ঢাকা, বুধবার 4 December 2019, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

পলাতক চার আসামীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদল্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার পলাতক চার আসামীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার পাঁচ নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. কায়সারুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। পলাতক এই চার আসামী হলেন- অভিযোগ পত্রভুক্ত  এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)। এর মধ্যে মুজতবা রাফিদের নাম এজাহারে ছিল না।
বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামী করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামী করা হয় মোট ২৫ জনকে। পরে ১৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক চার আসামীকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। এ বিষয়ে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়া হলো।
আগামী ৫ জানুয়ারি মধ্যে ক্রোকের আদেশ তামিলের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসআই মাজহারুল ইসলাম।
মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এজাহারের বাইরের ছয়জন। গ্রেপ্তার হয়েছেন- বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, বহিষ্কৃত উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, বহিষ্কৃত সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মোজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, ইসতিয়াক হাসান মুন্না, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির ও আকাশ হোসেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হোরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, এস এম মাহমুদ সেতু।
এদের মধ্যে ‘স্বীকারোক্তি’ দিয়েছেন মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মোজাহিদুর রহমান, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর।
এজাহারের বাইরের ছয় আসামী হলেন-বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ এবং মাহামুদ সেতু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ