ঢাকা, বুধবার 4 December 2019, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

এক দশকে ১২ হাজার মানবপাচার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : বাংলাদেশে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে প্রায় ১২ হাজার নারী-শিশু মানবপাচার সম্পর্কিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী মৈত্রী।
গতকাল ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন নারী মৈত্রীর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোমেনুল হক মোমেন।
বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউএনডিপি’র তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, দেশের প্রত্যেকটি সীমান্তবর্তি জেলা মানব পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ সব জেলা থেকে বেশির ভাগই প্রাথমিকভাবে বড় শহরগুলোতে আসে। এভাবেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পাচার হয়ে দেশের বাহিরে চলে যায়। এদেরকে পতিতাবৃত্তি, বাসা-বাড়ির কাজে ও ভিক্ষা বৃত্তিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য দিয়ে তারা বলেন, ২০০১ সালে মানবপাচার সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৯০৪টি। গত এক দশকে তা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮৭৬টি তে। আর প্ল্যান বাংলাদেশের তথ্য মতে, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ নারী মিথ্যা প্রলোভনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে গিয়ে পতিতা বৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে।
গত এক দশকে কতজন শিশুপাচার হয়েছে, তার তথ্য বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত হলেও সমষ্টিক কোন তথ্য প্রকাশ না পাওয়ায় শিশু পাচারের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি বলে জানান নারী মৈত্রীর এই কর্মকর্তা। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ভূমিষ্ঠ শিশুও পাচার হয়। তাদের কিডনি পাচার হয়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে কোন রিপোর্ট হয় না। এক রিপোর্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যত শিশু মিসিং বা ট্রাফিকিং এর ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে এবং ১২ ভাগ রিপোট টেলিভিশন মিডিয়াতে প্রকাশ পায়।
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২তে নবজাতকদের মিসিংয়ের কোন তথ্য কোথাও উল্লেখ নেই। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংগঠনগুলো কাজ করলেও তাদের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাবসহ ভিকটিমদের অভিযোগ তালিকাও নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় মানব পাচার রোধসহ শিশুকে মানব সম্পদ হিসেবে বেড়ে উঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ বাস্তবায়ন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনআইন ২০১২ বাস্তবায়ন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং, শিশুপাচার রোধ ও শিশু সুরক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রিভেনশন অফ চাইন্ড ট্রাফিকিং থ্রু স্ট্রেনদেনিং কমিউনিটি এন্ড নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের আওতায় নারী মৈত্রী এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নারী মৈত্রীর রংপুর প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট  গোলাম মওলা চৌধুরী প্রমুখ।
নারী মৈত্রী চলতি বছরে বিভিন œসময়ে রংপুর মহানগর সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, সমাজ উন্নয়ন কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, সুধি সমাজের নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সেমিনার, কর্মশালা ও সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ