ঢাকা, বুধবার 4 December 2019, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখার ৩১ জন বদলি

স্টাফ রিপোর্টার: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফাইলিং ও এফিডেভিট শাখার অন্তত ৩১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যখনই কোন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ঢুকে যায়, তখন সেই দুর্নীতি রোধের জন্য কতগুলো পদক্ষেপ নিতে হয়। তাই প্রধান বিচারপতি গতকালও বলেছেন, উনি কঠোর হস্তে এগুলোকে দমনের চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি এ বদলিগুলো তারই একটি অংশ হবে।
অনিয়মের বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন, অনিয়মের চিত্রগুলো কি, আমি বিভিন্ন সময়ে ওপেন কোর্টে প্রধান বিচারপতিকে অভ্যর্থনা দেয়া হয় তখনও বলেছি। দুইজন বিচারপতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে আমি বিস্তারিত বলেছি, সেগুলো আপনারা শুনেছেন। সেগুলো বারে বারে পুনরাবৃত্তি করতে চাই না।
এর আগে গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও চলা অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এক মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এই হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার এক মামলা আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা থাকলেও সেটি ৮৭ নম্বর ক্রমিকে দেখা যায়। এই অনিয়মের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তখন প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কী আর করবো বলেন? এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম রুখতে পারছি না। এসময় আপিল বেঞ্চে আরও চার বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।
তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা উপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবীও আদালতে আসেন না, বেতন বেশি হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে! বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন।
এরপর প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে আপিল বিভাগে তলব করেন। তবে, মামলার সিরিয়াল করা নিয়ে মেহেদী হাসানের ব্যাখ্যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ