ঢাকা, শুক্রবার 6 December 2019, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের দুই অ্যাথলেট হাসপাতালে

স্পোর্টস রিপোর্টার: পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এসএ গেমসে অংশ নিতে এলেও অসুস্থতার কারনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বাংলাদেশ দলের দু‘জন  অ্যাথলেটকে। কারাতে ইভেন্টে আহত হয়ে মারজান আক্তার প্রিয়া হাসপাতাল ঘুরে আসার পরদিনই আরও দুই বাংলাদেশি অ্যাথলেট অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের হিট শেষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে জহির রায়হান ও আবু তালেবকে। দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে প্রথম হিটে ৪৮.২০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ দ্বিতীয় হয়েছিলেন জহির। দ্বিতীয় হিটে ৫০.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আবু তালেব হয়েছিলেন চতুর্থ।তবে এর পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজন। উচ্চতাজনিত কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল তাদের।

এদিন সকালে ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন জহির। কিন্তু কাঠমান্ডুর উচ্চতাজনিত সমস্যার কারণে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার।নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে অনবরত। একই সমস্যা দেখা দেয় বাংলাদেশের আরেক অ্যাথলেট আবু তালেবেরও। দুজনকেই দ্রুত স্টেডিয়ামের পাশের ব্লু ক্রস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে জহির আপাতত খেলতে পারবে না। আবু তালেবের খেলার সম্ভাবনাও কম।বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার মোজাম্মেল হোসেন জানালেন, ‘জহিরকে না খেলার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার। ওর প্রেসার অনেক হাই। গেমস আর খেলতে পারবে না জহির।’ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পবন রাওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “জহিরের পালস রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। একজন অ্যাথলেটের যেখানে ৭৮-এর আশেপাশে পালস রেট স্বাভাবিক, সেখানে জহিরেরটা একশ‘র বেশি।“যদি তারা আবার দৌঁড়ায়, পালস রেট আরও অনেক বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় আমরা তাকে ফাইনালে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিতে পারছি না।”

৪০০ মিটার দৌড়ে জহির রায়হানকে ঘিরে ছিল পদকের স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ জহিরের অসুস্থতা ভেস্তে দিয়েছে সবকিছু।এসএ গেমসের এই ইভেন্টে জহিরকে ঘিরেই পদকের স্বপ্ন দেখছিল ফেডারেশন। কেনিয়ায় ২০১৭ সালে যুব অ্যাথলেটিকসে সেমিফাইনালে উঠে হৈ চৈ ফেলে 

দেন। এরপর এ বছর জানুয়ারিতে জাতীয় অ্যাথলেটকসে ৪০০ মিটারে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ পদক জিতে নেন জহির। ৪০০ মিটারে দৌড়ান ৪৬.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে। 

৩৩ বছর আগে সিউল এশিয়ান গেমসে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেট মিলজার হোসেন যে টাইমিং করেছিলেন, সেটি ছিল ৪০০ মিটারে দেশের কোনো অ্যাথলেটের সেরা টাইমিং। সেটি ভেঙ্গে দেন জহির। 

সর্বশেষ গত নভেম্বরে অন্ধ্র প্রদেশে ভারতের আমন্ত্রণে সেখানকার জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে অংশ নিয়ে সোনা জেতেন। ৪৭.৩৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেখানে চ্যাম্পিয়ন হন জহির। সম্ভাবনাময় অ্যাথলেট জহিরের এভাবে হাসপাতালে যাওয়া তাই বাংলাদেশের জন্য বড় হতাশার খবর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ