ঢাকা, বুধবার 4 December 2019, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

ইবরাহীম খলিল: আজ ৪ ডিসেম্বর বুধবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশব্যাপী পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা হামলায় পিছু হটতে থাকে পাকিস্তানীরা। নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান হস্তক্ষেপ কামনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি পাঠান।
এদিন রাওয়ালপিন্ডিতে একজন সরকারি মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানের উভয় অংশে যুদ্ধ চলছে। পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় চাপ মোকাবিলা করা হচ্ছে। মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেবে বলে চীন ওয়াদা করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এক জরুরি লিপিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, পাকিস্তানের সর্বশেষ আক্রমণের সমুচিত জবাব দিতে ভারতীয় বাহিনীর এবং বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর মিলিত ভূমিকা সফলতর হতে পারে, যদি এই দু’টি দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয়রা স্থলবাহিনীর সম্মুখ অভিযান শুরু হয় চারটি অঞ্চল থেকে- ১. পূর্বে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে তিন ডিভিশনের সমবায়ে গঠিত চতুর্থ কোর সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা-নোয়াখালী অভিমুখে; ২. উত্তরাঞ্চল থেকে দু’ডিভিশনের সমবায়ে গঠিত ৩৩তম কোর রংপুর-দিনাজপুর-বগুড়া অভিমুখে; ৩. পশ্চিমাঞ্চল থেকে দু’ডিভিশনের সমবায়ে গঠিত ২য় কোর যশোর-খুলনা, কুষ্টিয়া-ফরিদপুর অভিমুখে এবং ৪. মেঘালয় রাজ্যের তুরা থেকে ডিভিশন অপেক্ষা কম আর একটি বাহিনী জামালপুর-ময়মনসিংহ অভিমুখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতের বিমান ও নৌশক্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচ্ছন্ন কিন্তু সদা তৎপর সহযোগিতা এবং স্বাধীনতাকামী জনসাধারনের স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য ও সক্রিয় সহযোগিতা।
লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকার খবর অনুযায়ী, এদিন রাতে ডিফেন্স মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে বিমান আক্রমণ এত সুস্পষ্ট হয়েছে যে এখন হাতেগোনা যাবে। এছাড়া একজন সরকারি মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশ করে শত্রু নিধনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই অমৃতসর, পাঠানকোট, অবন্তীপুর, শ্রীনগর ছাড়াও রাজস্থানের উত্তরালি হরিয়ানার আম্বালা ও উত্তর প্রদেশের আগ্রা বিমান ক্ষেত্রে আক্রমণ চালিয়েছে। খবরটি পরদিন ৫ ডিসেম্বর দৈনিক পাকিস্তান, ইত্তেফাক ও পূর্বদেশে প্রকাশিত হয়।
খোকসা মুক্ত দিবস: একাত্তরের এ দিনে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা মুক্ত দিবস। স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয়ের বেশ কয়েক দিন আগেই ৪ ডিসেম্বর খোকসা থানাকে মুক্ত করতে সমর্থ হয় মুক্তিযোদ্ধারা।
’৭১ সালের এপ্রিল-জুন মাসে লুট, অগ্নিসংযোগসহ নারকীয় অত্যাচারে খোকসা থানার সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। খোকসা থানায় পাকিস্তানীদের বড়মাপের ক্যাম্প ছিল তিনটি। শোমসপুর, মোড়াগাছা ও গনেশপুর। এগুলোর মধ্যে খোকসা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে শোমসপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পটি ছিল সর্ববৃহৎ। এখানে সার্বক্ষণিকভাবে ৭০/৮০ জন পাকিস্তানী সেনা মোতায়েন রাখা হতো।
মুক্তিযোদ্ধারা এ সময় বেশ কিছুসংখ্যক সড়ক ও রেলসেতু উড়িয়ে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কয়েক দফায় আক্রমণ চালায় পাক মিলিশিয়াদের ক্যাম্পে। ২০ শ্রাবণ শুক্রবার ১৩৭৮ বাংলা তারিখে গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে খোকসা ও কুমারখালী থানার সীমান্তবর্তী বসিগ্রাম রাজাকার কমান্ডার খেলাফত চেয়ারম্যানের বাড়িতে ২০/২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অপারেশন চালায়। কিন্তু রাজাকারদের কাছে পরাস্ত হয়ে শহীদ হয় ৫ জন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। আহত হয় ৮ জন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন ইকবাল, আনসার, গোপাল, লুৎফর, কুদ্দুস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ