ঢাকা, সোমবার 9 December 2019, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফ’র চৌকি স্থাপন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজশাহী সীমান্তবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ডের (শূন্যরেখা) পাশে জেগে ওঠা চরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবৈধভাবে একটি অস্থায়ী চৌকি স্থাপন করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। 

গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফ চৌকি বসালেও বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সেখানে যান সোমবার (০২ ডিসেম্বর)।এ সময় তাদের দেখে বিএসএফ সদস্যরা পালিয়ে যায়।

বিজিবি জানায়, অস্থায়ী ওই চৌকি নির্মাণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার বিকেলে রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী সাংবাদিকদের জানান, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে নিজ নিজ সীমানার ১৫০ মিটার ভেতরে চৌকি করতে হবে। কিন্তু বিএসএফ জিরো লাইনের ৭০ মিটারের ভেতরে অস্থায়ী চৌকি বসিয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বার্তা পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুর পর্যন্ত তারা কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি। বিষয়টি বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

শওকত আলী আরও জানান, ‘গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্ত ফাঁড়ির এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে পদ্মা নদী থেকে বের হয়ে একটি কাটা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার চর লবনগোলা এলাকায় প্রবেশ করেছে। তবে কাটা নদীর ভাঙনে সেখানকার সীমানা পিলারগুলো গত বছরই বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি কাটা নদীটিতে পানি কমে যাওয়ায় পশ্চিমপ্রান্তে বাংলাদেশ সীমানা সংলগ্ন এলাকায় ছোট একটি চর জেগে ওঠে। সেখানেই বিএসএফ তাদের চৌকি বসিয়েছে।’

এলাকাবাসী বলেন, জেগে ওঠা চরটি বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। শুক্রবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে চরটিতে অস্থায়ী চৌকি তৈরি করে। পরদিন সকাল থেকে সেখানে তারা টহল দেয়। বিজিবি সদস্যরা গতকাল (১ ডিসেম্বর) সংকেত দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে চলে যায়। এরপর গভীর রাতে ফের অস্থায়ী চৌকিতে অবস্থান নেয়।

তারা আরও বলেন, ‘এটা আমাদের জায়গা। চরের আশপাশে অনেক ফসলি জমি রয়েছে। আমরা সেখানে নিয়মিত চাষাবাদ করি। বিএসএফ চৌকি তৈরি করার পর থেকে আমরা যেতে পারছি না।’

এ বিষয়ে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, চৌকি শূন্যরেখার মধ্যে না ভারতীয় অংশে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনও। সীমান্তে সৃষ্ট অমীমাংসিত এই বিষয়টি সন্তোষজনক সমাধানের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিএসএফকে সরজমিন পরিদর্শনে আসতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা আসলে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষেই চৌকি স্থাপন নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা যাবে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ