোঝা চেপে যায় ভুট্টাচাষীদের ঘাড়ে। বর্তমানে এলাকায় ভুট্টার আবাদ বেশি তাই সরকারিভাবে ভুট্টার বাজারদর বেঁধে দিলে চাষিরা উপকৃত হবে। চলতি মওসুমে আউশ ধানের দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক ব্যাপকহারে ভুট্টা আবাদে ঝুঁকে পড়েছে। ভুট্টা চাষে সময় এবং খরচ কম লাগে এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টায় ফলনও বেশি হয়। ফলন ও দাম ভালো পেলে গতবারের মতো এবারও চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে এমনটাই জানিয়েছেন ভূট্টচাষিরা।  চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী হাসান দৈনিক সংগ্রামকে জানান- জেলায় ভুট্টা চাষিদের মাঠ পর্যায়ে সার প্রয়োগ, চাষের কলাকৌশল শিক্ষাসহ সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এ বছর সরকারিভাবে ভর্তুকি বাবদ মাঠ পর্যায়ে ১০ হাজার ৫ শত চাষিকে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। বীজের উচ্চ মূল্য সম্পর্কে তিনি জানান- আমাদের দেশে সাধারণত: উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে সংগত কারণেই বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়, তাই মূল্য বেশী পড়ে। তবে বিঘা প্রতি যে পরিমাণ বীজসহ অন্যান্য খরচ হয় তাতে কৃষকদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ