শুক্রবার ২৭ মে ২০১১
Online Edition

শ্রীমঙ্গলে আনারস ও কাঁঠালের বাজার জমে উঠেছে

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : মওসুমী ফল আনারস ও কাঁঠালের বাজার জমে উঠেছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলে মওসুমী ফলের পাইকারি বাজার লক্ষণীয়। পাহাড় ও বাগান পরিবেষ্টিত শ্রীমঙ্গল অতীতেও দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিল। শ্রীমঙ্গলের আনারসের জুড়ি নেই গোটা বাংলাদেশের কোথাও। দেশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির আনারস জন্মালেও স্বাদ ঘ্রাণের দিক থেকে শ্রীমঙ্গলের আনারস অদ্বিতীয় তা বলাই বাহুল্য। শ্রীমঙ্গলে আনারসের চাষ দীর্ঘ প্রাচীন। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয় ৭০-এর দশক থেকে। শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি দুর্গম এলাকার টিলায় আনারসের সারি সারি বাগান। এসব বাগান থেকে মওসুম ছাড়াও সারা বছর আনারস উৎপাদিত হচ্ছে। তবে ভর মওসুমে আনারসের উৎপাদন হয় বেশি, সাইজও হয় ভাল। আনারস ছাড়া কাঁঠালের অসংখ্য বাগান করা হয়েছে। প্রচুর কাঁঠাল ফলন হওয়ায় মওসুমের শুরুতে হাজার হাজার কাঁঠাল বাজারে আসছে। বাগান মালিকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে। ফলে মধু মাসের মওসুমী ফল কাঁঠাল, আনারস আমের বাজার জমে উঠেছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই শ্রীমঙ্গলের বাজারে হাজার হাজার কাঁঠাল ও আনারস আসতে শুরু করে। তবে এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে কাঁঠালের বাজার। এখান থেকে প্রতিদিন, ট্রাক, পিক-আপ আর ভ্যান ভর্তি করে কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন। ভোর থেকে অর্ধরাত পর্যন্ত কাঁঠালের খুচরা বাজার শহরের পুরান বাজার এলাকায় খদ্দের থাকে অসংখ্যক। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের পুরান বাজার, নতুনবাজার এলাকার আড়ত ছাড়াও খোলা বাজারে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল কেনাবেচা হচ্ছে। আনারস আর চায়ের রাজধানী হলেও শ্রীমঙ্গলের উৎপাদিত কাঁঠাল মৌলভীবাজার, শেরপুর, মোকামবাজার, সরকারবাজার, তাজপুর, বিয়ানিবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাকভর্তি করে পাইকারি ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন। কাঁঠালের বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের বাগানগুলোতে কাঁঠালের উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বছরের মতো মধু মাসের ফল কাঁঠাল ক্রয় করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা শ্রীমঙ্গলে আসছেন। সকাল ৬টা থেকে পাহাড়ি এলাকার কাঁঠালের বাগান থেকে জীপ, ঠেলা ও সাইকেলে করে কাঁঠাল নিয়ে আসে বিক্রেতারা। বাগান মালিকরাও নিজ উদ্যোগে কাঁঠাল প্রতিদিন বাজারে নিয়ে আসছেন। চলতি এক সপ্তাহ জমে উঠেছে কাঁঠালের বাজার। বাগান মালিকদের মতে শ্রীমঙ্গলের প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁঠালের বাগানে পর্যাপ্ত ফল এসেছে। অন্যান্য বছর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল শ্রীমঙ্গলের বাজারে আসতো। এবার ভারতের কাঁঠাল না আসলেও কোন সমস্যা নেই। বলা যায় রেকর্ড পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। বর্তমান কাঁঠালের বাজারে ১০ টাকা থেকে ২শ' টাকা পর্যন্ত দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে দেখা যায়। সাধারণ কাঠালের পাইকারি বাজার ভোর ৬টা থেকে দুপুরের মধ্যে শেষ হলেও খুচরা বাজার থাকছে অর্ধরাত পর্যন্ত। খুচরা বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়। শ্রীমঙ্গলে কাঁঠালের মওসুম পাওয়া যাবে আরও ৩ মাস পর্যন্ত। তবে পর্যাপ্ত ফল কেনাবেচার এখনই উপযুক্ত সময়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ