শনিবার ২১ মে ২০১১
Online Edition

‘এ যেন নবীন-প্রবীণ নজরুল চর্চাকারীদের মিলন মেলা'

স্টাফ রিপোর্টার : এ যেন সারাদেশ থেকে আসা নবীন-প্রবীণ নজরুল চর্চাকারীদের মিলন মেলা। রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সকাল ৯টার আগেই দূর-দূরান্তের নজরুল সঙ্গীতশিল্পী, গবেষক, প্রশিক্ষক ও সংগঠকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সোয়া ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়, মাঝে বিরতি দিয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। জাতীয় কবির স্মরণে তাদের কবিতা ও গানে সুধী-শ্রোতামন্ডলী বিমোহিত হন, মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন শিশু-কিশোর থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পরিবেশনা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জুমাবার দিনব্যাপী মনোজ্ঞ ও ভিন্নমাত্রার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নজরুল সঙ্গীতশিল্পী পরিষদ। বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর ‘বাংলালিংক' এ আয়োজন সফলে এগিয়ে আসে। প্রচলিত রীতি ভেঙ্গে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে কোন সভাপতি, প্রধান অতিথি ছিল না। স্বাগত বক্তব্য দেন নজরুল সংগীতশিল্পী পরিষদের সভানেত্রী বরেণ্য শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। তিনি বলেন, নজরুলের গানকে উচ্চকিত করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। টিভিতে শুধু ঢাকার শিল্পীদেরই মুখ দেখা যাবে কেন। ঢাকার বাইরের নজরুল সংগীতশিল্পীদেরও মূল্যায়ন করা দরকার। এরপর বিভিন্ন জেলার ২০ জন নজরুল সঙ্গীতশিল্পী, চর্চাকারী, গবেষক, প্রশিক্ষক ও সংগঠকের হাতে নজরুল সংগীতশিল্পী পরিষদ সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন ফেরদৌসী রহমান। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুরের করুণাময় অধিকারী, গাজীপুরের হাসান পারভেজ, জামালপুরের শিউলী চৌধুরী, পাবনার আবুল কাশেম, সিরাজগঞ্জের সালামত হোসেন চৌধুরী, গোপালগঞ্জের নিপূর্ণা বিশ্বাস, রাজশাহীর রিয়াজউদ্দীন আহমদ, কুমিল্লার অলকা দাশ, চট্টগ্রামের কাজী আয়েশা আমান, যশোরের শাহ মোহাম্মদ গোলাম মুরশেদ, খুলনার এ বি এম শওকত আলী, চুয়াডাঙ্গার মো. শরিফ উদ্দীন বিশ্বাস, বরিশালের মো. নূরুল আমিন চৌধুরী, টাঙ্গাইলের ইব্রাহীম হোসেন, সিলেটের হিমাংশু বিশ্বাস, ঝিনাইদহের অজয় কুমার দাশ, দিনাজপুরের ডা. শহিদুল ইসলাম খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানবর্ধন পাল, নেত্রকোনার রফিক মাহমুদ এবং মোমেনশাহীর সুনীল কুমার ধর। এরপর বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় আটটি অঞ্চলে ‘ক' ও ‘খ'। বিভাগে নজরুল সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদের একক নজরুল সংগীত পরিবেশন ছিল খুবই উপভোগ্য। কচি বয়সেও তারা কণ্ঠমাধুর্য্য দিয়ে মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতাদের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়। তাদের গীত নজরুল সংগীতগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সে কেহ নাহি পায়', ‘ফিরিয়া যদি সে আসে', ‘রিমঝিম রিমঝিম ঝিম ঘন দিয়া বরষে', ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে', ‘সখি সে হরি কেমন বল', ‘সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে আমারে ছুঁইয়াছিলে' ইত্যাদি। জুমার নামায ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বেলা তিনটায় অনুষ্ঠিত হয় ‘নজরুল সঙ্গীতের সমস্যা ও সমাধান' শীর্ষক আলোচনা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক আসাদুল হক। এর ওপর মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, নজরুল সংগীতের সুর নিয়ে দ্বনদ্ব রয়েছে-আদিসুর ও জনপ্রিয় সুর। কোনটির অনুমোদন আছে, কোনটির নেই তা নিয়ে অনেক কথা হয়ে থাকে। নজরুল সঙ্গীতের সুর নিয়ে কোন নীতিমালাও নেই। প্রবন্ধকার বলেন, নজরুল সঙ্গীত রাগনির্ভর। সেই শিল্পীর পক্ষেই তার গানের শুদ্ধ পরিবেশন সম্ভব যার রাগরাগিনী সম্পর্কে সম্যক ধারণা বা চর্চা আছে। নজরুল সঙ্গীত পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা' শব্দটি যেভাবে বাজার পেয়েছে, সেভাবে রাগরাগিনী সম্পর্কে জ্ঞান, চর্চা এবং দক্ষতার বিষয়টি বোধে আসেনি। এটাই নজরুল সংগীত বিকাশে প্রধান অন্তরায়। সমাপ্তি অধিবেশনে সন্ধ্যায় দু'জন বরেণ্য নজরুল সঙ্গীতশিল্পী খালিদ হোসেন এবং রফিকুল ইসলামকে পুরস্কৃত করা হয়। তারা এ বছরের নজরুল সঙ্গীতশিল্পী পরিষদ পদকে ভূষিত হন। তাদের হাতে পুরস্কারের অর্থচেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন কবি আসাদ চৌধুরী। ফেরদৌসী রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নজরুল পৌত্রী খিলখিল কাজী, নজরুল সংগীতশিল্পী পরিষদের সহ-সভাপতি এম এ মান্নান, সাধারণ সম্পাদক সুজিত মোস্তফা প্রমুখ। এরপর রাত প্রায় দশটা পর্যন্ত একটানা চলে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কণ্ঠে নজরুলের গান, কবিতা আবৃত্তি এবং গানের সাথে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা। ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, খায়রুল আনাম শাকিল, নীনা তাপসী খান, ইয়াসমিন মুশতারী, শাহীন সামাদ, নাশিদ কামাল, ডালিয়া নওশিন, এম এ মান্নান, সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ শিল্পীরা সত্যিই ছুটির দিনে শ্রোতাদের অন্যরকম মুহূর্ত উপহার দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ