ঢাকা, রোববার 27 November 2011, ১৩ অগ্রহাহণ ১৪১৮, ০১ মুহাররম ১৪৩৩
Online Edition

পশ্চিমা দুমুখো নীতির ধোঁকাবাজি আরব জনগণ আর মানতে রাজি নন

২০১০ সালের শেষ ও ২০১১ সালের শুরুকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রান্তিকাল মনে করেন বহু গবেষক ও বিদগ্ধ ব্যক্তি। এই সময়টিতে অঞ্চলের দেশগুলোয় চলমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন প্রণালী প্রবর্তনের দাবিতে জনগণের প্রবল আন্দোলন লক্ষ্য করা যায়। দেখা দেয় অস্থিতিশীলতা। বিশেষত উত্তরাধিকার শাসিত প্রজাতন্ত্রগুলোয়। ঐসব অঞ্চলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ও দেশের ভবিষ্যত নিরূপণে তাদের বক্তব্য ও ভূমিকার প্রতিফলন দেখার জন্য জনগণ আন্দোলনে নামেন। জনগণ দেশ পরিচালনা পদ্ধতিতে সংস্কার দেখতে চান। তারা চান জনগণের মর্যাদা আবার বহাল হোক।

পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া বয়েছে আরব বিশ্বে। আন্দোলনের অবিশ্বাস্য প্রভাব প্রতিক্রিয়া দেখে জনসাধারণ বুঝতে পেরেছেন এত বড় সব ঘটনার পেছনে নিশ্চয়ই বড় কারণ রয়েছে-এতসব কান্ড অকারণ ঘটে যাচ্ছে না। পুরো ব্যাপারে বাইরের হাত তারা লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু জানের তোয়াক্কা না করে তাদের লক্ষ্য করে উঁচিয়ে ধরা মেশিনগানের সামনে রাস্তায় তারা বিক্ষোভে নেমেছেন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শাসকদের একের পর এক মারাত্মক গণবিরোধী পদক্ষেপের কারণে। শুধু বাইরের উস্কানিতে নয়।

আরব গণঅভ্যুদয় অনেককে বিস্মিত করেছে। কেউ কেউ ভেবেছেন দেশগুলোয় উন্নয়নের অভাবের কারণে গণআন্দোলন শুরু হয়েছে। কারোর মতে ক্ষমতা অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভুত থাকার কারণে এই আন্দোলন। দুর্নীতি ও রাজনীতির অাঁতাত জনগণের অসহ্য হয়ে উঠেছে কিছু লোক এমনও ভেবেছেন। অঞ্চলে শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব বেশি উন্নতি করেছে। যার ফলে জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। তাই এই আন্দোলন। এমনও ভাবা হয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের স্বেচ্ছাচারী শাসকরা মার্কিন নেক নজর হয়তো খুইয়ে বসেছেন। পশ্চিম ও আরব জগতের মধ্যকার সম্পর্কে ভবিষ্যতে সমস্যা দেখা দেবে-এই বিষয়টি অনেকের দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে। কিন্তু সব কথার ওপরের কথা হচ্ছে দেশের কল্যাণ কামনায় জনগণের পরিবর্তন দেখতে চান। আরব জনসাধারণ পশ্চিমা আদর্শবাদের কথা এবং পশ্চিমের দুমুখো নীতি আর বরদাশত করতে রাজি নন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতিতে জনগণ নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। নিরাপত্তার অভাবেও তারা ভুগছেন। পুরো ঘটনায় ষড়যন্ত্রের গন্ধও অনেকে টের পাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, মানবাধিকার বক্ষার ধুয়া তুলে পশ্চিমারা আরব অঞ্চলকে টুকরো টুকরো করবে এবং এলাকার সম্পদ লুট করে নেবার সুযোগ করে নেবে। বাহানার অভাব পশ্চিমাদের হবে না। পারমাণবিক বিস্তৃতি ঠেকানোর কথা বলেও অঞ্চলে পশ্চিমারা জেঁকে বসতে পারে। আরব পরিস্থিতিকে বিপদমুক্ত দেখতে পাচ্ছেন না অনেকে।

ইরাকের ও তার পর লিবিয়ার অভিজ্ঞতায় তারা সমৃদ্ধ হয়েছেন। সুদানকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র তারা দেখেছেন। সামনে সিরিয়ার পালা। জনগণের নির্বিবাদ সিদ্ধান্ত হচ্ছেন এই যে, এমন বিক্ষোভের জোয়ারে আরব জগতের ভেসে যাওয়ার কোন কারণ ছিল না। কিন্তু অশান্তি ও অস্থিতিশীলতায় আরব বিশ্বকে আজ ভুগতে হচ্ছে এই কারণে যে, তারা অভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় শক্তিহীন তাদের স্বেচ্ছাচারী শাসকদের কারণে এবং খুব দুঃখ নিয়ে তারা দেখে যাচ্ছেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণ্যমান্যরা আরব স্বেচ্ছাতন্ত্রীদের মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে।

লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও সুদানে মানবাধিকার লঙ্ঘন রুখতে পশ্চিমাদের তৎপর দেখা গেছে ও যাচ্ছে। কিন্তু ফিলিস্তিনী মানবাধিকার লঙ্ঘনে ইসরাইলের বর্বর তৎপরতায় পশ্চিমাদের উচ্চবাচ্য নেই। ইরাকের আবু গরিবে ও গুয়ান্তানামো বেতে তাদের নিজেদের পাশবিক বর্বরতাকে মার্কিনী ও পশ্চিমারা মানবাধিকারের দৃষ্টিতে দেখেন না। পাশ্চাত্য নিজেদের স্বার্থ বৃদ্ধি সম্বন্ধে সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোথাও পক্ষপাত করে না। আরব অঞ্চলে পাশ্চাত্য স্বার্থের সবচেয়ে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে গেছে আরব একনায়কেরা। কিন্তু শাশ্বত সত্য হচ্ছে দুনিয়া বদলায়। ব্যক্তি, রাষ্ট্র বা সংস্থা কেউই চিরকাল ক্ষমতার মালিকানা দাবি করতে পারে না।

-সূত্র : আরব নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ