ঢাকা, সোমবার 9 December 2019, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী সরকার: ফখরুল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৩ বছরে জিনিসপত্রের দাম গড় হিসাবে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এসময়ে অনেক জিনিসের দাম বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। সরকারের প্রতিশ্রুত ১০ টাকার চাল ৭০ টাকা। পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারদলীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ভোক্তাদের পকেট থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের বাজারকে অসহনীয় করার জন্য দায়ী ভোটারবিহীন সরকার। দলীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট না ভাঙতে পারলে এবং টিসিবিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশের ক্রিয়াশীল ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সরকার।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশবাসীর কাছ থেকে তাদের ভোটাধিকার আর নাগরিক মর্যাদাই এই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার সরকার ছিনিয়ে নেয়নি, এমনকি তাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-শান্তিও আজ একের পর এক কেড়ে চলেছে এই ভোটারবিহীন গণবিরোধী সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। যার সর্বশেষ প্রমাণ পেঁয়াজ, চাল, ডাল, তেল, লবণ থেকে শুরু করে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের এই অগ্নিমূল্য লাগাতারভাবে আমাদের সাধারণ জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত  করে ফেলেছে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়লে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে সরকারের। জনগণ কী খাবে, কী খাবে না—তা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের না! এর ব্যত্যয় ঘটার কোনো সুযোগ নেই। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে তার একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে, এই সরকার জনগণের সরকার নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। যেহেতু বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে সব জিনিসপত্র মূল্য বৃদ্ধির ফলে শুধু বিএনপিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশের সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেজন্য জনগণকেই এগিয়ে এসে এর প্রতিবাদ করতে হবে।’ 

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যসহ জনজীবনের সব সহনীয় মাত্রায় রাখতে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার দরকার। দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষায় অবিলম্বে তথাকথিত নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় দ্রব্যমূল্যভিত্তিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাই নয়, জাতির গোটা ভবিষ্যৎ জীবন আরও অসহনীয় ও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ