ঢাকা, রোববার 27 November 2011, ১৩ অগ্রহাহণ ১৪১৮, ০১ মুহাররম ১৪৩৩
Online Edition

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কায়রোয় গণবিক্ষোভ কাল নির্বাচন

সংগ্রাম ডেস্ক : মিসরের সর্বোচ্চ সামরিক কাউন্সিল জানিয়েছে, তাহরির স্কয়ারে সমবেত জনতা নয়া নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও সোমবারের নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে তাহরির স্কয়ারে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা শুক্রবার জানিয়েছেন, সামরিক সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত স্কয়ার ছাড়বেন না তারা। শুক্রবার তাহরির স্কয়ারেই জুমার নামায আদায় করে লাখ লাখ মানুষ। নামাযে ইমামতি করেন শেখ মাজাহার শাহিন নামের এক ধর্মীয় নেতা। উল্লেখ্য, শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে যোগ দেন আন্তর্জাতিক আণবিক কমিশন আইএইএএর সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আল-বারাদি।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জানজুরিকে নিয়োগ দেয় মিসরের সামরিক পরিষদ। রাতে এ খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আন্দোলনকারীরা। তারা জানজুরিকে মানে না বলে শ্লোগান দিতে থাকে। জানজুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার খবর প্রচারিত হওয়ার পর স্কয়ারে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বলে সেখান থেকে জানান আল-জাজিরা টেলিভিশনের প্রতিনিধি শিরিন ঢ্যাডরোজ। তিনি জানান, এ খবরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাত্র একদিন পর হাজার হাজার মিসরীয় তাহরির স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সামরিক শাসকদের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন।

নতুন করে এ বিক্ষোভের সূচনার ফলে সোমবার শুরু হতে যাওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে শুক্রবার কোন সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। রাস্তাঘাট ছিল মোটামুটি শান্ত। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার পদত্যাগের পর মিসরের সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ শাসক পরিষদ (এসসিএএফ) বৃহস্পতিবার ৭৮ বছর বয়সী কামাল আল-জানজুরিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক হোসনী মোবারকের শাসনামলে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। মোবারকের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলে পদত্যাগ করেন তিনি। নিয়োগ লাভের পর প্রথম ভাষণে জানজুরি বলেন, গত ৬০ বছর ধরে মন্ত্রিসভা মিসরের প্রেসিডেন্টকে প্রজাতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। তবে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা শাসকদের স্বৈরাচারী করে তোলে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ বলেন, আমি মনে করি, তার সময়ে তিনি জনপ্রিয় এবং সফল ছিলেন। সে সময় তিনি ভাল করেছেন। কিন্তু এখন সময়টা তার নয়।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, নিয়োগের খবর প্রচারিত হওয়ার পর হাজার হাজার প্রতিবাদকারী মন্ত্রিসভার অফিসের সামনে জড়ো হয় জানজুরিকে রুখে দেবার জন্য। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘সেনা শাসন দূর হও' বলে শ্লোগান দিতে থাকে। গত কয়েকদিনে তাহরির স্কয়ারের আশপাশ ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৪১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ।

কয়েকদিনে এসব হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ সেনা কাউন্সিল। নিহতদের দেশপ্রেমিক ও শহীদ উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সেনা কাউন্সিল। সেই সঙ্গে শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আগামী ২৮ নবেম্বর থেকে দেশটিতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে তা যথাসময়েই হবে বলে জানিয়েছে সেনা কাউন্সিল। যদিও বিক্ষোভকারী ও বেশ কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন স্থগিত করতে চাপ সৃষ্টি চেষ্টা করছেন।

এদিকে মিসরের সেনা কাউন্সিলকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা ছেড়ে দেবার আহবান জানিয়েছে আমেরিকা। শুক্রবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জে কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভার কাছে দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমেই মিসরের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে।'

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ