ঢাকা, সোমবার 9 December 2019, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাথে নিষ্ঠুর স্বৈরতন্ত্রের চেয়েও বেশী দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে -রিজভী

গতকাল রোববার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আবারো ঢাকাসহ সারাদেশের মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল রোববার বিকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর আবারো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
পূর্বঘোষিত গতকাল রোববারের বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিতে সারাদেশে পুলিশ বাঁধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, আজকে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বড় ঘটনা হচ্ছে- সিরাজগঞ্জ শহরে বিএনপির মিছিলের ওপর আওয়ামী সশ্বস্ত্র ক্যাডাররা হামলা করে। এই হামলায় জেলা সহসাংগঠনিক সম্পাদক শামীমের চোখে রাবার বু্লেেটর আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় সিরাজগঞ্জে জেলা কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমাদের কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিলো দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে। সেটিকে বানচাল করার জন্য কী অমানবিক নিষ্ঠুর মানসিকতা পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা বিভিন্ন স্থানে হামলা করেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। যারা এসব ঘটনার সাথে দায়ী তাদের আমি বিচার দাবি করছি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, ঢাকা মহানগর কোতয়ালী ও শাহবাগ থানা আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি হামলার বিররণও তুলে ধরেন রিজভী।
রিজভী বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী ৭ দিন পর পর বন্দিদের সাথে স্বজনদের সাক্ষাতের নিয়ম। অথচ বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই বিধান করা হলো ১৫দিন পর পর। এখন সেই ১৫ দিনের বিধানকেও সরকারের নির্দেশে কারাকর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করছেন কারাবিধি লঙ্ঘন করে। ২৫ দিন হয়ে গেলো স্বজনরা বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাত পাচ্ছেন না। ১৩ নভেম্বরের পর আর কারাকর্তৃপক্ষ স্বজনদের সাক্ষাতের অনুমতি দিচ্ছে না। পৃথিবীর কোনো নিষ্ঠুর স্বৈরতন্ত্রের দেশেও বন্দিদের সাথে এরুপ দুর্ব্যবহার করা হয় না, যা করা হচ্ছে বেগম জিয়ার ওপর। এই অমানবিক আচরণে দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে শুধু তার আত্মীয়স্বজনরাই নয়, দেশ-বিদেশের মানুষ উদ্বেগাকুল ও উৎকন্ঠিত। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন গণবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ সরকারের দু:শাসনে দেশে এক আদিম হিং¯্রতার জয়জয়কার চলছে। এক কঠিন এবং নির্মম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সময় অতিবাহিত করছে। মিথ্যা দিয়ে সত্যের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে, দুর্বৃত্তায়ন চলছে চারদিকে। দীর্ঘকাল কন্ঠরোধ করে রাখা হয়েছে জনগণের। সর্ববিধ নিয়ন্ত্রণের প্রকোপে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, চলছে লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের বাজার লুন্ঠন। শত শত কোটি নয়, গত এক দশকে আওয়ামী লীগের লোকজন দেশ থেকে পাচার করেছে দুইটি বাজেটের সমান প্রায় দশ লক্ষ কোটি টাকা। নিত্যদিন নারী-শিশু নির্যাতনের ছবি দেখে দেশের মানুষ আঁতকে উঠছে। সব দেখে, শুনে, বুঝেও গুম-খুন-অপহরণ কিংবা অপমানের ভয়ে, মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলেও এখন তারা পাল্টা আঘাতের জন্য প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন। এই কঠিন সময়ে, যিনি ছিলেন দেশের গণমানুষের প্রতিবাদী ও সাহসী কণ্ঠস্বর, যিনি দেশের গনতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের প্রতীক, দেশের সেই সম্পূর্ণ নিরপরাধ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক ময়দানে পরাভূত করতে না পেরে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে মিথ্যা মামলায় ৬৬৯ দিন হলো কারারুদ্ধ করে রেখেছেন বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। এই মুহূর্তে কারামুক্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ না করলে জীবনহানীর ঝুঁকি রয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে তার অবস্থা এখন আশংকাজনক। শেখ হাসিনা ও তার পারিষদবর্গ বেগম খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারিরীক অবস্থা নিয়ে রীতিমত রসিকতা করছেন। এই রসিকতা এক নিষ্ঠুর মানসিক বিকারগ্রস্ততার লক্ষণ।
পাটকল শ্রমিকদের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল সিবিএন ও ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরী পরিশোধসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে গত ২৩ নভেম্বর থেকে পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলনে রয়েছে। দীর্ঘদদিন মজুরী না পেয়ে চরম অর্থসংকটে রয়েছে শ্রমিকরা। আগামী ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পাটকল শ্রমিক কর্মচারি ও তাদের পোষ্যদের নিয়ে স্ব স্ব মিল গেটে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাচ্ছে শ্রমিকরা। বিএনপি অবিলম্বে শ্রমিকদের সকল দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানাচ্ছে। জনগনের আস্থার রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির শ্রমিকদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা  হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ