ঢাকা, শুক্রবার ২২ জুলাই ২০১১, ৭ শ্রাবণ ১৪১৮, ১৯ শাবান ১৪৩২
Online Edition

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০০৯ ঘোষণা || প্রধানমন্ত্রী হস্তান্তর করবেন কাল

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ চার বছরের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার-২০০৯ ঘোষণা করেছে সরকার। সর্বমোট ২৬ ক্যাটাগরিতে ২৮ জনকে এ পুরষ্কার দেয়া হচ্ছে। ২০০৯ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মনোনীত হয়েছে ‘মনপুরা'। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার যুগ্মভাবে চঞ্চল চৌধুরী (মনপুরা) ও ফেরদৌস (গঙ্গাঁযাত্রা) এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী সাদিকা পারভিন পপি (গঙ্গাঁযাত্রা)। আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের কাছে এই পুরষ্কার হস্তান্তর করবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, যুগ্মসচিব সুলতানুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হারুন-উর-রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকার ২০০৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি মনোনয়নের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট জুরিবোর্ড গঠন করে। জুরিবোর্ড আহবানের প্রেক্ষিতে ২৪টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। এসব চলচ্চিত্র মূল্যায়ন পূর্বক জুরিবোর্ডের সুপারিশের প্রেক্ষিতে সরকার ২৬টি ক্যাটাগরিতে ২৮জন ব্যক্তিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার-২০০৯ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন অভিনেত্রী সুলতানা জামান। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে এ পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু প্রযোজিত ‘মনপুরা'। ব্যবসাসফল এ ছবির চিত্রনাট্য লিখে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। মনপুরায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। একই ছবির খলনায়ক মামুনূর রশীদও পেয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। এ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরষ্কারও পাচ্ছেন যুগ্মভাবে চন্দনা মজুমদার ও কৃষ্ণকলি।

২০০৯ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক মনোনীত হয়েছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড তার ‘গঙ্গাযাত্রা) চলচ্চিত্রের জন্য। তিনি একই সাথে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ভিন্নধারার চলচ্চিত্র গঙ্গাঁযাত্রায় অভিনয় করে চঞ্চল চৌধুরীর পাশাপাশি ফেরদৌস শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন পপি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার-২০০৯ এর জন্য অন্যান্য গুণী শিল্পী ও কলাকুশলীরা হলেন শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক আলম খান (এবাদত), শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক তানজিল (আমার প্রাণের প্রিয়া), পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু (বৃত্তের বাইরে), পার্শব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নিপুন (চাঁদের মতো বউ), শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান (মন বসে না পড়ার টেবিলে), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী সৈয়দা অহিদা সাবরীনা (গঙ্গাঁযাত্রা), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরষ্কার জারকান (প্রিয়তমেষু), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা মুজতবা সউদ (চাঁদের মত বউ), আলাদাভাবে শ্রেষ্ঠ গায়ক ও সুরকার কুমার বিশ্বজিৎ (স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা), শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল (স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (রঙ্গীন) মাহফুজুর রহমান খান (বৃত্তের বাইরে), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক সুজন মাহমুদ (বৃত্তের বাইরে), শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক মো. কলমতর (গঙ্গাঁযাত্রা), শ্রেষ্ঠ মেকাপম্যান খলিলুর রহমান (গঙ্গাঁযাত্রা) এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জার জন্য দিলীপ সিং।

মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর দেশে ভালো ও সুস্থ ধারার ছবি নির্মিত হয়নি। ভালো ছবি তৈরি না হওয়ায় মানুষ সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। একই কারণে অনেক ছবিই এখন এ ধরনের পুরষ্কারের জন্য আবেদনও করেনি। যারা আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে থেকেই জুরিবোর্ড পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।

আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, আজ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রেষ্ঠ নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরষ্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে একটি করে রেপ্লিকা, পদক, সনদপত্র এবং নগদ অর্থ দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ