ঢাকা, মঙ্গলবার 3 December 2019, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘট স্থগিত করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে কাওরান বাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ভবনে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মধ্যকার ওই বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করা হলো। ১৫ দফা দাবি মানা না হলে পুনরায় আন্দোলনে নামবে তারা। এ ছাড়া আগামী ১৫ ডিসেম্বর আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সব পেট্রোল পাম্পে রোববার সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু করে ঐক্য পরিষদ। সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, ‘১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। আমরা বিপিসির সঙ্গে সভা করেছি। সভায় তারা আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন। আগামী ১৫ তারিখ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি সভা আছে। সভায় আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। সেই সভার সিদ্ধান্তের ওপর মূলত নির্ভর করছে আমাদের ধর্মঘট স্থগিতের বিষয়টি। তা না হলে আমরা পরবর্তীতে আমাদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’
তিনি বলেন, সোমবার থেকে আবারও তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। এই ক’দিন ধর্মঘটের কারণে ভোক্তাদের তেল নেয়ার ক্ষেত্রে যে সাময়িক ভোগান্তি হয়েছে, সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। বিপিসির পরিচালক (কমার্শিয়াল) সৈয়দ মেহেদি হাসান বলেন, তাদের দু’টি দাবি জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট। বাকি ১৩ দাবি অন্যান্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট। তাই তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আগামী ১৫ ডিসেম্বর আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের প্রধান দাবি কমিশন বাড়ানো। বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের। আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। দ্রুত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বিমা প্রদান, ট্যাংক-লরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট এবং জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া অন্য দফতর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংক-লরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দফতর ছাড়া সরকারি অন্যান্য দাফতরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদের হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনও পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোনও স্থাপনা নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংক-লরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।
ধর্মঘটের কারণে গত রোববার সকাল থেকে তিন বিভাগের কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়নি। জ্বালানি তেল না পাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েন বিপাকে। যারা ধর্মঘটের খবরে আগাম জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছিলেন তারাই কেবল এখন মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন। বাকিরা বিপাকে পড়েন।
সোমবার রংপুরের বেশ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে ফিরে যেতে হয় গ্রাহককে সবাইকে। এতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হন তারা। এ ছাড়া সামনে বোরো মওসুমে তেল বিক্রয় বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। রেজা নামে এক বাইক চালক বলেন, ধর্মঘটের বিষয়টি জানতান। ভেবেছিলাম আজ হয়তো সব ঠিক হয়ে গেছে। তাই বাইক নিয়ে তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি তেল দেয়া হচ্ছে না। এখন গাড়ি ঠেলে আমাকে ফিরতে হবে। পাম্প মালিকরা এটা ঠিক করে নাই।
 আরেক মোটরসাইকেল আরোহী সাজ্জাদ বলেন, গত দুইদিন ধরে গাড়ি বের করিনি। এছাড়া ধর্মঘটের খবরটিও জানতাম না। সকালে এসে দেখি দড়ি দিয়ে ঘিরে রেখেছে, তেল বিক্রি বন্ধ। খোলা বাজারেও তেল মিলছে না। রেজা ও সাজ্জাদের মতো অনেকেই পাম্পে তেল নিতে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। রংপুরের মতো খুলনা ও রাজশাহী বিভাগেও ধর্মঘট চলছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে মানুষকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ